ভারতীয় সিনেমার কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্র আর নেই। তাঁর ৯০তম জন্মদিনের মাত্র কয়েকদিন আগে এই প্রয়াণ চলচ্চিত্রপ্রেমী, সহকর্মী এবং অসংখ্য ভক্তের হৃদয়ে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। হিন্দি চলচ্চিত্র শিল্পে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে রোম্যান্স, অ্যাকশন ও ড্রামার এক অমলিন অধ্যায় গড়ে তুলেছিলেন তিনি।
এই প্রতিবেদনে আমরা তুলে ধরছি তাঁর জীবন, কর্ম, অবদান এবং তাঁর চলে যাওয়ার পর সৃষ্ট শূন্যতার কথা।
ধর্মেন্দ্রর কর্মজীবনের সুবর্ণ অধ্যায়
ধর্মেন্দ্র শুধু একজন অভিনেতা নন; তিনি ছিলেন এক প্রজন্মের নায়ক এবং ভারতীয় সিনেমার ‘হি-ম্যান’।
১৯৬০-এর দশকে হিন্দি চলচ্চিত্রে পা রেখেই তিনি দর্শকদের মন জয় করেন তাঁর তাজা উপস্থিতি, আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব এবং স্বাভাবিক অভিনয়শৈলীতে।
“শোলে”, “চুপকে চুপকে”, “ধরম ভীর”, “সত্য কাম”— প্রতিটি যুগেই তিনি এমন চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন যা আজও সমান জনপ্রিয়।
তাঁর অ্যাকশন ও রোম্যান্স—দুই ধারাতেই সমান দক্ষতা তাঁকে অনন্য করে তুলেছে। দর্শকদের কাছে তিনি ছিলেন একদিকে পাঞ্জাবি মাটির সরলতা, অন্যদিকে পর্দায় শক্তিশালী উপস্থিতি—এ দুইয়ের অবিচ্ছেদ্য মিশেল।

অভিনয়ের বাইরে: ব্যক্তিজীবন, সংসার ও মানবিক মুখ
ধর্মেন্দ্রর ব্যক্তিজীবনও এক আলাদা গল্প—সংগ্রাম, ভালোবাসা এবং পরিবারের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতার কাহিনি।
তিনি দুই ছেলে—সানি দেওল ও ববি দেওল—কে বলিউডে প্রতিষ্ঠিত হতে অনন্য ভূমিকা পালন করেন। পাশাপাশি নিজের রাজনৈতিক জীবনেও দায়িত্বশীল ছিলেন, যদিও তিনি প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, অভিনয়ের সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্কই ছিল গভীরতম।
সবার কাছে ধর্মেন্দ্র ছিলেন বন্ধুভাবাপন্ন, নম্র ও মাটির মানুষ। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে সহকর্মী থেকে শুরু করে টেকনিশিয়ান—সবার সঙ্গেই তাঁর আচরণ ছিল আন্তরিক।
ক্যারিয়ারের নানা সাফল্য সত্ত্বেও কখনো অহংকার তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি।

শেষ কয়েক বছর ও প্রয়াণ: এক অধ্যায়ের ইতি
গত কয়েক বছর ধরেই তাঁর শারীরিক অবস্থা নাজুক ছিল। কিন্তু তবুও সোশ্যাল মিডিয়ায় হালকা মেজাজে, উষ্ণ বার্তায় ভক্তদের সঙ্গে সংযোগ রেখেছিলেন।
ঠিক ৯০তম জন্মদিনের আগেই তাঁর প্রয়াণ চলচ্চিত্র জগতকে স্তব্ধ করে দেয়।
অনেকেই বলছেন—তিনি শুধু একজন অভিনেতা ছিলেন না; ছিলেন একজন আবেগ, একটি সময়, একটি স্মৃতির ভান্ডার।
বলিউড তারকা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থেকে শুরু করে নতুন প্রজন্মের অভিনেতারাও তাঁকে শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছেন।
অগণিত ভক্তদের মতে—ধর্মেন্দ্রর চলে যাওয়া মানে হিন্দি সিনেমার সোনালি যুগের দরজা আরও একটু বন্ধ হয়ে যাওয়া।
ধর্মেন্দ্র: ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এক চিরকালীন নাম
যে ধরনের বহুমুখী অভিনয়, সৌম্য ব্যক্তিত্ব ও শক্তিমান পর্দা-প্রেজেন্স ধর্মেন্দ্রর ছিল—তা বিরল। তাঁর মতো অভিনেতা হয়তো আবারও আসবেন, কিন্তু তাঁর মতো ‘ধর্মেন্দ্র’ আর কখনও হবে না।
হিন্দি চলচ্চিত্র ইতিহাসে তাঁর অবদান—
- ৩০০+ সিনেমা
- ৫০+ বছরের ক্যারিয়ার
- কালজয়ী সংলাপ, দৃশ্য ও চরিত্র
- ভারতীয় চলচ্চিত্রে অ্যাকশন হিরোর নতুন ধারা
তিনি যে উত্তরাধিকার রেখে গেলেন—তা সময়ের সঙ্গে আরও মূল্যবান হয়ে উঠবে।

ধর্মেন্দ্র আমাদের ছেড়ে গেলেও তাঁর সিনেমা, তাঁর হাসি, তাঁর পর্দা জাদু চিরদিন রয়ে যাবে।
তাঁর জীবন যেন আমাদের শিখিয়ে দেয়—খ্যাতি নয়, মানুষের মন জেতাই সবচেয়ে বড় সাফল্য।
আপনি কি ধর্মেন্দ্রর কোনো বিশেষ সিনেমার সঙ্গে আবেগগতভাবে যুক্ত? নিচে কমেন্ট করে আপনার স্মৃতি শেয়ার করুন এবং এই প্রতিবেদনটি অন্য ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিন।






