দিল্লির রেড ফোর্ট মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন গাড়ি বিস্ফোরণের তদন্তে উঠে এসেছে একটি বিতর্কিত নাম—Al-Falah University-র প্রফেসর Dr. Nisar-ul-Hassan। যিনি ২০২৩ সালে Jammu & Kashmir সরকার কর্তৃক জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বরখাস্ত হয়েছিলেন। সে সময় তাঁকে “দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট” সন্দেহে সরানো হয়। এরপর তিনি হরিয়ানার Al-Falah University-তে যোগ দেন। বিস্ফোরণ তদন্তে তাঁর হঠাৎ নিখোঁজ হওয়া নতুন প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
বরখাস্ত ও পুনর্নিয়োগ—বিতর্কের সূচনা
২০২৩ সালে জারি হয় সরকারিভাবে বরখাস্তের নির্দেশ। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল—জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁর উপস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ। এই সিদ্ধান্তের পর তিনি কিছুদিন নিম্নপ্রোফাইলে থাকলেও পরে Al-Falah University-র মেডিক্যাল বিভাগে পুনরায় নিয়োগ পান।

এখানেই উঠে আসে মূল প্রশ্ন—
- কীভাবে বরখাস্ত হওয়া একজন ব্যক্তি পুনরায় কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিযুক্ত হলেন?
- ব্যাকগ্রাউন্ড ভেরিফিকেশন কি সঠিকভাবে করা হয়েছিল?
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কি নিরাপত্তা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে যথেষ্ট দায়িত্ব নেয়?
এই ঘটনা নিয়োগ পদ্ধতি ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সিকিউরিটি স্ট্যান্ডার্ড নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
দিল্লি ব্লাস্ট ও Al-Falah University-র ভূমিকায় তদন্তের বিস্তার
১০ নভেম্বর ২০২৫ দিল্লিতে ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণে বহু প্রাণহানি ঘটে। তদন্ত সংস্থা ওই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নেটওয়ার্কের মানচিত্র তৈরি করতে গিয়ে Al-Falah University-র কয়েকজন শিক্ষক ও ছাত্রের কার্যক্রম নিয়ে বিশেষভাবে নজর দেয়।

কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯ সাল থেকে বিভিন্ন রেকর্ড সংগ্রহ করে এবং একাধিক কর্মচারী-বিশেষজ্ঞকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। Dr. Hassan-এর আকস্মিক নিখোঁজ হওয়া তদন্তকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এমনকী বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, কিছু মেডিক্যাল স্টাফের ওপরও সন্দেহ রয়েছে, যাঁরা হয়তো বিস্ফোরণে ব্যবহৃত নেটওয়ার্কের সাপ্লাই চেইনে যুক্ত ছিলেন।
এই পুরো বিতর্ক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা চেক-এবং-ব্যালেন্স ব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সিকিউরিটি স্ক্রিনিং—কেন অতীব জরুরি
এই ঘটনা প্রমাণ করে—
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধু শেখার জায়গা নয়; এখানে বহু সংবেদনশীল ব্যাকগ্রাউন্ডের মানুষ যুক্ত থাকতে পারেন। তাই—
যে বিষয়গুলো এখন গুরুত্ব পাচ্ছে:
- শিক্ষক নিয়োগে বাধ্যতামূলক ব্যাকগ্রাউন্ড স্ক্রিনিং
- আগে বরখাস্ত বা তদন্তাধীন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কঠোর যাচাই
- নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়
- শিক্ষার্থীদের গতিবিধি ও রেকর্ড রক্ষণে আধুনিক নজরদারি সিস্টেম
Al-Falah University ঘটনা দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য সতর্কবাণী:
সিকিউরিটি কমপ্লায়েন্স দুর্বল হলে বিপর্যয় অমূল্য ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।
Dr. Nisar-ul-Hassan-কে ঘিরে বিতর্ক শুধু একজন ব্যক্তির বিষয় নয়—এটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার নিরাপত্তা নীতি, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং তদারকি ব্যবস্থার বড় প্রশ্ন।
আজ প্রয়োজন—
- কঠোর স্ক্রিনিং
- নিয়মিত তদারকি
- এবং নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সক্রিয় সহযোগিতা
সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দেশের নিরাপত্তার জন্য এই তিনটি অপরিহার্য।
এই বিষয়ে আপনার মতামত কী?
কমেন্ট করুন এবং আর্টিকেলটি অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করুন, যাতে সচেতনতা বাড়ে।






