বলিউডের বহুল প্রতীক্ষিত অ্যাকশন-ড্রামা ‘ধুরন্ধর’ আন্তর্জাতিক বাজারে মুক্তির আগেই আশাব্যঞ্জক গতি পাচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাজ্য এবং উত্তর আমেরিকার প্রেক্ষাগৃহে ছবিটির অগ্রিম বুকিং শিল্পমহলে ইতিবাচক বার্তা পাঠিয়েছে। মুক্তির সপ্তাহ শুরুর আগেই এমন গতি সাম্প্রতিক সময়ে খুব কম ভারতীয় ছবির ক্ষেত্রে দেখা গেছে।
ট্রেড অ্যানালিস্টদের মতে, বিদেশি দর্শকদের মধ্যে ভারতীয় উচ্চ-অকটেন অ্যাকশন ও চরিত্রনির্ভর গল্পের চাহিদা এখন আগের চেয়ে বেশি। ‘ধুরন্ধর’-এর ট্রেলার মুক্তি পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা, ভিজ্যুয়াল স্টাইল, গল্পের গঠন এবং প্রধান অভিনেতার কনটিনিউয়াস ফ্যানবেস—সব মিলিয়ে ছবিটি আন্তর্জাতিক দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।
শুধু তাই নয়, OTT কনজাম্পশনের যুগেও প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে বড় স্ক্রিনে ছবি দেখার প্রবণতা বিদেশি ভারতীয় প্রবাসী ও স্থানীয় দর্শকদের মধ্যে বাড়ছে। সেই ঢেউ ধরেই ‘ধুরন্ধর’ মুক্তির আগে থেকেই বক্স অফিসের শুরুটা শক্তিশালী করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের অনুমান, বিদেশি বাজারে ছবি মুক্তির প্রথম সপ্তাহে উচ্চ-দ্বিগুণ কোটি আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এই আগাম সাফল্য ভারতীয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির বছরশেষের সংগ্রহে বাড়তি জোর আনতে পারে।
বিদেশি বাজারে অগ্রিম বুকিংয়ে ইতিবাচক গতি

মধ্যপ্রাচ্যের UAE অঞ্চলে ছবি মুক্তির আগের তিন দিনে অগ্রিম বুকিং উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ৩০–৪০% স্লট ফিল-আপ লক্ষ্য করা গেছে। সাধারণত ভারতীয় ছবির ক্ষেত্রে এই অঞ্চলটি শক্তিশালী হলেও ‘ধুরন্ধর’ যে স্তরের রেসপন্স পাচ্ছে তা বেশ নজরকাড়া।
যুক্তরাজ্যে মূলধারার থিয়েটার চেইনগুলিতে অগ্রিম টিকিট বিক্রয় প্রত্যাশার তুলনায় দ্রুতগতিতে বাড়ছে। অনেক হলে সন্ধ্যার প্রাইম শো প্রায় পূর্ণ। নর্থ আমেরিকায় বিশেষ করে নিউ জার্সি, টরোন্টো, হিউস্টন এবং সান ফ্রান্সিসকোতে প্রবাসী ভারতীয় দর্শকরা বড় পরিমাণে বুকিং করছেন।
ট্রেড পর্যবেক্ষকদের মতে, ছবি মুক্তির আগেই এই বাজারগুলোতে এমন অন্তত ২০–৩০% অতিরিক্ত আগ্রহ এটি নির্দেশ করে যে ‘ধুরন্ধর’ প্রবাসী দর্শকের মধ্যে ‘উইকেন্ড ম্যান্ডেট’ হিসেবে ধরা পড়েছে। বড় বাজেট, নতুন স্টান্ট ডিজাইন এবং প্রচারের ধরণ—সব মিলিয়ে ছবিটি নিজস্ব আলো তৈরি করেছে।
ট্রেলারের প্রভাব ও সোশ্যাল মিডিয়া আলোচনা

ছবির ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই এক্স (টুইটার), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবে লাইক, কমেন্ট এবং শেয়ারের বন্যা বইতে শুরু করেছে। বিশেষ করে প্রধান অভিনেতার হাই-ইন্টেন্সিটি অ্যাকশন সিকোয়েন্স এবং সংলাপবাজি তরুণ দর্শকের মধ্যে তুমুল সাড়া ফেলেছে।
ট্রেলার রিলিজের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ইউটিউবে ভিউ সংখ্যা ইতিমধ্যেই কয়েক মিলিয়ন পার করেছে। ট্রেলার রিভিউ চ্যানেলগুলোতে প্রশংসার পাশাপাশি ‘ধুরন্ধর’ শব্দটি ট্রেন্ডিং কিওয়ার্ড হিসেবে একাধিক অঞ্চলের সার্চে উঠে এসেছে।
সোশ্যাল মিডিয়া অ্যানালিটিক্স প্ল্যাটফর্মগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ছবিটি সম্পর্কিত পোস্টগুলিতে গত পাঁচ দিনে এনগেজমেন্ট রেট উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিদেশি দর্শকরা মন্তব্য করছেন—”ফিরে এল সেই মিসিং বলিউড অ্যাকশন ভাইব”, “থিয়েটারে দেখতেই হবে”—যা বিদেশি অগ্রিম বুকিংয়ের বৃদ্ধিকে ব্যাখ্যা করেই কিছুটা।
ট্রেড সার্কিটে প্রত্যাশা—প্রথম সপ্তাহেই কি বড় রেকর্ড?

ট্রেড অ্যানালিস্টদের একাংশ মনে করছেন, ছবির আন্তর্জাতিক বুকিংয়ের ট্রেন্ড নজরদারি করলে দেখা যাচ্ছে ‘ধুরন্ধর’ প্রথম সপ্তাহেই উচ্চ সংগ্রহের তালিকায় প্রবেশ করতে পারে। এমনকি, যদি মুখে-মুখে প্রচার ইতিবাচক থাকে, তবে দ্বিতীয় উইকেন্ডেও টিকিট বিক্রয় স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ছবির ঘরানা—অ্যাকশন-ড্রামা—আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে সাধারণত শক্তিশালী ওপেনিং এনে দেয়। তাছাড়া, প্রধান তারকার আগের কয়েকটি ছবির আন্তর্জাতিক সাফল্য এই ছবিকে অতিরিক্ত সুবিধা দিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা—এসব গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে যদি ‘ধুরন্ধর’ ধারাবাহিক সংগ্রহ ধরে রাখতে পারে, তবে এটি সহজেই বছরশেষের আন্তর্জাতিক বক্স অফিস তালিকায় সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছাতে পারে।
‘ধুরন্ধর’-এর বিদেশি অগ্রিম বুকিং যে ইতিবাচক গতি পেয়েছে, তা বলিউড ইন্ডাস্ট্রির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। বড় বাজেটের এই অ্যাকশন-ড্রামা যদি প্রত্যাশামতো কন্টেন্ট ডেলিভার করে, তবে ছবি আন্তর্জাতিক বাজারে এক নতুন দিগন্ত ছুঁতে পারে। নতুন বছর আসার আগেই বলিউডকে বিশ্ববাজারে শক্ত অবস্থানে তুলতে পারে ‘ধুরন্ধর’। শিল্পমহলের চোখ এখন মুক্তির দিনে—বিদেশি বাজারে প্রথম দিনের সংগ্রহই অনেকটা ভবিষ্যতের রাস্তা দেখাবে।






