টলিউডের অন্যতম সফল পরিচালক জুটি নন্দিতা রায় এবং শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আগামী ছবি ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’ নিয়ে দর্শকদের উন্মাদনা তুঙ্গে। সম্প্রতি এই ছবির নির্মাতারা এক নতুন চমক উপহার দিয়েছেন। প্রকাশ্যে এসেছে জনপ্রিয় অভিনেতা সাহেব চট্টোপাধ্যায়ের ফার্স্ট লুক। ছবিতে তিনি অভিনয় করছেন ‘যোগেন্দ্র’ নামক এক অত্যন্ত প্রভাবশালী চরিত্রে।
প্রকাশিত পোস্টারে সাহেব চট্টোপাধ্যায়কে এক রাজকীয় সিংহাসনে বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে। তাঁর অবয়বে ফুটে উঠেছে গাম্ভীর্য এবং আভিজাত্যের এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ। হাতে ভারি আংটি, গলায় সূক্ষ্ম চেইন এবং ট্র্যাডিশনাল ধুতি-পাঞ্জাবিতে তাঁকে দেখে মনে হচ্ছে, ছবির গল্পে যোগেন্দ্র চরিত্রটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করতে চলেছে।
উইন্ডোজ প্রোডাকশনের এই নতুন নিবেদনটি আগামী মে মাসে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। গ্রীষ্মের ছুটির আমেজে প্রতি বছরই নন্দিতা-শিবপ্রসাদ জুটি বিশেষ কোনো গল্প নিয়ে হাজির হন। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। সাহেবের এই লুক প্রকাশের পর থেকেই সিনেমা প্রেমীদের মধ্যে জল্পনা শুরু হয়েছে যে, যোগেন্দ্র কি এই গল্পের হিরো, না কি নেপথ্যের কোনো রহস্যময় কারিগর?
এর আগে ‘গোত্র’ কিংবা ‘ব্রহ্মা জানেন গোপন কম্মটি’-র মতো সফল ছবিতে সাহেবের অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। তবে এবারের অবতারটি সম্পূর্ণ আলাদা। আভিজাত্য এবং কর্তৃত্বের এক অন্য মাত্রা যোগ করেছেন তিনি এই লুকে। চলুন দেখে নেওয়া যাক, যোগেন্দ্র চরিত্রটি কেন ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’ ছবির তুরুপের তাস হতে চলেছে।
আভিজাত্যের মোড়কে যোগেন্দ্র: সাহেবের রাজকীয় অবতার
সাহেব চট্টোপাধ্যায়ের এই নতুন লুকটি কেবল রাজকীয় নয়, বরং তাঁর পোশাক এবং সাজসজ্জার প্রতিটি পরতে রয়েছে আভিজাত্যের ছোঁয়া। জলপাই রঙের হালকা কাজ করা কুর্তা এবং সাদা ধুতিতে তাঁকে এক জমিদারসুলভ আভিজাত্যে দেখা যাচ্ছে। ব্যাকগ্রাউন্ডে থাকা কারুকার্য খচিত সিংহাসন এবং পুরনো দিনের আসবাবপত্রের আবহ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ছবিটি কোনো ঐতিহ্যবাহী পরিবারের পটভূমিতে তৈরি।

এই লুকে সাহেবের চোখের চাহনি অত্যন্ত তীক্ষ্ণ এবং আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। কোনো উচ্চকণ্ঠ ছাড়াই যে ব্যক্তিত্ব দিয়ে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করা যায়, যোগেন্দ্র চরিত্রটি যেন তারই প্রতিফলন। মেকআপ এবং কস্টিউম ডিজাইনের ক্ষেত্রে যে বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়েছে, তা পোস্টারটি দেখলেই স্পষ্ট বোঝা যায়। বিশেষ করে পায়ে কালো রঙের ক্ল্যাসিক জুতো এবং শান্ত অথচ দৃপ্ত বসার ভঙ্গি চরিত্রটিকে এক অনন্য উচ্চতা দিয়েছে।
নন্দিতা-শিবপ্রসাদ ম্যাজিক: আরও একবার গ্রীষ্মকালীন ধামাকা
উইন্ডোজ প্রোডাকশন এবং পরিচালক জুটি নন্দিতা রায়-শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় মানেই সম্পর্কের এক নতুন রসায়ন। তাদের প্রতিটি ছবিতেই সামাজিক বার্তার পাশাপাশি পরিবারের বিভিন্ন দিক উঠে আসে। ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’ ছবিটির ক্ষেত্রেও একটি এনসেম্বল কাস্ট বা একগুচ্ছ দক্ষ অভিনেতাকে ব্যবহার করা হয়েছে। সাহেব চট্টোপাধ্যায় সেই তালিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম।
যোগেন্দ্র চরিত্রটির সাথে গল্পের অন্যান্য চরিত্রের সম্পর্ক ঠিক কেমন হবে, তা নিয়ে এখনও রহস্য বজায় রেখেছেন নির্মাতারা। তবে সাহেবের এই গাম্ভীর্যপূর্ণ লুক দেখে মনে করা হচ্ছে, তিনি গল্পের এমন একজন সদস্য যাঁর সিদ্ধান্ত পরিবারের অন্যদের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। উইন্ডোজের ছবিতে চরিত্রগুলো সবসময়ই রক্ত-মাংসের মানুষ হিসেবে ফুটে ওঠে, তাই যোগেন্দ্রকে নিয়েও দর্শকদের প্রত্যাশা অনেক।
সাহেব চট্টোপাধ্যায়ের বিবর্তন: ‘গোত্র’ থেকে ‘যোগেন্দ্র’
সাহেব চট্টোপাধ্যায় বরাবরই তাঁর শান্ত ও মার্জিত অভিনয়ের জন্য পরিচিত। তবে ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’-এ যোগেন্দ্র হিসেবে তাঁর আত্মপ্রকাশ তাঁর অভিনয় জীবনে এক নতুন মোড় হতে পারে। সাহেবের ক্যারিয়ারের গ্রাফ লক্ষ্য করলে দেখা যায়, তিনি রোমান্টিক হিরো থেকে শুরু করে জটিল মনস্তাত্ত্বিক চরিত্র—সবই নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
যোগেন্দ্রর মতো একটি ভারি চরিত্রে তাঁকে নির্বাচন করা পরিচালকদের মুন্সিয়ানার পরিচয় দেয়। পোস্টারটিতে যে ‘কোয়াইট ইনটেনসিটি’ বা শান্ত তীব্রতা দেখা যাচ্ছে, তা সাহেবের অভিনয় দক্ষতার একটি ছোট্ট উদাহরণ মাত্র। দর্শকরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন মে মাসের জন্য, যখন প্রেক্ষাগৃহে যোগেন্দ্রর পূর্ণাঙ্গ কাহিনী উন্মোচিত হবে।
‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’ কেবল একটি সিনেমা নয়, এটি গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরে এক পশলা বৃষ্টির মতো প্রশান্তি নিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। সাহেব চট্টোপাধ্যায় ওরফে যোগেন্দ্রর এই লুক কেবল ট্রেলার মাত্র, আসল গল্পটি যে আরও গভীর এবং রোমাঞ্চকর হবে, তা বলাই বাহুল্য। নন্দিতা-শিবপ্রসাদ জুটির হাত ধরে আবারও এক ঘরোয়া অথচ রাজকীয় গল্পের সাক্ষী হতে চলেছে বাংলা সিনেমা জগত। এখন কেবল মে মাসের শেষ মুহূর্তের অপেক্ষায় দিন গোনা।






