২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডার প্রকাশ করল নবান্ন। তালিকা সামনে আসতেই কর্মজীবী মানুষদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কারণ একদিকে যেমন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উৎসব ও দিবস সপ্তাহের মাঝামাঝি পড়েছে, অন্যদিকে অন্তত আটটি সরকারি ছুটি শনিবার-রবিবারে পড়ে নষ্ট হতে চলেছে।
অনেকেই জানেন, প্রতি বছর ছুটির ক্যালেন্ডার নিয়ে উত্তেজনা থাকে। দীর্ঘ সপ্তাহান্ত বা ‘লং উইকএন্ড’-এর সংখ্যা যত বেশি, ততই ভ্রমণের পরিকল্পনা, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানো বা ছোটখাটো রিল্যাক্সেশনের সুযোগ তৈরি হয়। ২০২৬-এর ক্যালেন্ডারেও সেই প্রত্যাশা ছিল।
কিন্তু নতুন তালিকা দেখাচ্ছে, বেশ কিছু বড় উৎসবের ছুটি মিলছে না। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী কয়েকটি দীর্ঘ ছুটি পাওয়া গেলেও সংখ্যায় কম। আর নষ্ট হওয়া ছুটির তালিকা বরং বড়। কর্মজীবী মানুষদের কাছে যা হতাশার কারণ।
২০২৬ সালে কোন কোন দিনে ছুটি নষ্ট? কোন কোন দিনে মিলছে লম্বা ছুটি? আর কবে কবে থাকছে লং উইকএন্ড? নবান্নের প্রকাশিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বিশদ বিশ্লেষণ রইল নিচে।
২০২৬ সালে কোন কোন ছুটি নষ্ট হতে চলেছে? তালিকায় অন্তত আটটি দিন

নবান্নের প্রকাশিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ২০২৬ সালে কমপক্ষে ৮টি সরকারি ছুটি শনিবার বা রবিবারে পড়ছে। ফলে সরকারি কর্মীরা সেসব দিনের জন্য আলাদা ছুটি পাবেন না।
নষ্ট হওয়া প্রধান ছুটিগুলি—
- সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিন — ২৩ জানুয়ারি, শুক্রবারের পরে শনিবার
- গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী — রবিবার
- মহরম — রবিবার
- মহালয়া — রবিবার
- দোলযাত্ৰা — শনিবার
- বিজয়া দশমী — রবিবার
- ইস্টার সানডে — রবিবার (স্বাভাবিকভাবেই নষ্ট)
- ভালেন্টাইনস ডে সপ্তাহান্ত — যদিও সরকারি ছুটি নয়, তবু সপ্তাহান্তে পড়ায় দীর্ঘ বিরতির সুযোগ থাকছে না
এই নষ্ট হওয়া ছুটিগুলি কর্মীদের জন্যই কেবল নয়— শিক্ষাঙ্গন, ব্যাঙ্কিং সেক্টর ও বেসরকারি সংস্থার অনেক কর্মীও একই সমস্যার মুখে পড়বেন।
নবান্নের একটি সূত্র মতে, ছুটি সপ্তাহান্তে পড়া প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তবে প্রয়োজনে বিশেষ পরিস্থিতিতে বাড়তি ছুটি ঘোষণা করা হতে পারে—যদিও সেটা সম্পূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।
২০২৬ সালে লম্বা ছুটি কতগুলি? কবে মিলছে লং উইকএন্ড?
২০২৬ সালের ক্যালেন্ডারে লম্বা ছুটি কম হলেও, পুরোপুরি নেই তা নয়। পরিকল্পনা মতো ছুটি কাটানো যাবে কয়েকটি সময়ে।
লম্বা সপ্তাহান্তের তালিকা:
১. ২৩–২৫ জানুয়ারি
সুভাষজয়ন্তী (২৩ জানুয়ারি শুক্রবার) → ২৪-২৫ সপ্তাহান্ত
→ ৩ দিনের ছুটি
২. ১৪–১৬ আগস্ট
স্বাধীনতা দিবস শনিবার → রবিবারের সঙ্গে মিলিয়ে
→ ২ দিনের স্বস্তি, সঙ্গে শুক্রবার একদিন ছুটি নিলে মোট ৩ দিন
৩. দুর্গাপুজো সপ্তাহ
শারদোৎসবের ছুটি যথারীতি দীর্ঘ, যদিও বাদ পড়ছে বিজয়া দশমী (রবিবার)
→ তবে মহাষ্টমী থেকে মহা নবমী পর্যন্ত টানা ছুটি পাওয়ার সম্ভাবনা
৪. বড়দিন সপ্তাহান্ত (২৫–২৭ ডিসেম্বর)
বড়দিন বৃহস্পতিবার হলে শুক্রবার ছুটি নিয়ে
→ ৪ দিনের লম্বা বিরতি
যদিও অন্য বছরগুলির তুলনায় লং উইকএন্ড অনেক কম, তবুও সচেতনভাবে পরিকল্পনা করলে মানুষ কিছুটা সময় বের করতে পারবেন।
নবান্নের বক্তব্য— ক্যালেন্ডার ‘স্বাভাবিক’, তবু অসন্তোষ বাড়ছে কেন?

সরকারি দফতরের দাবি, ছুটি বছরের ক্যালেন্ডারের ওপর নির্ভর করে।
উৎসব, পূজা, জাতীয় দিবস বা আচার-অনুষ্ঠান যেদিন পড়ে, সেদিনই ছুটি রাখতে হয়। ফলে ছুটি সপ্তাহান্তে পড়লে তা নিয়ে আলাদা ব্যবস্থা গ্রহণ সাধারণত হয় না।
কিন্তু, সাধারণ মানুষের অসন্তোষের জায়গা অন্যত্র—
- বছরের বেশিরভাগ বড় দিনই সপ্তাহান্তে পড়ছে
- পরপর বহু কম্বিনেশন ছুটি নেই
- ভ্রমণ পরিকল্পনা কমে যাচ্ছে
- কর্মচাপের সঙ্গে মানসিক বিশ্রাম কমছে
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক কর্মজীবনে দীর্ঘ সপ্তাহান্তের সংখ্যা মানুষের উৎপাদনশীলতার উপর বড় প্রভাব ফেলে। উল্টোভাবে, বেশি কাজের চাপ ও কম ছুটি মানসিক ক্লান্তি বাড়াতে পারে।
শিক্ষাবিদরা আরও বলছেন, স্কুল-কলেজের ক্যালেন্ডারেও এর প্রভাব পড়বে।
যেহেতু অনেক উৎসব রবিবারে, ফলে বিশেষ ক্লাস বা অনুষ্ঠান করার সুযোগও কমে যাবে।
২০২৬ সালের ছুটির ক্যালেন্ডার প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার—এবার ছুটির ভাগ্য কর্মজীবীদের খুব একটা সহায় হচ্ছে না। আটটি গুরুত্বপূর্ণ ছুটি সপ্তাহান্তে পড়ায় সেগুলি কার্যত নষ্ট। লম্বা সপ্তাহান্তও হাতে গোনা।
তবু পরিকল্পনা করে ছোট বিরতি নেওয়া সম্ভব। বছরের শুরুতেই ছুটির তালিকা দেখে ভ্রমণের পরিকল্পনা, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো বা নিজের বিশ্রামের দিন সাজিয়ে নেওয়াই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ।
ছুটি কম হলেও বছরটা কীভাবে কাটবে, তা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে সময় ব্যবস্থাপনার উপর।






