ধুরন্ধর মুক্তির পর থেকেই বলিউডে একটাই নাম ঘুরপাক খাচ্ছে—আকশয় খান্না। বছরের অন্যতম আলোচিত এই ছবিতে তাঁর সংযত, গভীর এবং তীক্ষ্ণ অভিনয় আবারও প্রমাণ করেছে কেন তিনি সমসাময়িকদের ভিড়ে আলাদা। বক্স অফিসে ছবির সাফল্য যেমন আলোচনা তৈরি করেছে, তেমনই নেটিজেনদের প্রশংসায় ভাসছে আকশয়ের অভিনয়-শৈলী।
এই সাফল্যের মাঝেই ব্যক্তিগত জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে পা রাখলেন অভিনেতা। সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের আলিবাগে তাঁর নতুন বাড়িতে বাস্তুশান্তি সম্পন্ন করলেন আকশয় খান্না। একান্ত ও শান্ত পরিবেশে হওয়া এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঘনিষ্ঠ কয়েকজন মানুষ ও পরিবারের সদস্যরা।
অনুষ্ঠানের পর আকশয়ের ব্যক্তিত্ব ও আচরণ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পুরোহিতের একটি মন্তব্য এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। তাঁর কথায়, “আকশয় খান্না অভিনয়ে যেমন, মানুষ হিসেবেও ঠিক ততটাই ক্লাসি।” এই মন্তব্য যেন অভিনেতার দীর্ঘদিনের ইমেজকেই আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।
গ্ল্যামার দুনিয়ার কোলাহল থেকে দূরে থাকা, কাজের মাধ্যমে কথা বলা এবং নীরব আত্মবিশ্বাস—এই তিনের মিশেলেই আকশয় খান্না আজও দর্শকের কাছে ‘ডেফিনিশন অফ ক্লাস’।
ধুরন্ধরে আকশয় খান্নার অভিনয়: নীরবতায় শক্তির বিস্ফোরণ

ধুরন্ধরে আকশয় খান্নার চরিত্রটি এমন এক স্তরে নির্মিত, যেখানে অতিনাটকীয়তার কোনো জায়গা নেই। চোখের দৃষ্টি, সংলাপের মাপা ব্যবহার আর শরীরী ভাষার সূক্ষ্মতায় তিনি তৈরি করেছেন এক স্মরণীয় পারফরম্যান্স। সমালোচকদের মতে, এটি তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম পরিণত অভিনয়।
সহ-অভিনেতাদের ছাপিয়ে না গিয়েও দৃশ্য দখলে রাখার ক্ষমতা আকশয়ের বড় শক্তি। ধুরন্ধরের বহু দৃশ্যে তাঁর উপস্থিতি নীরব হলেও প্রভাব ছিল গভীর। এই কারণেই দর্শক ও সমালোচক—উভয় মহলেই তাঁকে নিয়ে প্রশংসার জোয়ার।
বক্স অফিস সাফল্যের পাশাপাশি ছবিটি যে সাংস্কৃতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তার কেন্দ্রে রয়েছে আকশয়ের অভিনয়। অনেকেই বলছেন, এই চরিত্র ভবিষ্যতে ‘কাল্ট পারফরম্যান্স’ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
আলিবাগে নতুন অধ্যায়: বাস্তুশান্তি ও আত্মিক শান্তি

মুম্বইয়ের ব্যস্ততা থেকে দূরে আলিবাগে নিজের নতুন আশ্রয়ে বাস্তুশান্তি সম্পন্ন করা আকশয়ের ব্যক্তিত্বের সঙ্গেই মানানসই। প্রকৃতির কাছাকাছি, নিরিবিলি পরিবেশে এই বাড়ি যেন তাঁর জীবনের নতুন অধ্যায়ের প্রতীক।
বাস্তুশাস্ত্র মেনে ঘরের শুভ সূচনা করার সিদ্ধান্ত আকশয়ের আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রতিফলন। অনুষ্ঠানে কোনো বাড়তি আড়ম্বর ছিল না—ছিল শান্তি, সংযম এবং আন্তরিকতা। উপস্থিত প্রত্যেকেই অভিনেতার বিনয়ী ব্যবহারে মুগ্ধ হন।
এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা না বললেও, ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, সাফল্যের মাঝেও নিজের শিকড়ে ফেরার প্রবণতাই আকশয় খান্নাকে আলাদা করে তোলে।
‘ডেফিনিশন অফ ক্লাস’: পুরোহিতের মন্তব্যে কেন মুগ্ধ নেটদুনিয়া

বাস্তুশান্তির পর পুরোহিতের মন্তব্য—“অভিনয়ে ক্লাসের সংজ্ঞা”—শুধু প্রশংসা নয়, বরং আকশয়ের দীর্ঘদিনের ভাবমূর্তির সারসংক্ষেপ। বলিউডে বহু বছর ধরে কাজ করেও বিতর্কের বাইরে থাকা অভিনেতাদের তালিকায় তাঁর নাম প্রথম দিকেই আসে।
সহকর্মীদের প্রতি সম্মান, কাজের প্রতি নিষ্ঠা এবং নীরব আত্মবিশ্বাস—এই গুণগুলোই তাঁকে আলাদা করে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই লিখছেন, আকশয় খান্না প্রমাণ করেন যে তারকাখ্যাতি মানেই উচ্চস্বরে উপস্থিতি নয়।
এই মন্তব্যের পর নতুন প্রজন্মের দর্শকরাও তাঁর পুরনো কাজ খুঁজে দেখছেন। যেন ধুরন্ধরের সাফল্য তাঁর কেরিয়ারকে নতুন করে আবিষ্কারের সুযোগ করে দিচ্ছে।
ধুরন্ধরের সাফল্য আর আলিবাগের বাড়িতে বাস্তুশান্তি—এই দুইয়ের সংযোগে স্পষ্ট একটাই ছবি ফুটে ওঠে। আকশয় খান্না এমন এক অভিনেতা, যিনি সাফল্যের শীর্ষে থেকেও মাটিতে পা রেখে চলতে জানেন। অভিনয়ে সংযম, জীবনে শান্তি আর ব্যক্তিত্বে ক্লাস—এই ত্রয়ীর সমন্বয়ই তাঁকে আজও আলাদা করে তোলে। বলিউডের দ্রুত বদলে যাওয়া সময়ে আকশয় খান্না যেন এক স্থির মানদণ্ড, যাকে ঘিরে ‘ক্লাস’ শব্দটার প্রকৃত অর্থ খোঁজা যায়।






