কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড আজ কার্যত নিরাপত্তার চাদরে মোড়া। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে Suvendu Adhikari-র শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে নজিরবিহীন কড়াকড়ি জারি করেছে প্রশাসন। শনিবার ভোর থেকেই ব্রিগেড ও সংলগ্ন এলাকায় শুরু হয়েছে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের ক্ষেত্রে জারি হয়েছে একাধিক বিধিনিষেধ, যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য— ছাতা, জলের বোতল এবং বড় ব্যাগ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র উপস্থিতির কারণেই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। SPG, কলকাতা পুলিশ, RAF এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর যৌথ নজরদারিতে গোটা ব্রিগেড চত্বর কার্যত হাই-সিকিউরিটি জোনে পরিণত হয়েছে।
শুধু নিরাপত্তাই নয়, বিপুল জনসমাগম সামলাতেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা কর্মী-সমর্থকদের জন্য আলাদা প্রবেশ ও বেরোনোর পথ নির্ধারণ করা হয়েছে। মেট্রো স্টেশন, বাসস্ট্যান্ড এবং গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা জুড়ে বাড়ানো হয়েছে পুলিশি নজরদারি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অনুষ্ঠান শুধুমাত্র শপথগ্রহণ নয়, বরং শক্তি প্রদর্শনেরও বড় মঞ্চ। তাই জনসমাগম, ভিআইপি মুভমেন্ট এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মাথায় রেখেই প্রশাসনের তরফে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ব্রিগেডে কী কী নিষিদ্ধ? জানাল প্রশাসন
প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, অনুষ্ঠানস্থলে কোনওভাবেই ছাতা, প্লাস্টিকের বোতল, বড় ব্যাগ, দাহ্য পদার্থ বা ধারালো জিনিস নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। এমনকি অনেক ক্ষেত্রেই ছোট ব্যাগও স্ক্যানিংয়ের আওতায় আনা হচ্ছে।
নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, বড় জনসমাগমের ক্ষেত্রে এই ধরনের সামগ্রী নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ভিআইপি উপস্থিতির কারণে কোনওরকম ঝুঁকি নিতে নারাজ প্রশাসন।
শুধু তাই নয়, ড্রোন ওড়ানোতেও জারি হয়েছে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা। ব্রিগেড এবং আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম মোতায়েন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলের চারপাশে একাধিক ওয়াচ টাওয়ার তৈরি করে নজরদারি চালানো হচ্ছে।
এদিকে সাধারণ মানুষ যাতে অসুবিধায় না পড়েন, তার জন্য বিভিন্ন প্রবেশপথে পানীয় জল, মেডিক্যাল ক্যাম্প এবং সহায়তা কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, নিরাপত্তা বজায় রেখেই মানুষের সুবিধার দিকে নজর রাখা হচ্ছে।
সামাজিক মাধ্যমেও ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে “কী নিয়ে ঢোকা যাবে না” তালিকা। ফলে অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে বহু মানুষই এখন নিজেদের প্রস্তুতি বদলাচ্ছেন।
শনিবার ভোর থেকেই কড়াকড়ি, শহরজুড়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ
শনিবার ভোর থেকেই কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান নিয়ন্ত্রণ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে Brigade Parade Ground সংলগ্ন এলাকা, ধর্মতলা, ময়দান, পার্ক স্ট্রিট এবং এসপ্ল্যানেড অঞ্চলে জারি হয়েছে বিশেষ ট্রাফিক পরিকল্পনা।
কলকাতা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, সকাল থেকেই কিছু রাস্তায় ভারী যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। বিভিন্ন জায়গায় ব্যারিকেড বসিয়ে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
মেট্রো পরিষেবাতেও অতিরিক্ত ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, লক্ষাধিক মানুষের সমাগমের কারণে শহরের পরিবহণ ব্যবস্থার উপর ব্যাপক চাপ পড়তে পারে।
শুধু রাস্তা নয়, হাওড়া এবং শিয়ালদহ স্টেশনেও বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। বাইরে থেকে আসা যাত্রীদের উপর বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। একাধিক জেলায় থেকেও বাসে করে কর্মী-সমর্থকরা কলকাতায় পৌঁছতে শুরু করেছেন।
প্রশাসনিক মহলের মতে, এত বড় রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই কারণেই বহু আগেই শুরু হয়ে গিয়েছিল প্রস্তুতি।
প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি ঘিরে সর্বোচ্চ সতর্কতা
Narendra Modi-র উপস্থিতির কারণে গোটা অনুষ্ঠান ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বহু গুণ বাড়ানো হয়েছে। SPG-র আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই একাধিকবার অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করেছেন।
ব্রিগেডের আশপাশের বহু উঁচু ভবনে মোতায়েন করা হয়েছে স্নাইপার এবং নজরদারি টিম। CCTV ক্যামেরার মাধ্যমে প্রতিটি প্রবেশপথ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়লেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা সূত্রে খবর, অনুষ্ঠানে প্রবেশের আগে প্রত্যেককেই মেটাল ডিটেক্টর এবং ব্যাগ স্ক্যানারের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। ভিআইপি জোনে প্রবেশের জন্য বিশেষ পাস ছাড়া অনুমতি দেওয়া হবে না।
প্রশাসনের দাবি, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কড়াকড়ি। যদিও অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, গরমের মধ্যে ছাতা এবং জলের বোতল নিষিদ্ধ হওয়ায় সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়তে পারেন। তবে প্রশাসন জানিয়েছে, অনুষ্ঠানস্থলের ভিতরেই পর্যাপ্ত পানীয় জল এবং মেডিক্যাল পরিষেবার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিগেডের এই মেগা ইভেন্ট আগামী দিনের রাজনীতির দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিরাপত্তা ও জনসমাগম— দুই ক্ষেত্রেই কোনও খামতি রাখতে চাইছে না প্রশাসন।
ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আজকের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে উত্তেজনা যেমন তুঙ্গে, তেমনই নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থাও এখন চর্চার কেন্দ্রবিন্দু। ছাতা, জলের বোতল এবং ব্যাগ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হলেও প্রশাসনের দাবি, সবটাই নিরাপত্তার স্বার্থে।
শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতি— দুই মিলিয়ে আজকের ব্রিগেড কার্যত জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এখন নজর, এই মেগা ইভেন্ট কতটা সফলভাবে সম্পন্ন হয় তার দিকে।






