The Indian Chronicles | কলকাতা | আগস্ট ২০২৫
“এই ভাষাতেই তো ভারতের জাতীয় সঙ্গীত রচিত।” — এমনই কড়া ভাষায় কেন্দ্রের অধীন দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন খ্যাতনামা পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়।
সম্প্রতি, নয়াদিল্লির লোদী কলোনি থানার এক পুলিশ অফিসার একটি চিঠিতে বাংলা ভাষাকে “বাংলাদেশিদের ভাষা” বলে উল্লেখ করেন। এই চিঠির কপি ছড়িয়ে পড়তেই সোচ্চার হয় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহল। তৃণমূল কংগ্রেস একে ‘অসম্মানজনক ও অজ্ঞতার পরিচয়’ বলেই দাবি করেছে। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই সামাজিক মাধ্যমে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন সৃজিত।
সৃজিতের পোস্ট কী বলছে?
নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দিল্লি পুলিশের বিতর্কিত চিঠির একটি ছবি পোস্ট করে সৃজিত লেখেন:
“মূর্খের দল, এটাকে ‘বাংলাদেশি ভাষা’ বলা যায় না। একে বাংলা বা বেঙ্গলি বলা হয়। যে ভাষায় আপনাদের জাতীয় সঙ্গীত, সেটাও এই ভাষাই।”
এই পোস্টেই তিনি মনে করিয়ে দেন, ভারত সরকারের ২২টি সংবিধান স্বীকৃত ভাষার মধ্যে বাংলা অন্যতম।
তৃণমূলের অভিযোগ অনুযায়ী, অমিত দত্ত নামক এক পুলিশ আধিকারিক বঙ্গভবনের অফিসার-ইন-চার্জকে পাঠানো চিঠিতে বাংলা ভাষাকে “বাংলাদেশি ভাষা” বলে উল্লেখ করেছেন। এই চিঠিকে সামনে রেখেই তৃণমূল সুর চড়ায়, দাবি তোলে—
- সংশ্লিষ্ট অফিসারকে সাসপেন্ড করতে হবে,
- কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে,
- এবং দিল্লি পুলিশকে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।
মহুয়া মৈত্র, তৃণমূলের কৃষ্ণনগরের সাংসদ, নিজেও এক পোস্টে এই দাবিগুলি তুলে ধরেন এবং বলেন —
“এই চিঠি বাংলা ভাষার প্রতি এক চূড়ান্ত অপমান। এর জবাব আইনত ও নৈতিকভাবে দিতে হবে।”
🎭 টলিপাড়ার প্রতিক্রিয়া
টলিউডের বহু পরিচালক, অভিনেতা এবং লেখক ইতিমধ্যেই সৃজিতের পোস্টে সমর্থন জানিয়েছেন। বাংলা ভাষাকে এইভাবে অবজ্ঞা করা যে কোনও ভারতীয় বাঙালির আত্মসম্মানকে আঘাত করে — এমনটাই মত তাঁদের।
🇮🇳 কেন এই বিতর্ক গুরুত্বপূর্ণ?
যে ভাষায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচনা করেছেন ভারতের জাতীয় সঙ্গীত “জনগণমন”, সেই ভাষাকে ‘বাংলাদেশি ভাষা’ বলে অবজ্ঞা করা শুধু বাংলা নয় — গোটা ভারতীয় সাংবিধানিক কাঠামো এবং ভাষার বৈচিত্র্যকেই অস্বীকার করার সামিল।
বাংলা কোনো দেশের একার সম্পত্তি নয়, এটি একটি সমৃদ্ধ ভাষা ও সংস্কৃতি — ভারত ও বাংলাদেশ উভয়ের মেরুদণ্ড। তাই এই মন্তব্য নিয়ে প্রতিবাদ, প্রতিক্রিয়া এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা — সবটাই এক অর্থে ভাষার মর্যাদার প্রশ্ন।






