বহুদিন ধরে নানা মহলে আলোচনা চলছে—“সিনেমা কি তবে শেষ হয়ে যাচ্ছে?” স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের উত্থান থেকে শুরু করে দর্শকের অভ্যাস বদল—সব মিলিয়ে এই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। ঠিক এমন সময়েই প্রবীণ চলচ্চিত্রকার রমেশ সিপ্পি স্পষ্ট ও শক্তিশালী বার্তা দিলেন—
“সিনেমা মোটেও মৃত নয়, বরং আগের চেয়ে অনেক বেশি জীবন্ত ও প্রাণবন্ত।”
তাঁর এই বক্তব্য শুধু আশাবাদই তৈরি করেনি, বরং ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পের বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যৎ এবং দর্শকের মনস্তত্ত্ব সম্পর্কেও নতুন আলো ফেলেছে।
স্ট্রিমিং আসার পরেও সিনেমার শক্তি অটুট
রমেশ সিপ্পি মনে করেন, OTT প্ল্যাটফর্ম বাড়লেও সিনেমার মূল আকর্ষণ কখনোই কমবে না। কারণ—
- বড় পর্দার অভিজ্ঞতা আলাদা
- সামাজিকভাবে সিনেমা দেখা এক ধরনের উদযাপন
- উচ্চমানের ভিজ্যুয়াল ও সাউন্ড এখনো হলের জন্যই তৈরি হয়
তিনি বলেন, “মানুষের অভ্যাস পাল্টায়, কিন্তু সিনেমার ম্যাজিক কখনো হারায় না।”
এই বক্তব্যের পেছনে যুক্তিও রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হিন্দি, বাংলা, দক্ষিণী ভাষার অসংখ্য চলচ্চিত্র—বিশেষ করে অ্যাকশন, থ্রিলার ও পিরিয়ড ড্রামা—বক্স অফিসে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে।
OTT বাড়লেও, দর্শক যখন বড় গল্প, বড় স্কেল, বড় আবেগ দেখতে চান—সরাসরি সিনেমাহলই বেছে নিচ্ছেন।
এটাই প্রমাণ করে, সিনেমার মৃত্যু নয়—সিনেমার নতুন রূপান্তর চলছে।

নতুন প্রজন্ম, নতুন গল্প—এটাই সিনেমার আসল জোর
রমেশ সিপ্পি জোর দিয়েছেন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিকের ওপর—
নতুন প্রজন্মের প্রতিভা সিনেমার ভবিষ্যৎ গড়ছে।
আজকের নির্মাতারা—
- নতুন গল্প বলার ধরন
- পরীক্ষামূলক ক্যামেরা ভাষা
- সাহসী চরিত্র
- বাস্তবধর্মী উপস্থাপনা
নিয়ে কাজ করছেন।
এই প্রজন্ম সিনেমাকে শুধু প্রসারিতই করছে না, বরং বহুমাত্রিক করে তুলছে। ফলে সিনেমা আরও সমৃদ্ধ, আরও বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠছে।
সিপ্পির মতে, “যতদিন মানুষ গল্প শুনতে চাইবে, ততদিন সিনেমা বাঁচবে। আর মানুষ গল্প শুনতে কখনোই বন্ধ করবে না।”

সিনেমা এখন বৈশ্বিক—ভারতীয় কন্টেন্টের বিশ্বজয়
ভারতীয় সিনেমা এখন শুধু ভারতেই সীমাবদ্ধ নেই।
হলিউডের পাশাপাশি ভারতীয় সিনেমাও বৈশ্বিক দর্শকের কাছে পৌঁছে গেছে—
- আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অংশগ্রহণ
- বিদেশে বক্স অফিস সাফল্য
- বিশ্বজুড়ে ভারতীয় কমিউনিটির বিশাল চাহিদা
- OTT-এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক দর্শক বাড়া
এর ফলে ইন্ডাস্ট্রি আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে, বিনিয়োগ বাড়ছে, এবং নির্মাতারা আরও বড় ক্যানভাসে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন।
রমেশ সিপ্পির বার্তা স্পষ্ট—
সিনেমা কখনোই হারিয়ে যাবে না।
এটি বদলাবে, নতুন রূপ নেবে, নতুন গল্প বলবে। কিন্তু মানুষের আবেগ, কল্পনা ও বিনোদনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে সিনেমা সবসময়ই থাকবে।
আজকের দর্শক সিনেমাহলে ফিরছে, নতুন প্রজন্ম সিনেমা তৈরি করছে, আর ভারতীয় কন্টেন্ট বিশ্বমঞ্চে ছাপ ফেলছে—সব মিলিয়ে বলা যায়, সিনেমা শুধু বেঁচেই নেই, বরং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।






