কলকাতা, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬। বাংলা চলচ্চিত্রে হরর-কমেডি ঘরানার প্রতি দর্শকের আগ্রহ নতুন করে উসকে দিতে শহর কলকাতায় জমকালো আয়োজনে প্রকাশ পেল Bhanupriya Bhooter Hotel-এর বহু প্রতীক্ষিত ট্রেলার। শহরের অন্যতম জনপ্রিয় ভেন্যু Polo Floatel-এ অনুষ্ঠিত এই বিশেষ ট্রেলার লঞ্চ ইভেন্টে সিনেমার ভৌতিক অথচ মজাদার আবহ যেন বাস্তব হয়ে উঠেছিল।
ইভেন্টের শুরু থেকেই অতিথি ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের জন্য তৈরি করা হয় এক আলাদা অভিজ্ঞতা। হালকা আলো, রহস্যময় সাজসজ্জা এবং ছবির থিমকে ঘিরে তৈরি পরিবেশ দর্শকদের টেনে নিয়ে যায় ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’-এর কল্পনার জগতে। ট্রেলার শুরু হওয়ার আগেই যেন উপস্থিত সবাই ঢুকে পড়েন হরর-কমেডির সেই অদ্ভুত, রোমাঞ্চকর পরিসরে।
এই লঞ্চ ইভেন্ট শুধুমাত্র একটি ট্রেলার প্রকাশের অনুষ্ঠান ছিল না; বরং এটি ছিল সিনেমার মুড, স্বাদ ও গল্প বলার ধরনকে দর্শকের সামনে তুলে ধরার একটি পরিকল্পিত প্রয়াস। বাংলা সিনেমায় নতুন ধাঁচের গল্প বলার যে প্রচেষ্টা চলছে, তারই এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে উঠে এল এই মুহূর্ত।
তারকাখচিত ট্রেলার লঞ্চে সিনেমার জগৎ এক ছাদের নীচে

ট্রেলার লঞ্চ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ছবির প্রায় পুরো তারকাবাহিনী ও কলাকুশলীরা। মঞ্চে একসঙ্গে দেখা যায় Mimi Chakraborty, Soham Majumdar, Bonny Sengupta, Swastika Dutta, Kanchan Mullick, Anamika Saha, Manasi Singha এবং Priyanka Bhattacharya।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ছবির পরিচালক Aritra Mukherjee ও চিত্রনাট্যকার Zinia Sen। তাঁরা ছবির ভাবনা, গল্পের পটভূমি এবং নির্মাণের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে।
তারকাদের উপস্থিতি ও তাঁদের পারস্পরিক কথোপকথনে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত। হালকা হাসি-ঠাট্টা, শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা এবং চরিত্র নিয়ে নানা মজার মুহূর্ত ভাগ করে নেন অভিনেতারা। এই আন্তরিকতা দর্শকদের কাছে ছবিটিকে আরও কাছের করে তুলবে বলেই মনে করছেন ইন্ডাস্ট্রির পর্যবেক্ষকরা।
ট্রেলারে হরর ও হাসির মেলবন্ধন, দর্শকের জন্য নতুন স্বাদ

ট্রেলারটি মুক্তি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দর্শক ও উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে ছবির অনন্য টোন। ভৌতিক আবহের সঙ্গে তীক্ষ্ণ রসবোধ—এই দুইয়ের ভারসাম্যই ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’-এর মূল আকর্ষণ।
ট্রেলারে দেখা যায় রহস্যময় এক হোটেল, যেখানে অদ্ভুত সব ঘটনার সঙ্গে মিশে আছে দৈনন্দিন জীবনের হাস্যরস। ভিজ্যুয়াল টোন, সংলাপের টাইমিং এবং চরিত্রগুলোর এক্সপ্রেশন মিলিয়ে এটি যে শুধুমাত্র ভয়ের গল্প নয়, তা স্পষ্ট।
ছবিতে অভিনয় করা সোহম মজুমদার বলেন,
“এই ছবির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল এর হালকা, খেলাচ্ছলে বলা হরর। এখানে শুধু ভয় দেখানোর চেষ্টা নেই, বরং ভয় আর হাসি পাশাপাশি হাঁটে। ট্রেলারটা সেই ব্যালান্সটাই তুলে ধরেছে।”
অন্যদিকে মিমি চক্রবর্তী জানান,
“এই ছবিটি আমার কাছে একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা। চরিত্র, গল্প, পরিবেশ—সব মিলিয়ে ভিন্ন স্বাদের কাজ। ট্রেলার দেখে দর্শকরা যে মজার, অপ্রত্যাশিত কিছু পেতে চলেছেন, সেটা বোঝা যাবে।”
ট্রেলারটির প্রতিটি ফ্রেমেই রয়েছে যত্নের ছাপ। ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর থেকে শুরু করে এডিটিং—সব মিলিয়ে এটি বাংলা হরর-কমেডি ধারার জন্য এক নতুন মানদণ্ড তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
পরিচালকের ভাবনা ও প্রযোজনায় নতুন অধ্যায়

পরিচালক আরিত্র মুখার্জি ট্রেলার লঞ্চে নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরেন স্পষ্টভাবে। তাঁর কথায়,
“হরর-কমেডি এমন একটি ঘরানা যেখানে কল্পনা, আবেগ আর রসিকতা একসঙ্গে কাজ করে। ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’-এ আমরা এমন একটি গল্প বলতে চেয়েছি, যা নতুন হলেও দর্শকের কাছে পরিচিত মনে হবে।”
এই ছবির প্রযোজনায় রয়েছেন জনপ্রিয় জুটি Nandita Roy ও Shiboprosad Mukherjee। তাঁদের প্রযোজনা সংস্থা Windows Productions এই প্রথম হরর-কমেডি ঘরানায় পা রাখল।
নন্দিতা-শিবপ্রসাদের প্রযোজনায় সামাজিক গল্প ও মানবিক আবেগ বরাবরই গুরুত্ব পেয়েছে। সেই ধারাবাহিকতার মধ্যেই নতুন স্বাদ যোগ করছে এই ছবি। ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই মনে করছেন, এই প্রযোজনা বাংলা সিনেমায় হরর-কমেডির প্রতি দর্শকের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে পারে।
ছবিটি আগামী ২৩ জানুয়ারি ২০২৬-এ মুক্তি পাওয়ার কথা। ছুটির মরশুমে মুক্তি পাওয়ায় বক্স অফিসে ভালো সাড়া পাওয়ার সম্ভাবনাও যথেষ্ট উজ্জ্বল।
Polo Floatel-এ অনুষ্ঠিত ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’-এর ট্রেলার লঞ্চ ইভেন্ট শুধু একটি প্রচারমূলক অনুষ্ঠান নয়, বরং বাংলা হরর-কমেডি সিনেমার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে রইল। ভৌতিক পরিবেশ, তারকাদের উপস্থিতি ও ট্রেলারের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া মিলিয়ে ছবিটি ইতিমধ্যেই দর্শকের কৌতূহল বাড়িয়ে দিয়েছে। বড় পর্দায় এই হোটেলের রহস্য কতটা জমে, সেটাই এখন দেখার।






