বাংলা সিনেমার বর্তমান তারকা জগতের অন্যতম উজ্জ্বল নাম অবির চট্টোপাধ্যায়। তাঁর জন্মদিনে স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে তাঁর অভিনয়জীবনের নানা দিক। তবে গত কয়েক বছরে একটি বিষয় স্পষ্ট— নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর কাজের সম্পর্ক বাংলা সিনেমাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তাঁদের যৌথ ছবিগুলি শুধু বাণিজ্যিকভাবে সফল নয়, বরং আবেগ, বাস্তবতা আর সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার সুনিপুণ সংমিশ্রণে দর্শকের মনে স্থায়ী ছাপ ফেলেছে।
এই বিশেষ প্রতিবেদনটি সেই সফল সহযোগিতা, সৃজনশীল রসায়ন এবং অভির অভিনয়ের বিকাশকে কেন্দ্র করে সাজানো।
মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি: যাত্রার প্রথম সুর
অবির চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে নন্দিতা-শিবপ্রসাদের সৃজনশীল পথচলা শুরু হয় ‘মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি’ দিয়ে। গল্পের মধ্যে ছিল কল্পনা, রহস্য, শিশুসুলভ উচ্ছ্বাস এবং মানবিক উষ্ণতা। এই ছবিতে অভির উপস্থিতি ছিল একদম ভিন্ন মাত্রার— শান্ত, স্নিগ্ধ অথচ দৃশ্যমান।
এই ছবি শুধু একটি সফল শুরুই নয়, বরং একটি বহুমাত্রিক সহযোগিতার ভিত্তি গড়ে দেয়, যার ওপর তাঁরা পরে আরও বড় সাফল্যের ইমারত দাঁড় করান।

ফাটাফাটি: সামাজিক বার্তার সঙ্গে অভির স্বাভাবিক অভিনয় সক্ষমতা
পরবর্তীতে সহযোগিতা আরও গভীর হয় ‘ফাটাফাটি’ ছবির মাধ্যমে। যদিও ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন অরিত্র মুখোপাধ্যায়, তবুও নন্দিতা-শিবপ্রসাদের সৃজনশীল নির্দেশনা এবং অভির অভিনয়— দুটোরই উপস্থিতি ছিল স্পষ্ট।
এই ছবিতে অভির অভিনয় বিশেষভাবে লক্ষণীয় কারণ— তিনি চরিত্রটিকে সহজ, মানবিক এবং আন্তরিক করে তুলেছিলেন। দর্শক শুধু গল্পের বার্তায় নয়, অভির বিনয়ী অভিনয়েও সংযোগ খুঁজে পেয়েছিল।
রক্তবীজ ও রক্তবীজ ২: তুমুল সাফল্যের বিস্ফোরণ
তাঁদের সৃজনশীল সম্পর্কের সবচেয়ে তুমুল সাফল্যের নাম— ‘রক্তবীজ’ এবং তার সিক্যুয়েল ‘রক্তবীজ ২’। এই দুই ছবিতেই অভির অনবদ্য তীক্ষ্ণতা, বাস্তবসম্মত অভিনয় এবং গাম্ভীর্য গল্পকে আরও গভীর করেছে।
দর্শক এবং সমালোচকদের প্রশংসা ঝড়ে পড়েছে কারণ—
- অভির পরিমিত ও সংযত অভিনয়
- থ্রিলারধর্মী গল্পের সঙ্গে তাঁর স্ক্রিন প্রেজেন্স
- নন্দিতা-শিবপ্রসাদের দৃঢ় পরিচালনা
এই ট্রিলজি কার্যত প্রমাণ করেছে যে এই তিনজন একত্রে কাজ করলে বক্স অফিসে নতুন মাত্রা যোগ হয়।

বহুরূপী: মানবিক গল্পের শক্তিশালী পুনরাবৃত্তি
সাম্প্রতিক সাফল্য ‘বহুরূপী’ আবার প্রমাণ করেছে কেন এই ত্রয়ীর কাজ দর্শক এত ভালোবাসে। ছবিটিতে নন্দিতা-শিবপ্রসাদের গল্প বলার কৌশল এবং অভির গভীর, শান্ত ও সংবেদনশীল অভিনয় একে আরেককে পরিপূরক করেছে।
‘বহুরূপী’ বছরের অন্যতম জনপ্রিয় ছবি হয়ে ওঠে কারণ—
- গল্পের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি
- অভির চরিত্রে দৃঢ়তা ও মাধুর্য
- নির্মাতাদের বাস্তবধর্মী চিত্রনির্মাণ
এই ছবির মাধ্যমে এই ত্রয়ী আবারও প্রমাণ করেছে যে তাঁদের কাজ শুধু বিনোদন নয়, বরং বাংলা সিনেমার ভবিষ্যৎ গঠনেরও দিশা দেখায়।
নন্দিতা-শিবপ্রসাদের মন্তব্য: সহযোগিতার আসল রসায়ন
তাঁরা বলেন—
“অভির সঙ্গে কাজ করা খুব সহজ কারণ সে প্রতিটি চরিত্রে সততা, বুদ্ধিমত্তা এবং আবেগ ঢেলে দেয়। আমরা তার শক্তিগুলো জানি, আর সে আমাদের ভাবনাকে নিখুঁতভাবে বুঝে। অভির উপস্থিতি যে কোনো গল্পকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যায়।”
এটি স্পষ্ট, তাঁদের মধ্যে তৈরি হয়েছে এমন একটি সম্পর্ক যেখানে বিশ্বাস, শিল্পের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং পারস্পরিক সম্মানই সাফল্যের মূল চালিকা শক্তি।
অভির জন্মদিনে আজ শুধু তাঁর তারকাখ্যাতি নয়— বরং নন্দিতা-শিবপ্রসাদের সঙ্গে তাঁর অন্তর্দৃষ্টি-নির্ভর সৃজনশীল যাত্রাকেও তাৎপর্য সহকারে মনে করা জরুরি। ‘মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি’ থেকে ‘রক্তবীজ ২’— প্রতিটি কাজ তাঁদের জুটিকে আরও শক্তিশালী করেছে।
দর্শকরা স্বাভাবিকভাবেই অপেক্ষায় রয়েছেন— এই সফল ত্রয়ী আর কী নিয়ে আসছেন সামনে?
👉 আপনি যদি অভির অভিনয়ের ভক্ত হন, অবশ্যই নিচে কমেন্টে জানান কোন চলচ্চিত্রে তাঁর পারফরম্যান্স আপনার সবচেয়ে প্রিয়!
👉 আর্টিকেলটি শেয়ার করুন যাতে আরও সিনেমাপ্রেমী পাঠকরা এই তথ্য জানতে পারেন।






