বাংলা খাদ্যসংস্কৃতি আজ আন্তর্জাতিক মঞ্চে ক্রমেই শক্ত অবস্থান তৈরি করছে। ইউটিউব ফুড ব্লগিং, ইনস্টাগ্রাম রিলস, এবং স্ট্রিট ফুড রিভিউ—সব মিলিয়ে খাবারকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন এক ডিজিটাল বাস্তুতন্ত্র। তবে আশ্চর্যের বিষয়, ফুড-কালচার এত জনপ্রিয় হওয়া সত্ত্বেও বাংলা চলচ্চিত্রে শেফ-থিমড গল্প এখনো মূলধারায় আসতে পারেনি। এক জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাতা সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, “ফুড ব্লগিং–এর এই যুগে শেফ-ভিত্তিক বাংলা সিনেমার আরও বেশি গ্রহণযোগ্যতা দরকার।”
এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে আলোচনার ঝড়। কেন এমন হয়? দর্শক কি এ ধরনের গল্পে আগ্রহী নয়, নাকি ইন্ডাস্ট্রি ঝুঁকি নিতে ভয় পাচ্ছে? এই প্রশ্নগুলোর গভীরে যাব আমরা আজকের প্রতিবেদনে।
বাংলার খাদ্যসংস্কৃতি বিশ্বমঞ্চে—তবু চলচ্চিত্রে উপস্থাপন সীমিত কেন?**
বাংলা রান্না মানেই বৈচিত্র্য, ইতিহাস, ঐতিহ্য। দই-চিংড়ি থেকে শুরু করে কচুরি-তরকারি কিংবা বিরিয়ানি—প্রতিটি খাবারই একেকটা গল্প বলে। অথচ এই গল্পগুলো বড়পর্দায় খুব কমই ফুটে ওঠে। চলচ্চিত্র নির্মাতার মতে, আন্তর্জাতিক ফুড কন্টেন্টের জোয়ারে বাংলা সিনেমা পিছিয়ে আছে কারণ—
- প্রযোজকদের মধ্যে ফুড-জঁরা নিয়ে আত্মবিশ্বাস কম
- দর্শকের রুচি সম্পর্কে ভুল ধারণা
- খাবারকে কেন্দ্র করে গল্প তৈরিতে গবেষণার অভাব
- শেফ চরিত্রকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে ভয়
আজকের প্রজন্ম ‘মাস্টারশেফ’-এর মতো শো দেখে বড় হচ্ছে। তারা ফুড-আর্ট, রেস্টুরেন্ট কালচার এবং কুলিনারি জার্নির প্রতি আগ্রহী। ফলে চলচ্চিত্র নির্মাতার মতে, এখনই সময় শেফ-চরিত্রকে ঘিরে শক্তিশালী গল্প তৈরি করার।

ফুড ব্লগিং-এর বিস্ফোরণ—এটি কি বাংলা সিনেমার জন্য সুযোগ নাকি চ্যালেঞ্জ?
ফুড ব্লগিং এখন শুধু শখ নয়—এটি সম্পূর্ণ একটি ইন্ডাস্ট্রি। কলকাতার প্রায় প্রতিটি জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ ইনস্টাগ্রাম রিভিউর ওপর নির্ভর করে।
এই প্রবণতা চলচ্চিত্র জগতে দুটি প্রভাব ফেলেছে—
১. দর্শকের খাদ্যচেতনা বৃদ্ধি পেয়েছে
আগের মতো শুধু গল্প নয়, এখন দৃশ্যমান অভিজ্ঞতা বড্ড জরুরি। সুন্দরভাবে উপস্থাপিত খাবারের ভিজ্যুয়াল দর্শককে আবেগী করে, যা সিনেমার বড় সম্পদ হতে পারে।
২. প্রতিযোগিতা বেড়েছে
দুই মিনিটের রিল যেখানে খাবারের আবেগকে দারুণভাবে তুলে ধরে, সেখানে চলচ্চিত্রের জন্য নতুন কিছু বলার চাপ তৈরি হয়।
তাই নির্মাতা মনে করেন—
একটি শক্তিশালী আবেগময় গল্প + ভিজুয়াল ফুড আর্ট
= শেফ-ভিত্তিক বাংলা সিনেমাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে পারে।

শেফ চরিত্র নিয়ে সিনেমার সম্ভাবনা—দর্শক কী চান?
চলচ্চিত্র নির্মাতার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দর্শক এখন শুধুই প্রেম-অ্যাকশন নয়—
তারা চান:
- ব্যক্তিগত সংগ্রামের গল্প
- স্বপ্ন পূরণের যাত্রা
- প্যাশনকে পেশায় রূপান্তরের লড়াই
- খাবার তৈরির শিল্পের গভীরতা
- রেস্টুরেন্ট গড়ে ওঠার বাস্তবতা
“Chef”, “Burnt”, “Julie & Julia”–র মতো আন্তর্জাতিক সিনেমাগুলি প্রমাণ করেছে—
শেফ চরিত্র মানেই শুধু রান্নাঘর নয়; এটি আবেগ, স্বপ্ন, হারানো-জেতার গল্প।
বাংলা সিনেমা এই পথ অনুসরণ করলে নতুন জঁরা তৈরি হতে পারে।
ফুড ব্লগিং এবং কুলিনারি রেনেসাঁর সময়ে বাংলা সিনেমার সামনে রয়েছে বিশাল সুযোগ। শেফ-ভিত্তিক গল্প শুধু নতুন কিছু নয়—এটি বাংলার খাদ্যসংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার পথ। যদি নির্মাতারা সাহস করে এগিয়ে আসেন এবং দর্শকের রুচিকে নতুনভাবে পড়েন, তবে বাংলা সিনেমার পরবর্তী বড় ট্রেন্ড হতে পারে—
“Food & Chef Stories.”






