পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় ফের বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। বুধবার, ২৬ আগস্ট উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ফলে দিনের বিভিন্ন সময়ে আবহাওয়া দ্রুত বদলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৬ আগস্ট উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনও উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির প্রবণতা বজায় থাকতে পারে।
দক্ষিণবঙ্গের ছবিটা তুলনামূলকভাবে আলাদা। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও বজ্রপাত এবং দমকা হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। অর্থাৎ কলকাতায় আজ মূল উদ্বেগ অত্যন্ত ভারী বৃষ্টি নয়, বরং মেঘলা আকাশ, আর্দ্রতা, হঠাৎ বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার পরিস্থিতি।
কলকাতার ক্ষেত্রে আবহাওয়া দফতরের শহরভিত্তিক পূর্বাভাসে ২৬ আগস্ট সাধারণত মেঘলা আকাশ এবং হালকা বৃষ্টির কথা বলা হয়েছে। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায় ২৮ ডিগ্রির কাছাকাছি থাকতে পারে। ২৭ আগস্ট বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির জের, নজরে জলপাইগুড়ি-আলিপুরদুয়ার

উত্তরবঙ্গেই আপাতত বৃষ্টির দাপট বেশি। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৬ আগস্ট উত্তরবঙ্গের সব জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও সব জায়গায় একই মাত্রার বৃষ্টি হবে না, পাহাড়ি ও সংলগ্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টির ফলে স্থানীয়ভাবে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে।
বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় অতিবৃষ্টির সময় রাস্তা পিচ্ছিল হওয়া, ছোট নদী ও ঝোরার জল বাড়া এবং দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি পথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে আবহাওয়ার সর্বশেষ আপডেট দেখে বেরোনোই নিরাপদ।
উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, বৃষ্টি শুধু আজকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা নেই। ২৭ ও ২৮ আগস্টও বিভিন্ন জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ২৯ ও ৩০ আগস্ট আবার জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, কালিম্পং এবং আলিপুরদুয়ারের কিছু জায়গায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তাই খোলা মাঠ, নদীর ধারে বা উঁচু গাছের নিচে অবস্থান না করার পরামর্শ মানা জরুরি। কৃষিজমিতে কাজ করা মানুষদেরও বজ্রপাতের সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
উত্তরবঙ্গের নদী ও পাহাড়ি জলধারাগুলির ক্ষেত্রেও নজর রাখা প্রয়োজন। একটানা বৃষ্টি হলে স্থানীয় জলস্তর বাড়তে পারে। ফলে নদী তীরবর্তী ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের প্রশাসনের সতর্কবার্তার দিকে নজর রাখা উচিত।
দক্ষিণবঙ্গে আজ কেমন থাকবে আবহাওয়া? কলকাতার বৃষ্টির ছবিটাই বা কী?

দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও আজ উত্তরবঙ্গের মতো সর্বত্র ভারী বৃষ্টির পরিস্থিতি নেই। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। কিছু এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
কলকাতার জন্য আজকের আবহাওয়ার মূল ছবি হল মেঘলা আকাশ এবং বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি। শহরভিত্তিক পূর্বাভাসে ২৬ আগস্ট হালকা বৃষ্টির কথা বলা হয়েছে। ফলে দিনের কোনও একটি সময়ে আচমকা বৃষ্টি নামলেও পরে আবার বৃষ্টি থেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে মেঘলা আকাশ দেখেই যে সারাদিন বৃষ্টি হবে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বর্ষাকালে কলকাতার আবহাওয়ায় স্থানীয় মেঘের সঞ্চার এবং বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তনের কারণে অল্প সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। অফিসযাত্রী ও বাইরে বেরোনো মানুষদের তাই ছাতা সঙ্গে রাখা সুবিধাজনক।
কলকাতায় আজ তাপমাত্রা খুব বেশি বাড়ার সম্ভাবনা নেই। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকতে পারে। তবে বৃষ্টির বিরতিতে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি তৈরি হতে পারে। বৃষ্টি নামলে সাময়িক স্বস্তি মিললেও আর্দ্রতা পুরোপুরি কমবে না।
কলকাতার বিভিন্ন নিচু এলাকায় ভারী বৃষ্টি হলে জল জমার প্রবণতা দেখা যায়। যদিও আজকের শহরভিত্তিক পূর্বাভাসে অতিভারী বৃষ্টির কোনও ইঙ্গিত নেই, তবু অল্প সময়ে বেশি বৃষ্টি হলে স্থানীয় জলজট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
শহরের যান চলাচলের ক্ষেত্রেও বৃষ্টির প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে অফিস ছুটির সময় বৃষ্টি হলে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে গাড়ির গতি কমে যেতে পারে। দুই চাকার যানবাহন চালকদের বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার সময় আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
আগামী ২৭ আগস্ট কলকাতায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শহরের পূর্বাভাসে ওই দিন ঝড়ো হাওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ আজকের তুলনায় আগামীকাল বজ্রসহ বৃষ্টির পরিস্থিতি কিছুটা বেশি সক্রিয় হতে পারে।
দক্ষিণবঙ্গের কোন কোন জেলায় নজর? বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস

দক্ষিণবঙ্গের ক্ষেত্রে ২৬ আগস্ট সব জেলাতেই কমবেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতরের বিশেষ বুলেটিনে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি অনেক জায়গায় হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ার মতো জেলাগুলিতে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে জেলার প্রতিটি অংশে একই পরিমাণ বৃষ্টি হবে না।
বিশেষ করে উপকূল ও দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সময় দমকা হাওয়া পরিস্থিতিকে অস্বস্তিকর করে তুলতে পারে। গত কয়েক দিনের আবহাওয়া ব্যবস্থার প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টি হয়েছে এবং নিম্নচাপের প্রভাব ধীরে ধীরে কমলেও বর্ষার কার্যকলাপ পুরোপুরি থামছে না।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৮ আগস্ট দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ ও ৩০-৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে দমকা হাওয়া হতে পারে। ২৯ আগস্টও বিভিন্ন জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলতে পারে। ৩০ আগস্ট দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরের এক-দুই জায়গায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
অর্থাৎ দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির প্রবণতা একেবারে শেষ হয়ে যাচ্ছে না। বরং কয়েক দিন ধরে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি চলতে পারে। কোথাও কয়েক ঘণ্টা টানা বৃষ্টি, আবার কোথাও অল্প সময়ের ঝড়-বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
এদিকে বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার পরিস্থিতির কথাও আবহাওয়া দফতরের বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়েছিল। সমুদ্রের পরিস্থিতির কারণে মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। উপকূলবর্তী মানুষদেরও আবহাওয়ার সরকারি আপডেট অনুসরণ করা প্রয়োজন।
বজ্রপাতের সময় সাধারণ মানুষের জন্য সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি। খোলা মাঠ, জলাশয়ের ধারে বা গাছের নিচে দাঁড়ানো এড়ানো উচিত। বৈদ্যুতিক খুঁটি বা অন্য উন্মুক্ত কাঠামোর কাছ থেকেও দূরে থাকা নিরাপদ।
আগামী কয়েক দিনে কি বৃষ্টি কমবে?
পশ্চিমবঙ্গে আগামী কয়েক দিন বৃষ্টির প্রবণতা সম্পূর্ণভাবে কমে যাওয়ার ইঙ্গিত এখনও নেই। ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের ২৬ আগস্টের সতর্কতা অনুযায়ী, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে ২৬ আগস্ট ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎ ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২৭ ও ২৮ আগস্টও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ আবহাওয়ার সক্রিয়তা থাকতে পারে। ২৯ থেকে ৩১ আগস্ট ফের ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে।
উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে ২৬ আগস্ট অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে এবং ২৭ ও ২৮ আগস্টও বৃষ্টির প্রবণতা বজায় থাকবে। ফলে পাহাড় ও ডুয়ার্স অঞ্চলে ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে স্থানীয় আবহাওয়ার আপডেট নিয়মিত দেখা গুরুত্বপূর্ণ।
সাধারণ মানুষের জন্য কী সতর্কতা?
বৃষ্টির সময়ে প্রয়োজন ছাড়া দীর্ঘ সময় বাইরে না থাকাই ভালো। রাস্তায় জল জমলে গাড়ি চালানোর সময় গতি কমাতে হবে। বজ্রপাতের সময়ে মোবাইল ব্যবহার নিয়ে প্রচলিত নানা ধারণার বদলে মূল সতর্কতা হল খোলা জায়গা এড়িয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা।
কৃষক ও মাঠে কাজ করা মানুষদের বজ্রপাতের পূর্বাভাস সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। নদী, পুকুর বা জলাশয়ের কাছাকাছি থাকা অবস্থায় হঠাৎ বজ্রপাত শুরু হলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হবে।
২৬ আগস্টের পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ার ছবিতে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি, আর দক্ষিণবঙ্গে কলকাতা-সহ বিভিন্ন জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
কলকাতায় আজ অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস না থাকলেও মেঘলা আকাশ, হালকা বৃষ্টি এবং আর্দ্র আবহাওয়া দিনভর অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। আগামীকাল বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় আবহাওয়ার পরিবর্তনের দিকে নজর রাখা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, বর্ষার এই পর্যায়ে পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া এখনও সক্রিয়। তাই উত্তরবঙ্গের ভারী বৃষ্টি হোক বা কলকাতার বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি—বাইরে বেরোনোর আগে সর্বশেষ আবহাওয়া আপডেট দেখে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।






