ভারতের প্রধান মহানগরগুলোতে বায়ুদূষণ দীর্ঘদিন ধরে জনস্বাস্থ্যের অন্যতম বড় হুমকি। সাম্প্রতিক এক স্বাস্থ্য বিমা রিপোর্টে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য—দেশজুড়ে দূষণ–সম্পর্কিত স্বাস্থ্য বিমা দাবির ৪৩% করেছেন শিশুরা। বিশেষভাবে দিল্লি ও বেঙ্গালুরু সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শহর হিসেবে উঠে এসেছে।
এই নিবন্ধে আমরা দূষণে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার প্রধান কারণ, শহরভিত্তিক পরিস্থিতি, এবং পরিবার ও প্রশাসন কীভাবে এই ঝুঁকি কমাতে পারে—তা বিশদে আলোচনা করব।
শিশুদের স্বাস্থ্য দাবিতে দূষণের প্রভাব বৃদ্ধি
দূষণে শিশু কেন বেশি আক্রান্ত?
শিশুদের ফুসফুস এখনও বিকাশমান। ফলে:
- দূষিত বায়ুর ক্ষতিকর ক্ষুদ্র কণাগুলো তাদের শরীরে দ্রুত প্রবেশ করে
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক দুর্বল
- দৈনন্দিন স্কুল যাতায়াত, বাইরে খেলা এবং শারীরিক কার্যকলাপে বেশি সময় কাটানো

অতএব, বায়ুদূষণ বাড়লে শিশুদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, নিউমোনিয়া, অ্যালার্জি ও চোখের সমস্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
রিপোর্টে কী উঠে এসেছে?
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী:
- মোট দূষণ–সংক্রান্ত স্বাস্থ্য বিমা দাবির ৪৩% শিশুদের
- দূষণে শিশুদের শ্বাসযন্ত্রজনিত সমস্যা সর্বাধিক বাড়ছে
- ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের রোগের হার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে
এই প্রবণতা শুধু জনস্বাস্থ্যের জন্যই নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও একটি বড় সতর্কবার্তা।
দিল্লি ও বেঙ্গালুরু: কেন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত?
দিল্লি: দেশের সবচেয়ে দূষিত নগরী
দিল্লি বহু বছর ধরে বিশ্বের শীর্ষ বায়ুদূষিত শহরগুলোর একটি।
দূষণের প্রধান উৎস:
- যানবাহনের নির্গমন
- নির্মাণকাজের ধুলিকণা
- শিল্পাঞ্চলের বর্জ্য
- ফসল পোড়ানোর ধোঁয়া (স্টাবল বার্নিং)
এর সরাসরি প্রভাবে প্রতিদিন হাজারো শিশু শ্বাসকষ্ট, কাশি ও অ্যালার্জিতে ভুগছে। স্বাস্থ্য বিমার দাবিও তাই স্বাভাবিকভাবেই বেশি।

বেঙ্গালুরু: ‘গার্ডেন সিটি’ থেকেও পলিউশন সিটির পথে
বেঙ্গালুরুতে বায়ুদূষণের প্রধান কারণ:
- যানজট ও অতিরিক্ত গাড়ির সংখ্যা
- দ্রুত নগরায়ন
- নির্মাণকাজের বৃদ্ধি
ফলে শিশুদের মধ্যে অ্যাজমা, ত্বকের অ্যালার্জি এবং চোখের সমস্যার সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।
দূষণের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় করণীয়
পরিবারকে কী কী সতর্কতা গ্রহণ করতে হবে?
- স্কুলে যাওয়ার সময় N95 বা ভালো মানের মাস্ক ব্যবহার
- বাইরে খেলার সময় AQI (Air Quality Index) দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া
- ঘরের ভিতর এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার
- শিশুদের ইমিউনিটি বাড়াতে পুষ্টিকর খাবার
- নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ
সরকার ও প্রশাসনের ভূমিকা
- দূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতি প্রণয়ন
- বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা
- গণপরিবহন উন্নতি
- সবুজায়ন বৃদ্ধি
- AQI–ভিত্তিক স্কুলে ছুটি বা আউটডোর অ্যাক্টিভিটি নিয়ন্ত্রণ
উপসংহার
ভারতের বিভিন্ন শহরে বায়ুদূষণ ইতিমধ্যেই জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু যখন দেখা যায় শিশুদের—যাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আশা হিসেবে দেখা হয়—তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তখন বিষয়টি আরও সমালোচনামূলক হয়ে ওঠে।
এখন সময় এসেছে পরিবার, প্রশাসন ও সমাজ—সবাইকে একসাথে সমস্যার বিরুদ্ধে কঠোরভাবে উদ্যোগ নেওয়ার। দূষণ কমানোর বাস্তব পদক্ষেপ নিলে ভবিষ্যতে শিশুদের স্বাস্থ্য রক্ষা করা অবশ্যই সম্ভব।






