২০২৬ শুরু হতেই ভারতের বিনোদন দুনিয়ায় যে নামটি আবারও শিরোনামে উঠে এল, তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। দীপিকা পাড়ুকোন—যিনি টানা ১৪তম বারের মতো ‘দেশের নম্বর ১ নায়িকা’ হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন ‘মুড অফ দ্য নেশন’ বায়-অ্যানুয়াল পোল-এ। এমন এক সময়ে এই স্বীকৃতি, যখন গত বছর তাঁর কোনও মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ছিল না—তবু আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন একমাত্র তিনিই।
এই পোলের ফলাফল আরও একবার প্রমাণ করে দিল, কিছু তারকা কেবল জনপ্রিয় নন—তাঁরা একেকটি প্রতিষ্ঠান। ঠিক যেমন অমিতাভ বচ্চন। আজকের ভারতের জনমতের বিচারে, অমিতাভ বচ্চন এবং দীপিকা পাড়ুকোন যেন সেই দুই অটল স্তম্ভ, যাঁদের অবস্থান নড়ানো কার্যত অসম্ভব।
২০২৫ সালে নতুন ছবি না থাকলেও, দীপিকার নাম ঘিরে আলোচনা, বিতর্ক এবং সামাজিক প্রতিক্রিয়া ছিল অভূতপূর্ব। যার প্রতিফলন মিলেছে পোলের সংখ্যাতত্ত্বেও—গত বছরের ৮.২ রেটিং লাফিয়ে উঠে হয়েছে ১০.৭। এই পরিসংখ্যান শুধুই জনপ্রিয়তার নয়, বরং সাংস্কৃতিক প্রভাবের শক্ত প্রমাণ।
এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন শাহরুখ খান, যিনি এখনও দেশের আবেগের প্রতীক। তবে নারী অভিনেত্রীদের মধ্যে শীর্ষে দীপিকার আধিপত্য এতটাই দৃঢ় যে, পরবর্তী স্থানগুলির ওঠানামা সত্ত্বেও তাঁর অবস্থান প্রশ্নাতীত।
‘মুড অফ দ্য নেশন’ পোল এবং অটল জনপ্রিয়তার রাজনীতি
‘মুড অফ দ্য নেশন’ পোল শুধুমাত্র স্টারডম মাপে না—এটি মাপে জনমনের নাড়ি। কে কথা বলেন দেশের হয়ে, কে প্রতিনিধিত্ব করেন সময়ের ভাবনাকে—এই পোল তারই প্রতিফলন। সেখানেই টানা ১৪ বার শীর্ষে থাকা মানে নিছক জনপ্রিয়তা নয়, এক ধরনের ঐতিহাসিক আধিপত্য।
অমিতাভ বচ্চন এবং দীপিকা পাড়ুকোন—এই দুই নাম আজ ভারতীয় সংস্কৃতিতে ‘অচল দুর্গ’-এর মতো। প্রজন্ম বদলেছে, মাধ্যম বদলেছে, দর্শকের রুচি বদলেছে—তবু তাঁদের অবস্থান অক্ষত। পুরুষ বিভাগে অমিতাভ বচ্চনের পরেই রয়েছেন শাহরুখ খান, যা প্রমাণ করে যে আবেগ, বিশ্বাস এবং ধারাবাহিকতা আজও তারকাখ্যাতির মূল স্তম্ভ।
দীপিকার ক্ষেত্রে এই জনপ্রিয়তা আরও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ তিনি এমন এক সময়ে শীর্ষে, যখন তাঁর সমসাময়িক বহু অভিনেত্রী একাধিক ছবি নিয়ে সক্রিয়। তবু জনআলোচনায়, মিডিয়া কথোপকথনে এবং সামাজিক প্রতিক্রিয়ায় দীপিকাই কেন্দ্রবিন্দু।
এই পোলের ফলাফল দেখায়—স্টার পাওয়ার এখন আর কেবল বক্স অফিস সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। এটি নির্ধারিত হয় সাংস্কৃতিক প্রভাব, ব্যক্তিত্ব, বক্তব্য এবং সময়ের সঙ্গে সংযোগের মাধ্যমে।

দক্ষিণ থেকে হিন্দি: নারী তারকাদের উত্থান এবং তালিকার নতুন সমীকরণ
চলতি পোলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল দক্ষিণী সিনেমা থেকে উঠে আসা অভিনেত্রীদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব। রশ্মিকা মান্দানা, সাই পল্লবী এবং নয়নতারা—এই তিনজনই একাধিক ভাষায় কাজ করে জাতীয় স্তরে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করেছেন।
বিশেষ করে হিন্দি ছবিতে সাম্প্রতিক পদচারণা তাঁদের পরিচিতিকে আরও বিস্তৃত করেছে। এর ফলেই পোল তালিকায় তাঁদের র্যাঙ্ক উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। এই প্রবণতা স্পষ্ট করে দেয়—ভারতীয় সিনেমা এখন আর ভাষাভিত্তিক নয়, বরং কনটেন্ট ও ব্যক্তিত্বকেন্দ্রিক।
চমকপ্রদ সংযোজন হিসেবে তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন কঙ্গনা রানাউত। বিতর্ক, মতাদর্শ এবং স্পষ্ট বক্তব্য—সব মিলিয়ে কঙ্গনা বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রে। তাঁর এই প্রত্যাবর্তন প্রমাণ করে, শক্ত অবস্থান নেওয়া তারকারা আজও জনমনে প্রভাব ফেলতে সক্ষম।
তবুও, এই ওঠানামার মাঝেও দীপিকার শীর্ষস্থান অক্ষুণ্ণ। যা বোঝায়—তিনি কেবল প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নন, তিনি নিজেই একটি আলাদা শ্রেণি।
মুক্তি ছাড়াই আধিপত্য: ২০২৫ সালে দীপিকার অনুপস্থিত উপস্থিতি
সাধারণত তারকাদের জনপ্রিয়তা নির্ভর করে তাঁদের সাম্প্রতিক মুক্তির উপর। কিন্তু দীপিকা পাড়ুকোন সেই ব্যতিক্রম, যিনি ছবি ছাড়াই বছরের সবচেয়ে আলোচিত তারকা। ২০২৫ সালে তাঁর কোনও নতুন সিনেমা না থাকা সত্ত্বেও, তিনি ছিলেন সংবাদ, সোশ্যাল মিডিয়া এবং জনআলোচনার শীর্ষে।
কখনও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, কখনও পেশাগত অবস্থান, আবার কখনও শিল্প ও সমাজ নিয়ে মতামত—সব মিলিয়ে দীপিকা ছিলেন ‘গেম-চেঞ্জার’। পোলের রেটিং বৃদ্ধিই তার প্রমাণ।
এই প্রবণতা দেখায় যে আধুনিক তারকাখ্যাতি এখন বহুস্তরীয়। অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিত্ব, সামাজিক উপস্থিতি এবং দীর্ঘমেয়াদি বিশ্বাসযোগ্যতাই নির্ধারণ করছে কার অবস্থান কতটা শক্ত।
সামনে ‘কিং’ এবং অতলির মেগা প্রজেক্ট: ২০২৬–এর অপেক্ষা
জনপ্রিয়তার এই শীর্ষবিন্দুতে দাঁড়িয়েই ২০২৬ সালে দীপিকার সামনে অপেক্ষা করছে দুইটি বিশাল প্রকল্প। একটি হল ‘কিং’, যেখানে তিনি আবারও শাহরুখ খান-এর সঙ্গে জুটি বাঁধছেন। এই ছবিকে ইতিমধ্যেই দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রজেক্ট হিসেবে ধরা হচ্ছে।
অন্যদিকে, দক্ষিণের সফল পরিচালক অতলি-র পরবর্তী ছবিতে দীপিকার বিপরীতে রয়েছেন আল্লু অর্জুন। বলিউড ও দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রির এই মেলবন্ধন নিয়ে প্রত্যাশা তুঙ্গে।
এই দুই প্রজেক্ট শুধু বক্স অফিস নয়, ভারতীয় সিনেমার বাজার ও দর্শক মানসিকতাকেও নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারে। আর সেই কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছেন দীপিকা পাড়ুকোন।
২০২৬-এর শুরুতেই টানা ১৪তম বারের মতো ‘দেশের নম্বর ১ নায়িকা’ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া নিছক কাকতাল নয়। এটি ধারাবাহিকতা, বিশ্বাস এবং সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলার ফল।
অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে একই সারিতে দাঁড়িয়ে দীপিকা পাড়ুকোন আজ ভারতীয় বিনোদনের এক অটল নাম। তালিকার ওঠানামা, নতুন মুখের উত্থান—সবকিছুর মাঝেও তাঁর অবস্থান অক্ষুণ্ণ।
এই স্বীকৃতি জানিয়ে দেয়—দীপিকা পাড়ুকোন কেবল বর্তমান নন, তিনি এই সময়ের ইতিহাস।






