বাংলার জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র একেনবাবু আবারও বড় পর্দায় ফিরতে চলেছেন, আর সেই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে প্রবল উত্তেজনা। শুক্রবার এক অভিনব ও নাটকীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে hoichoi Studios আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করল বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘The Eken: Kerala-e Kurukshetra’-এর তারকাবহুল কাস্ট। রহস্য, সংস্কৃতি এবং নাটকীয়তার মিশেলে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠান একেনবাবুর স্বভাবসুলভ বৈশিষ্ট্যকেই যেন নতুনভাবে তুলে ধরল দর্শকদের সামনে।

বিগত কয়েক বছরে বাংলা বিনোদন জগতে একেনবাবু একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছে। বুদ্ধিদীপ্ত তদন্ত, সূক্ষ্ম হাস্যরস এবং সাধারণ চেহারার আড়ালে অসাধারণ বিশ্লেষণী ক্ষমতা—এই সবকিছুর সমন্বয়ে চরিত্রটি দর্শকদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় হয়ে উঠেছে। ফলে নতুন ছবির ঘোষণা ঘিরে আগ্রহ ছিল তুঙ্গে।
এই নতুন অধ্যায়ে আবারও একেনবাবুর ভূমিকায় দেখা যাবে অনির্বাণ চক্রবর্তীকে। তাঁর সঙ্গে ফিরছেন ফ্র্যাঞ্চাইজির পরিচিত মুখ সুহোত্র মুখোপাধ্যায় (বাপি) এবং সোমক ঘোষ (প্রমথ)। তবে এবার গল্পের পরিসর যেমন বেড়েছে, তেমনই বেড়েছে তারকাদের উপস্থিতিও।
নতুন ছবিতে যুক্ত হয়েছেন ঋত্বিক চক্রবর্তী, রাইমা সেন, কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়, অম্বরীশ ভট্টাচার্য, অর্ণ মুখোপাধ্যায় এবং সুব্রত দত্ত। এই শক্তিশালী কাস্টিং ইতিমধ্যেই ছবিটিকে দুর্গাপুজো ২০২৬-এর অন্যতম আলোচিত বাংলা চলচ্চিত্রে পরিণত করেছে।
মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে ছিল চমক


অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ছিল কাস্ট উন্মোচনের অভিনব পদ্ধতি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিল্পীরা বিশেষভাবে নির্মিত মুখোশ পরে মঞ্চে আসেন। এই মুখোশগুলির নকশায় কেরলের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং শাস্ত্রীয় শিল্পকলার ছাপ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছিল।
এক এক করে মুখোশ খুলে শিল্পীদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়। প্রতিটি মুহূর্তে উপস্থিত দর্শক এবং গণমাধ্যম কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। রহস্যময় পরিবেশ এবং নাটকীয় উপস্থাপনা যেন ছবির মূল সুরকেই তুলে ধরে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অনির্বাণ চক্রবর্তী, ঋত্বিক চক্রবর্তী, রাইমা সেন, সুহোত্র মুখোপাধ্যায়, সুব্রত দত্ত, অর্ণ মুখোপাধ্যায় এবং পরিচালক জয়দীপ মুখোপাধ্যায়। তাঁরা একসঙ্গে ছবির পরবর্তী অধ্যায় সম্পর্কে দর্শকদের প্রথম ঝলক দেখান।
hoichoi Studios-এর এই অভিনব প্রচার কৌশল ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। বাংলা সিনেমায় কাস্ট ঘোষণার ক্ষেত্রে এমন থিয়েট্রিক্যাল উপস্থাপনা খুব কমই দেখা যায়। ফলে অনুষ্ঠানটি শুধু একটি প্রেস ইভেন্ট হয়ে থাকেনি, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছে।
কেরলের পটভূমিতে একেনবাবুর সবচেয়ে বড় অভিযান


পরিচালক জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় নির্মিত এই ছবির গল্প রচনা করেছেন প্রয়াত সুজন দাশগুপ্ত। চিত্রনাট্য লিখেছেন পদ্মনাভ দাশগুপ্ত। নির্মাতাদের দাবি, এটি একেন ফ্র্যাঞ্চাইজির সবচেয়ে বড় এবং উচ্চাভিলাষী প্রজেক্ট হতে চলেছে।
গল্পের পটভূমি কেরল। ভারতের অন্যতম সুন্দর রাজ্যের মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য, ব্যাকওয়াটার, ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি এবং রহস্যময় পরিবেশকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হবে ছবির কাহিনি।
একেনবাবুকে এবার এমন এক তদন্তে নামতে হবে, যা তাঁর পূর্ববর্তী সমস্ত অভিযানের তুলনায় অনেক বেশি জটিল এবং বিপজ্জনক। রহস্যের জাল যত গভীর হবে, ততই সামনে আসবে নতুন সূত্র, ষড়যন্ত্র এবং অপ্রত্যাশিত মোড়।
ছবিতে থাকবে রহস্য, সাসপেন্স, অ্যাকশন, অ্যাডভেঞ্চার এবং একেনবাবুর স্বাক্ষর হাস্যরস। ফলে পারিবারিক দর্শক থেকে শুরু করে থ্রিলারপ্রেমী—সব ধরনের দর্শকদের জন্য ছবিটি আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা।
বর্তমানে বাংলা চলচ্চিত্রে গোয়েন্দা গল্পের জনপ্রিয়তা ক্রমশ বাড়ছে। সেই প্রেক্ষাপটে কেরলের মতো ভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশে একেনবাবুর অভিযান নিঃসন্দেহে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
তারকাদের প্রত্যাশা ও দুর্গাপুজো ২০২৬-এর বড় চমক


অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অনির্বাণ চক্রবর্তী জানান, দর্শকদের ভালোবাসাই একেনবাবুর সাফল্যের সবচেয়ে বড় কারণ। তাঁর কথায়, প্রতিটি ছবিই চরিত্রটিকে নতুনভাবে আবিষ্কারের সুযোগ দিয়েছে, কিন্তু এবার গল্পের ব্যাপ্তি এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষা আগের সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, দর্শকরা এবার একেবারে নতুন এক জগতে প্রবেশ করবেন, যেখানে একেনবাবুকে দেখা যাবে ভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে।
অন্যদিকে পরিচালক জয়দীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, তাঁরা চেয়েছিলেন কাস্ট রিভিল অনুষ্ঠানটিও যেন ছবির মেজাজকে প্রতিফলিত করে। তাই রহস্য, বিনোদন এবং সাংস্কৃতিক উপাদানের সমন্বয়ে এমন উপস্থাপনা পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
পরিচালকের মতে, কেরল এই ছবির গল্পে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে একেনবাবুর পরিচিত হাস্যরস এবং মানবিক উষ্ণতা বজায় রেখেই ফ্র্যাঞ্চাইজির পরিসরকে আরও বড় করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে ছবির শুটিং শুরু হবে। কেরলের বিভিন্ন মনোরম লোকেশনে বিস্তৃত শুটিংয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে ভিজ্যুয়াল স্কেল এবং প্রোডাকশন ভ্যালুর দিক থেকেও এটি ফ্র্যাঞ্চাইজির অন্যতম বড় ছবি হতে চলেছে।

বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্রগুলির মধ্যে একেনবাবুর অবস্থান আজ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁর সরলতা, তীক্ষ্ণ বুদ্ধি এবং অদ্ভুত তদন্ত পদ্ধতি বহু দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। ‘The Eken: Kerala-e Kurukshetra’ সেই জনপ্রিয়তাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তারকাখচিত কাস্ট, কেরলের মনোমুগ্ধকর পটভূমি, বৃহত্তর গল্পের পরিসর এবং রহস্যে ভরপুর কাহিনি—সব মিলিয়ে দুর্গাপুজো ২০২৬-এ বাংলা সিনেমাপ্রেমীদের জন্য এটি হতে পারে অন্যতম বড় আকর্ষণ। এখন শুধু অপেক্ষা, একেনবাবুর নতুন অভিযানের পর্দা ওঠার।






