‘নেভারমাইন্ড’-এর ভিজ্যুয়াল জগৎই যেন ছবির আরেক প্রধান চরিত্র! আলো-ছায়ার আবহে তৈরি হচ্ছে নতুন সিনেম্যাটিক অভিজ্ঞতা

পরিচালক চৈতি ঘোষালের ‘নেভারমাইন্ড’ মুক্তির আগেই তার অনন্য ভিজ্যুয়াল ভাষার জন্য আলোচনায়। গোপী ভগতের সিনেমাটোগ্রাফি, দেবজ্যোতি ঘোষের কালার গ্রেডিং এবং সংযত নান্দনিকতায় তৈরি এই ছবি ৩ জুলাই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে।

Table of Contents

Share Our Blog Now :
Facebook
WhatsApp

বাংলা সিনেমায় গল্প, অভিনয় কিংবা সঙ্গীত নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। কিন্তু এমন কিছু ছবি রয়েছে, যেখানে ভিজ্যুয়াল ভাষাই গল্প বলার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে। সংলাপ শুরু হওয়ার আগেই রং, আলো, ছায়া এবং ফ্রেম দর্শকের মনে আবেগের বীজ বপন করে। সেই আবেগই সিনেমা শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন দর্শকের মনে থেকে যায়।

আগামী ৩ জুলাই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলা পরিচালক চৈতি ঘোষাল-এর নতুন ছবি ‘নেভারমাইন্ড’ (Nevermind) ইতিমধ্যেই সেই কারণেই বিশেষভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে। টিজার, ট্রেলার এবং প্রথম গান ‘ভায়োলেট বাড়ি’ (Violet Bari) প্রকাশের পর দর্শকদের মধ্যে ছবির রহস্যময় গল্পের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি প্রশংসা কুড়িয়েছে এর অসাধারণ ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা।

ছবির প্রতিটি ফ্রেমে রয়েছে এক অনন্য আবহ। কোথাও অতিরঞ্জিত চাকচিক্য নেই, নেই অপ্রয়োজনীয় রঙের ব্যবহার। বরং নীরবতা, সংযম এবং আবেগের সূক্ষ্ম প্রকাশই ‘নেভারমাইন্ড’-এর ভিজ্যুয়াল পরিচয়কে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। এই কারণেই ছবিটি মুক্তির আগেই বাংলা চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কৌতূহলের কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

চৈতি ঘোষাল, সিনেমাটোগ্রাফার গোপী ভগত এবং কালারিস্ট দেবজ্যোতি ঘোষ-এর সম্মিলিত শিল্পভাবনায় তৈরি হয়েছে এমন এক সিনেম্যাটিক বিশ্ব, যা একই সঙ্গে আধুনিক, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন এবং গভীরভাবে বাঙালিয়ানার আবহ বহন করে।


চৈতি ঘোষালের ভাবনায় নির্মিত এক স্বতন্ত্র ভিজ্যুয়াল ভাষা

যে কোনও বড় চলচ্চিত্রের ভিজ্যুয়াল পরিচয়ের সূচনা হয় পরিচালকের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। কোন দৃশ্যে কী ধরনের আলো থাকবে, কোন রঙ কী আবেগ প্রকাশ করবে কিংবা দর্শককে কীভাবে গল্পের ভেতরে টেনে নেওয়া হবে—সবকিছুর কেন্দ্রে থাকেন পরিচালক।

‘নেভারমাইন্ড’-এ চৈতি ঘোষাল সেই আত্মবিশ্বাসই দেখিয়েছেন। মূলধারার বাংলা বাণিজ্যিক ছবিতে যেখানে উজ্জ্বল রঙ, অতিরিক্ত গ্ল্যামার এবং চোখধাঁধানো ফ্রেমের ব্যবহার বেশি দেখা যায়, সেখানে তিনি বেছে নিয়েছেন সংযত এবং আবহময় ভিজ্যুয়াল নির্মাণ।

এই ছবিতে পরিবেশই যেন গল্পের অংশ। আলো-ছায়া, ফাঁকা জায়গা, নীরবতা এবং ক্যামেরার ধীর গতির ব্যবহার দর্শককে ধীরে ধীরে ছবির মানসিক জগতে প্রবেশ করায়।

এই সংযমই ছবিটিকে আন্তর্জাতিক সিনেমার সঙ্গে তুলনীয় করে তোলে। কারণ এটি কোনও বিদেশি ধারা অনুকরণ করে না; বরং এমন এক সর্বজনীন চলচ্চিত্রভাষা ব্যবহার করে, যা ভাষা ও সংস্কৃতির সীমা অতিক্রম করে আবেগকে পৌঁছে দেয় দর্শকের কাছে।


গোপী ভগতের ক্যামেরা ও দেবজ্যোতি ঘোষের কালার গ্রেডিংয়ে তৈরি রহস্যময় রাতের পৃথিবী

একজন দক্ষ সিনেমাটোগ্রাফার কেবল দৃশ্য ধারণ করেন না, তিনি আবেগও ধারণ করেন। ‘নেভারমাইন্ড’-এ গোপী ভগত সেই কাজটিই করেছেন অত্যন্ত সংযতভাবে।

ক্যামেরা কখনও অযথা নিজেকে প্রাধান্য দেয় না। বরং চরিত্র, পরিবেশ এবং মুহূর্তকে পর্যবেক্ষণ করে। ফলে প্রতিটি দৃশ্য স্বাভাবিক, বাস্তব এবং বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়।

ছবির আলোও কৃত্রিম বলে মনে হয় না। ঘরের বাতি, রাস্তার আলো কিংবা আশপাশের প্রাকৃতিক আলোকসজ্জা থেকেই যেন দৃশ্যের আবহ তৈরি হয়েছে। এর ফলে দর্শক অনুভব করেন, তাঁরা কোনও সাজানো সেট নয়, বাস্তব একটি জগতের ভেতরে প্রবেশ করেছেন।

এই ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে কালারিস্ট দেবজ্যোতি ঘোষের সূক্ষ্ম কালার গ্রেডিং। ছবির বেশিরভাগ অংশ জুড়ে রয়েছে নীল, টিল, ধূসর এবং নিয়ন্ত্রিত ছায়ার ব্যবহার।

এই ঠান্ডা রঙের প্যালেট রহস্য, নিঃসঙ্গতা এবং মানসিক অনিশ্চয়তার অনুভূতিকে আরও গভীর করে তোলে। একই সঙ্গে দর্শকের আবেগকে নির্দেশ না দিয়ে নিজস্ব ব্যাখ্যা তৈরি করার সুযোগও দেয়।


কেন ‘নেভারমাইন্ড’-এর ভিজ্যুয়াল স্টাইল হতে পারে বাংলা সিনেমার নতুন মানদণ্ড

‘নেভারমাইন্ড’-এর গল্পের বড় অংশই আবর্তিত হয়েছে একটি রাতকে কেন্দ্র করে। সেই সীমিত সময়ের মধ্যেই ছবিটি বাস্তবতা এবং স্মৃতির মাঝামাঝি এক মনস্তাত্ত্বিক জগত নির্মাণ করেছে।

এখানে অন্ধকার শুধুই আলোর অনুপস্থিতি নয়, বরং গল্প বলার অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। ছায়া যেমন রহস্য তৈরি করে, তেমনই চরিত্রগুলোর মানসিক অবস্থাও প্রতিফলিত করে।

টিজার ও ট্রেলারে যা দেখা গিয়েছে, তাতে স্পষ্ট—এই ছবি দর্শককে কী অনুভব করতে হবে, তা বলে দেয় না। বরং অনুভূতিগুলো আবিষ্কার করার সুযোগ দেয়।

সমসাময়িক সিনেমায় এই ধরনের ভিজ্যুয়াল সংযম বিরল। তাই ‘নেভারমাইন্ড’ শুধু গল্পের জন্য নয়, সিনেমাটিক ভাষার জন্যও বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।

চলচ্চিত্র ইতিহাসে অনেক ছবিই কোনও সংলাপ বা দৃশ্যের জন্য নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট রঙ, একটি আলোর ব্যবহার কিংবা একটি আবহের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকে। ‘নেভারমাইন্ড’ সেই তালিকায় নিজের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করতে পারবে কি না, তার উত্তর মিলবে মুক্তির পর। তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশিত সমস্ত প্রচারসামগ্রী সেই সম্ভাবনাকেই আরও জোরালো করেছে।


চৈতি ঘোষালের পরিচালনায় নির্মিত ‘নেভারমাইন্ড’ এমন একটি চলচ্চিত্র, যেখানে ভিজ্যুয়াল নান্দনিকতা শুধুমাত্র সৌন্দর্যের উপকরণ নয়, বরং গল্প বলার অন্যতম প্রধান ভাষা। গোপী ভগতের সংযত সিনেমাটোগ্রাফি এবং দেবজ্যোতি ঘোষের সূক্ষ্ম কালার গ্রেডিং ছবিটিকে দিয়েছে এক অনন্য আবহ, যা বাংলা সিনেমায় নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে।

আগামী ৩ জুলাই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘নেভারমাইন্ড’ দর্শকদের কাছে শুধুমাত্র একটি গল্প নয়, বরং আলো, ছায়া, রঙ এবং অনুভূতির এক পূর্ণাঙ্গ সিনেম্যাটিক অভিজ্ঞতা উপহার দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে।

RELATED Articles :
আইএফএ শিল্ডে ক্যালকাটা কাস্টমসের বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গল ফুটবল দলের ম্যাচের দৃশ্য
কলকাতা

আকাশের দাপটে কাস্টমসকে হারিয়ে শিল্ডে ইস্টবেঙ্গলের জয়যাত্রা শুরু

ক্যালকাটা কাস্টমসকে ৩-১ গোলে হারিয়ে আইএফএ শিল্ড ২০২৬-এ জয় দিয়ে অভিযান শুরু করল ইস্টবেঙ্গল। রিকি ঘরামির গোলে পিছিয়ে পড়েও রোহিত কুমার, রোহিত দানু ও আক্রমণভাগের দাপটে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় লাল-হলুদ।

Read More »
বনেদি থেকে বারোয়ারি পুজো ঘুরে দেখুন আপনিও
কলকাতা

সরকারি বাসে-ট্রামে-লঞ্চে পুজো পরিক্রমা, বনেদি থেকে বারোয়ারি পুজো ঘুরে দেখুন আপনিও

দুর্গাপুজো ২০২৬-এ সরকারি বাস, এসি ট্রাম ও লঞ্চে পুজো পরিক্রমার সুযোগ। বনেদি বাড়ি থেকে জনপ্রিয় বারোয়ারি পুজো, শোভাবাজার রাজবাড়ি থেকে বাগবাজার—জেনে নিন রুট, ভাড়া, সময়সূচি ও বুকিংয়ের তথ্য।

Read More »
পশ্চিমবঙ্গের একটি মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতীকী ছবি
কলকাতা

পশ্চিমবঙ্গে মাদ্রাসা নিয়ে বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ, ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ২৫০ প্রতিষ্ঠানে সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা

পশ্চিমবঙ্গে মাদ্রাসা নিয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপ আরও বাড়ছে। ২৫২টি প্রতিষ্ঠানকে বন্ধের নোটিস ও প্রায় ১০০টিকে শোকজের পর কম ছাত্রসংখ্যা ও পরিকাঠামোর ঘাটতি থাকা আরও প্রায় ২৫০টি মাদ্রাসা নিয়ে ডিসেম্বরের মধ্যে সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অনুমোদন, নথিপত্র ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

Read More »
কলকাতায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘোষণা করছেন গৌতম আদানি
কলকাতা

অদানির বড় ঘোষণা: বাংলায় ২০৩৫-এর মধ্যে ১ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ, পাশে মুখ্যমন্ত্রী

পশ্চিমবঙ্গে ২০৩৫ সালের মধ্যে ১ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের রোডম্যাপ ঘোষণা করল আদানি গোষ্ঠী। বন্দর, লজিস্টিক্স, বিদ্যুৎ, রাস্তা, সবুজ সিমেন্ট ও ডেটা সেন্টারের পাশাপাশি নিউ টাউনে ৪,০০০ কোটির বেশি টাকায় ২,০০০ শয্যার আদানি আরোগ্য মন্দির গড়ে উঠবে।

Read More »
তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের CEC জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে FIR ও তদন্তের দাবিকে কেন্দ্র করে SIR বিতর্কের খবর; ছবিতে মহুয়া মৈত্র, নির্বাচন কমিশন, ভোটার তালিকা ও Form 6-এর নথি এবং জ্ঞানেশ কুমারের ছবি রয়েছে।
কলকাতা

SIR বিতর্কে CEC জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে মহুয়া মৈত্রের অভিযোগ, FIR চাইলেন

SIR বিতর্কে নতুন মোড়। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় CEC জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা দিয়ে FIR ও তদন্তের দাবি করেছেন। ভোটার তালিকা, Form 6 এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে তাঁর অভিযোগের পাল্টা বক্তব্যও দিয়েছে কমিশন।

Read More »
রবিবার খুলবে ব্যাংক,
কলকাতা

রবিবার খুলবে ব্যাংক, ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে টানা ৩ দিনের ধর্মঘট: গ্রাহকদের জন্য কী জানা জরুরি

সরকারি খাতের ব্যাংক ও আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাংক ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার খোলা থাকবে ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া তিন দিনের দেশব্যাপী ধর্মঘটের আগে। গ্রাহক ভোগান্তি কমানো এবং জরুরি ব্যাংকিং কাজ আগেভাগে সম্পন্ন করার সুযোগ দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পাঁচ দিনের ব্যাংকিং সপ্তাহের দাবিতে ইউনিয়নগুলির আন্দোলনও জোরদার হচ্ছে।

Read More »
error: Content is protected !!