রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে, তৃণমূলের প্রত্যেক কর্মী যেন দলের আদর্শেই নিজেকে বিলিয়ে দেয়—ভার্চুয়াল বৈঠকে সেই বার্তাই আরও একবার স্পষ্ট করে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলকে গুছিয়ে নিতে এবং সংগঠনকে আরও দৃঢ় ভিত্তি দিতে এই বৈঠক আয়োজন করেন তিনি। ভার্চুয়াল মাধ্যমে রাজ্যজুড়ে দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একদিকে যেমন ‘আমি-তুমি’ রাজনীতির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তেমনই কমিশনের বিএলওদের কার্যকলাপ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিষেক।
“সবাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিক, কেউ বড় বা ছোট নয়”
বৈঠকে অভিষেক স্পষ্ট বলেন,
“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে দায়িত্ব দিচ্ছেন, তা আমিও পালন করব, আপনিও করবেন। এখানে আলাদা করে কেউ বড় বা ছোট নয়। এটাই তৃণমূলের শৃঙ্খলা।”
তিনি দলীয় গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং ‘আমি-তুমি’ রাজনীতিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, এই ধরনের মনোভাব দলের ভবিষ্যতের পক্ষে ক্ষতিকর এবং দল এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে।
কমিশনের ভূমিকা নিয়ে শঙ্কা, বিএলওদের ‘চিহ্নিত’ করার নির্দেশ
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও এদিন মুখ খোলেন অভিষেক। বিহারে যেভাবে ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, সেই প্রসঙ্গ টেনে বাংলায় একই ধরনের চক্রান্তের আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন—
“বিজেপির নেতারা বলছে, ১ কোটি নাম বাদ যাবে। আমি বলছি, একজনের নাম বাদ দিয়ে দেখাক। তারপরে বাংলায় পা দিয়ে দেখাক।”
তিনি দলের অঞ্চল সভাপতিদের নির্দেশ দেন, সন্দেহজনক বিএলওদের সম্পর্কে জেলা সভাপতিদের জানান এবং ৩১ আগস্টের মধ্যে এমন কর্মীদের চিহ্নিত করতে বলেন।
ভাষা, জাতি ও রাজনীতির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান
বাংলা ভাষাকে ‘বাংলাদেশি’ বলা এবং অন্য রাজ্যে বাঙালিদের উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর ডাক দেন অভিষেক। পাশাপাশি, তিনি দলের সকল স্তরের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বার্তা দেন—
“আজকের দিনে আমাদের একটাই লক্ষ্য হওয়া উচিত—২০২৬-এ ভোটে বিজেপির জামানত জব্দ করা।”
‘আমার পাড়া, আমাদের সমাধান’ কর্মসূচির সাফল্য ও বার্তা
২ আগস্ট থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে ‘আমার পাড়া, আমাদের সমাধান’ কর্মসূচি। প্রথম দু’দিনেই প্রায় সাড়ে চার লক্ষ মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।
অভিষেক দলের সাংসদ, বিধায়ক ও নেতৃত্বদের নির্দেশ দিয়েছেন, সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে এবং এলাকায় গিয়ে এই কর্মসূচি প্রচার করতে।
“বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলতে হবে, কেন্দ্র টাকা বন্ধ করলেও, তৃণমূল সরকার উন্নয়ন বন্ধ করেনি। বিজেপি সরকার বাংলাকে ভাতে মারতে চাইছে, তবু আমরা কাজ করছি।”
ভবিষ্যতের ভোট যুদ্ধের প্রস্তুতি এখনই
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট বলেন, ২০২৬ সালের ভোটে বিজেপিকে হারাতে গেলে এখন থেকেই সংগঠনকে মজবুত করতে হবে। তৃণমূলের বিধায়কদের উদ্দেশ্যে বার্তা—
“মানুষের পাশে থাকুন, কথা শুনুন। আগামী ভোটে আপনাদেরই লড়তে হবে।”






