‘দম’ ট্রেলার প্রকাশ্যে, ঈদ মুক্তির আগে তুঙ্গে প্রত্যাশা

ঈদে মুক্তির আগে প্রকাশিত ‘দম’ ট্রেলার ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে তুমুল আলোড়ন তুলেছে। বাস্তব ঘটনার অনুপ্রেরণায় তৈরি এই সারভাইভাল ড্রামায় আফরান নিশোর শক্তিশালী উপস্থিতি, গাঢ় ভিজ্যুয়াল টোন এবং আবেগঘন গল্প চলচ্চিত্রপ্রেমীদের প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছে।

Table of Contents

Share Our Blog Now :
Facebook
WhatsApp

ঈদ মানেই উপমহাদেশে বড় পর্দার বড় লড়াই। আর সেই লড়াইয়ে এ বছর শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে উঠে এসেছে বহুল প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র ‘দম’ (Domm)। ছবিটির অফিসিয়াল ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়া, ইউটিউব এবং চলচ্চিত্রপ্রেমীদের আলোচনায় একচেটিয়া দখল নিয়েছে এই নাম। রহস্য, বেঁচে থাকার লড়াই, আবেগ এবং মানবিক সংকট—সব মিলিয়ে ট্রেলারটি এক তীব্র অভিজ্ঞতার ইঙ্গিত দিয়েছে।

টিজার মুক্তির সময় থেকেই ছবিটি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ ট্রেলার প্রকাশের পর সেই কৌতূহল রূপ নিয়েছে প্রত্যাশায়। বিশেষ করে আফরান নিশোর উপস্থিতি, তার সংলাপ বলার ধরন এবং চরিত্রের গভীরতা দর্শকদের দৃষ্টি কেড়েছে। অনেকেই ইতিমধ্যে মন্তব্য করেছেন—এটি তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে শক্তিশালী পারফরম্যান্স হতে পারে।

পরিচালক রেদোয়ান রনির নির্মাণে ছবিটি একটি বাস্তব ঘটনার অনুপ্রেরণায় তৈরি। ফলে গল্পে রয়েছে বাস্তবতার ভার, যা ট্রেলারের প্রতিটি দৃশ্যেই অনুভূত হয়েছে। আলো-আঁধারির ভিজ্যুয়াল, উত্তেজনাপূর্ণ কাট, এবং আবহসংগীত—সব মিলিয়ে একটি শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ তৈরি করেছে।

ট্রেলারের একটি সংলাপ বিশেষভাবে ভাইরাল হয়েছে:
“আমরা জন্মের পর থেকেই শ্বাসের খেলা শুরু হয়। মৃত্যু কাছে এলে সেই শ্বাস ধরে রাখা কঠিন—কিন্তু পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়াও আরও কঠিন।”
এই সংলাপটি ছবির মূল থিম—জীবন ও মৃত্যুর মধ্যবর্তী সংগ্রাম—কে প্রতীকীভাবে তুলে ধরে।


বাস্তব ঘটনার অনুপ্রেরণায় নির্মিত এক তীব্র গল্প

https://www.thedailystar.net/sites/default/files/styles/big_1/public/2026-03/Domm%20First%20Look%20%282%29.jpeg?h=dcc43d70

ট্রেলার দেখেই বোঝা যায়, ‘দম’ শুধুমাত্র একটি থ্রিলার নয়—এটি মানুষের অস্তিত্ব সংকটের গল্প। বাস্তব ঘটনার ভিত্তিতে তৈরি হওয়ায় ছবির প্রতিটি মুহূর্তে রয়েছে এক ধরনের কাঁচা সত্যতা। চরিত্রগুলোকে কেবল কাল্পনিক মনে হয় না; বরং মনে হয় যেন বাস্তব জীবনের মানুষদের গল্প দেখছি।

আফরান নিশোর চরিত্রটি যেন মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকা এক মানুষের প্রতীক। তার চোখের ভাষা, শারীরিক ক্লান্তি, এবং মানসিক টানাপোড়েন—সবকিছু মিলিয়ে ট্রেলারটি দর্শকদের গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। বিশেষ করে স্লো-মোশন শট, নীরবতার ব্যবহার এবং হঠাৎ বিস্ফোরক মুহূর্ত—এই বৈপরীত্য ছবির টোনকে আরও শক্তিশালী করেছে।

পরিচালক রেদোয়ান রনি পূর্বেও শক্তিশালী গল্প বলার জন্য পরিচিত। তবে ‘দম’-এ তিনি আরও পরিণত নির্মাণশৈলী দেখিয়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ক্যামেরার ভাষা, লোকেশন নির্বাচন এবং রঙের ব্যবহার—সবকিছুই গল্পের আবহ তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।

অনেক দর্শক ইতিমধ্যেই এটিকে আন্তর্জাতিক মানের সারভাইভাল ড্রামা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। দক্ষিণ এশিয়ার চলচ্চিত্রে এমন বাস্তবধর্মী থ্রিলার খুব বেশি দেখা যায় না—সেই দিক থেকেও ছবিটি আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।


তারকাদের শক্তিশালী উপস্থিতি: নিশো-পূজা-চঞ্চল এক ফ্রেমে

https://static.toiimg.com/thumb/129328414.jpg?imgsize=23456&photoid=129328414&resizemode=4&width=600

‘দম’-এর অন্যতম বড় আকর্ষণ এর শক্তিশালী কাস্ট। আফরান নিশোর পাশাপাশি ছবিতে রয়েছেন পূজা চেরি, চঞ্চল চৌধুরী এবং ডলি জহুর—যারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ জায়গায় প্রতিষ্ঠিত অভিনেতা।

পূজা চেরি ছবিতে ‘রানি’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ট্রেলারে তার উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে সংযত হলেও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নিজেও আশা প্রকাশ করেছেন যে দর্শকরা তার অভিনয় পছন্দ করবেন। অনেকেই মনে করছেন, এটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং ভূমিকা হতে পারে।

চঞ্চল চৌধুরীর উপস্থিতি ছবিতে অতিরিক্ত গভীরতা যোগ করেছে। তিনি সাধারণত শক্তিশালী চরিত্রে অভিনয়ের জন্য পরিচিত, এবং ট্রেলারে তার সংক্ষিপ্ত উপস্থিতিও তা প্রমাণ করে। অন্যদিকে ডলি জহুরের মতো অভিজ্ঞ অভিনেত্রীর অংশগ্রহণ ছবিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে।

এই চার অভিনেতার সমন্বয় ছবিটিকে শুধুমাত্র স্টার-ড্রিভেন নয়, বরং পারফরম্যান্স-ড্রিভেন করে তুলেছে। দর্শকদের অনেকেই মন্তব্য করছেন—এটি এমন একটি চলচ্চিত্র যেখানে গল্প এবং অভিনয়ই প্রধান নায়ক।


ভিজ্যুয়াল টোন, আবহসংগীত ও নির্মাণশৈলী নিয়ে আলোচনা

ট্রেলারটির আরেকটি বড় শক্তি এর ভিজ্যুয়াল টোন। গাঢ় রঙ, ছায়ার ব্যবহার এবং বাস্তব লোকেশনের অনুভূতি ছবিটিকে এক ধরনের ডকুড্রামা-ধর্মী বাস্তবতা দিয়েছে। মনে হয় যেন ক্যামেরা দূর থেকে একটি বাস্তব ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছে।

আবহসংগীতও অত্যন্ত প্রভাবশালী। নীরবতার পর হঠাৎ উচ্চ শব্দের ব্যবহার, হৃদস্পন্দনের মতো তাল, এবং উত্তেজনাপূর্ণ স্ট্রিং—সব মিলিয়ে দর্শকদের মানসিক চাপ তৈরি করে। এই ধরনের সাউন্ড ডিজাইন সাধারণত আন্তর্জাতিক সারভাইভাল থ্রিলারেই দেখা যায়।

এডিটিং দ্রুত হলেও বিশৃঙ্খল নয়। প্রতিটি কাট গল্পের উত্তেজনা বাড়ানোর জন্য পরিকল্পিত বলে মনে হয়। বিশেষ করে ক্লোজ-আপ শট এবং ওয়াইড শটের ভারসাম্য ছবির স্কেল বোঝাতে সাহায্য করেছে।

অনলাইন দর্শকদের প্রতিক্রিয়ায় দেখা যাচ্ছে—অনেকে ইতিমধ্যেই ছবিটিকে ঈদের অন্যতম সম্ভাবনাময় মুক্তি হিসেবে বিবেচনা করছেন। ইউটিউবে ট্রেলার প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হাজার হাজার মন্তব্য জমা পড়েছে।


প্রযোজনা ও মুক্তি নিয়ে বাড়তি প্রত্যাশা

‘দম’ প্রযোজনা করেছে SVF Alpha-i এবং Chorki—দুটি সংস্থা যাদের নামই এখন মানের প্রতীক। সাম্প্রতিক সময়ে তারা ধারাবাহিকভাবে ভিন্নধর্মী কনটেন্ট উপহার দিয়েছে, ফলে দর্শকদের আস্থা তৈরি হয়েছে।

ঈদে মুক্তি পাওয়া মানেই বড় দর্শকসংখ্যা এবং পারিবারিক দর্শকদের উপস্থিতি। কিন্তু ‘দম’ যে বিষয়বস্তু নিয়ে আসছে, তা সম্ভবত সব বয়সের জন্য নয়। বরং এটি প্রাপ্তবয়স্ক দর্শকদের জন্য তৈরি একটি গভীর এবং তীব্র অভিজ্ঞতা হতে পারে।

চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, যদি ছবিটি ট্রেলারের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারে, তবে এটি বছরের অন্যতম আলোচিত চলচ্চিত্র হয়ে উঠবে।


সব মিলিয়ে ‘দম’ ট্রেলারটি একটি শক্তিশালী সিনেমাটিক অভিজ্ঞতার ইঙ্গিত দিয়েছে। বাস্তব ঘটনার ভিত্তিতে নির্মাণ, শক্তিশালী অভিনয়, গাঢ় ভিজ্যুয়াল টোন এবং আবেগঘন গল্প—এই চার উপাদান ছবিটিকে বিশেষ করে তুলেছে। ঈদ মুক্তির আগে যে আলোড়ন তৈরি হয়েছে, তা প্রমাণ করে দর্শকরা ভিন্নধর্মী গল্প দেখতে প্রস্তুত।

এখন অপেক্ষা শুধু বড় পর্দায় পুরো গল্প দেখার। ট্রেলার যদি ছবির প্রকৃত মানের ইঙ্গিত হয়ে থাকে, তবে ‘দম’ হতে পারে এই ঈদের সবচেয়ে আলোচিত এবং স্মরণীয় মুক্তি।

RELATED Articles :
গভীর রাতে বিএসএফ ও পুলিশের মেগা অপারেশন! মুর্শিদাবাদে বড়সড় চক্রের পর্দাফাঁস, গ্রেফতার ৪
কলকাতা

গভীর রাতে বিএসএফ ও পুলিশের মেগা অপারেশন! মুর্শিদাবাদে বড়সড় চক্রের পর্দাফাঁস, গ্রেফতার ৪

মুর্শিদাবাদের রানিনগরের হরুদাঙ্গায় বিএসএফ ও পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেফতার চার বাংলাদেশি নাগরিক। গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৭৩ নম্বর বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সহযোগিতায় চলে অভিযান। ধৃতদের লালবাগ আদালতে পেশ করা হয়। সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে ফের বাড়ল প্রশাসনিক তৎপরতা।

Read More »
kolkata-kali-puja-2026-complete-guide-famous-pandals-temples
কলকাতা

কলকাতার কালীপুজো ২০২৬: ফটাকেষ্ট থেকে কেওড়াতলা, ঘুরে দেখুন শহরের বিখ্যাত কালীমন্দির ও দর্শনীয় মণ্ডপ, জেনে নিন সম্পূর্ণ গাইড

কালীপুজো ২০২৬-এ কলকাতার বিখ্যাত মণ্ডপ ও ঐতিহাসিক কালীমন্দির ঘুরে দেখার পরিকল্পনা করছেন? ফটাকেষ্ট থেকে কেওড়াতলা, কালিঘাট থেকে দক্ষিণেশ্বর—জেনে নিন পুজোর তারিখ, দর্শনীয় স্থান, যাতায়াতের রুট, বাজি পোড়ানোর নিয়ম এবং নিরাপদে শহর ঘোরার সম্পূর্ণ গাইড।

Read More »
বিনোদন

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির মুকুটে নতুন পালক, কলকাতায় বিশেষ প্রদর্শনীতে বিনোদ কাপরির ‘PYRE’!

আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ১৮টি পুরস্কারজয়ী বিনোদ কাপরির ছবি ‘PYRE’ বিশেষ প্রদর্শনীতে কলকাতায়। উত্তরাখণ্ডের হিমালয় ঘেরা পাহাড়ি গ্রামের এক বৃদ্ধ দম্পতির ভালোবাসা, বার্ধক্য ও নিঃসঙ্গতার গল্প নিয়ে তৈরি এই ছবি ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত।

Read More »
famous-kali-temples-of-kolkata-history
কলকাতা

কলকাতার বিখ্যাত কালীমন্দিরের ইতিহাস: কালীঘাট থেকে দক্ষিণেশ্বর, জানুন মা কালীর জাগ্রত পীঠগুলির অজানা কাহিনি!

কালীঘাট থেকে দক্ষিণেশ্বর, ঠনঠনিয়া থেকে চেতলার ডাকাত কালীবাড়ি—কলকাতার বিখ্যাত কালীমন্দিরগুলির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কয়েকশো বছরের ইতিহাস, শাক্ত ঐতিহ্য, সাধকদের স্মৃতি এবং নানা রহস্যময় লোককথা। জেনে নিন তিলোত্তমার পাঁচ ঐতিহাসিক কালীমন্দিরের অজানা কাহিনি।

Read More »
কালীপুজো, দীপাবলি ও ছটপুজো ২০২৬ উপলক্ষে দূষণ নিয়ন্ত্রণে একাধিক কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বাজি পোড়ানোর সময়সীমা, সবুজ বাজির ব্যবহার, শব্দদূষণের সীমা এবং হাসপাতালের আশপাশে বাজি নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ৭, ৮ ও ৯ নভেম্বর বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু রাখবে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ।
কলকাতা

শব্দবাজি ও দূষণ রুখতে কড়া পদক্ষেপ! কালীপুজো, দীপাবলি ও ছটপুজো ২০২৬-এ সময় বেঁধে দিল রাজ্য, চালু হচ্ছে কন্ট্রোল রুম

কালীপুজো, দীপাবলি ও ছটপুজো ২০২৬ উপলক্ষে দূষণ নিয়ন্ত্রণে একাধিক কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বাজি পোড়ানোর সময়সীমা, সবুজ বাজির ব্যবহার, শব্দদূষণের সীমা এবং হাসপাতালের আশপাশে বাজি নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ৭, ৮ ও ৯ নভেম্বর বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু রাখবে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ।

Read More »
kolkata-kali-puja-history-heritage
কলকাতা

কালীপুজো ও কলকাতার ইতিহাস: কীভাবে এক শহরের পরিচয়ের সঙ্গে মিশে গেলেন মা কালী?

কলকাতা ও কালীপুজোর সম্পর্ক বাংলার ইতিহাস, শাক্তধর্ম এবং নাগরিক সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। কালীঘাট মন্দিরের ঐতিহ্য থেকে আধুনিক আলোকসজ্জার পুজোমণ্ডপ—জেনে নিন কীভাবে মা কালীর আরাধনা তিলোত্তমার সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

Read More »
error: Content is protected !!