বলিউডে এমন কিছু ছবি থাকে, যেগুলি কেবল বক্স অফিস সাফল্য নয়—সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হয়ে ওঠে প্রজন্মের আবেগ। ‘ইয়ামলা পাগলা দিওয়ানা’ ঠিক তেমনই এক নাম। হাসি, পারিবারিক বন্ধন আর ধর্মেন্দ্র-ধর্মে বোনা এক অনন্য ম্যাজিক—সব মিলিয়ে ছবিটি আজও দর্শকদের কাছে সমান জনপ্রিয়।
এবার সেই ছবিকেই ঘিরে বড় খবর। দ্য ইন্ডিয়ান ক্রনিকলস-এর একান্ত সূত্রে জানা যাচ্ছে, বর্ষীয়ান অভিনেতা ধর্মেন্দ্রকে বিশেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাতে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি প্রেক্ষাগৃহে পুনরায় মুক্তি পেতে চলেছে ‘ইয়ামলা পাগলা দিওয়ানা’। নতুন বছরের প্রথম দিনে এই রি-রিলিজ ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলে আলোচনা।
ধর্মেন্দ্রের দীর্ঘ ছয় দশকের কেরিয়ার, অসংখ্য আইকনিক চরিত্র এবং ভারতীয় সিনেমায় তাঁর অবিস্মরণীয় অবদান—সব কিছুকে সম্মান জানাতেই এই উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে এমন সময়ে, যখন রি-রিলিজ সংস্কৃতি নতুন করে বক্স অফিসে জায়গা করে নিচ্ছে।
এই খবর শুধু নস্টালজিয়া নয়, ব্যবসায়িক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ‘ইয়ামলা পাগলা দিওয়ানা’ এমন এক ছবি, যা পরিবারসহ দেখার মতো, হাসি-ঠাট্টায় ভরপুর এবং ধর্মেন্দ্র-সানি দেওল-ববি দেওল—তিন প্রজন্মের স্টার পাওয়ারে সমৃদ্ধ।
ধর্মেন্দ্রকে শ্রদ্ধা: কেন ‘ইয়ামলা পাগলা দিওয়ানা’?

‘ইয়ামলা পাগলা দিওয়ানা’ শুধু একটি কমেডি নয়; এটি এক ধরনের আত্মজৈবনিক পারিবারিক উদযাপন। ধর্মেন্দ্র এখানে শুধুই প্রধান চরিত্র নন, তিনি ছবির আত্মা। তাঁর প্রাণবন্ত অভিনয়, নির্ভার হাসি আর স্বতঃস্ফূর্ত কমেডি টাইমিং ছবিটিকে কালজয়ী করে তুলেছে।
এই ছবিতে ধর্মেন্দ্রকে দেখা যায় এমন এক রূপে, যা নতুন প্রজন্মের দর্শকের কাছেও সমান আকর্ষণীয়। বয়সের সীমারেখা ভেঙে তাঁর এনার্জি, নাচ, সংলাপ—সব মিলিয়ে তিনি যেন আবারও প্রমাণ করেছিলেন, কেন তাঁকে ‘হিম্যান অফ ইন্ডিয়ান সিনেমা’ বলা হয়।
রি-রিলিজের পরিকল্পনার নেপথ্যে মূলত এই ভাবনাই কাজ করছে—ধর্মেন্দ্রকে এমন এক ছবির মাধ্যমে সম্মান জানানো, যা তাঁর কেরিয়ারের আনন্দময়, প্রাণবন্ত দিকটিকে তুলে ধরে। গুরুগম্ভীর ট্রিবিউট নয়, বরং হাসি-উল্লাসে ভরা এক শ্রদ্ধাঞ্জলি।
বলিউডে ট্রিবিউট রি-রিলিজ নতুন কিছু নয়, কিন্তু ‘ইয়ামলা পাগলা দিওয়ানা’-র ক্ষেত্রে আবেগের মাত্রা আলাদা। কারণ এটি কেবল একজন তারকার গল্প নয়, এটি একটি পরিবারের গল্প—যেখানে বাস্তব জীবন আর পর্দার সম্পর্ক একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়।
রি-রিলিজ ট্রেন্ড ও বক্স অফিস সম্ভাবনা

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বলিউডে পুরনো জনপ্রিয় ছবির পুনর্মুক্তি উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। বিশেষত যেসব ছবি পরিবারকেন্দ্রিক ও এন্টারটেনমেন্ট-ড্রিভেন, সেগুলি আবারও হলে দর্শক টানতে সক্ষম হচ্ছে। ‘ইয়ামলা পাগলা দিওয়ানা’ এই তালিকায় নিঃসন্দেহে এক শক্তিশালী নাম।
নতুন বছরের প্রথম দিন—১ জানুয়ারি—এই রি-রিলিজের সম্ভাব্য তারিখ হওয়ায় বাণিজ্যিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ছুটির মরসুম, পারিবারিক আউটিং আর নস্টালজিয়ার মিশেল বক্স অফিসে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ইন্ডাস্ট্রি ইনসাইডারদের মতে, সীমিত স্ক্রিনে হলেও ছবিটি যদি মুক্তি পায়, তাহলে উইকএন্ড কালেকশন যথেষ্ট সম্মানজনক হতে পারে। বিশেষ করে সিঙ্গল স্ক্রিন ও টিয়ার-২, টিয়ার-৩ শহরে ছবিটির গ্রহণযোগ্যতা এখনও অত্যন্ত শক্তিশালী।
এছাড়া OTT যুগে বড় হওয়া তরুণ দর্শকদের জন্য এটি হবে এক নতুন অভিজ্ঞতা—বড় পর্দায় পুরনো দিনের বলিউড কমেডির স্বাদ। ফলে রি-রিলিজ কেবল অতীতের স্মৃতিচারণ নয়, বরং নতুন দর্শক তৈরির একটি সুযোগও।
দেওল পরিবারের উত্তরাধিকার ও দর্শকের আবেগ

দেওল পরিবার মানেই ভারতীয় সিনেমার এক শক্তিশালী অধ্যায়। ধর্মেন্দ্র থেকে সানি দেওল, ববি দেওল—প্রত্যেকেই নিজস্ব পরিচয়ে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। ‘ইয়ামলা পাগলা দিওয়ানা’ এই তিন প্রজন্মকে এক ফ্রেমে বেঁধে দিয়েছিল।
এই ছবির মাধ্যমে দর্শক শুধু গল্প দেখেননি, দেখেছেন বাস্তব জীবনের পারিবারিক রসায়ন। সংলাপের ফাঁকে ফাঁকে, হাসির দৃশ্যের মধ্যেও ফুটে উঠেছিল এক ধরনের আন্তরিকতা, যা খুব কম ছবিতেই পাওয়া যায়।
আজ, যখন ধর্মেন্দ্রকে সম্মান জানাতে এই ছবি ফের প্রেক্ষাগৃহে আনার কথা ভাবা হচ্ছে, তখন দর্শকের আবেগও স্বাভাবিকভাবেই তুঙ্গে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই পুরনো ক্লিপ, সংলাপ ও গান নিয়ে শুরু হয়েছে নস্টালজিয়ার বন্যা।
এই রি-রিলিজ আসলে একটি প্রজন্মগত সংযোগ তৈরি করতে পারে—যেখানে বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানরা একসঙ্গে হলে বসে একই ছবিতে হাসবে। আর সেটাই হয়তো ‘ইয়ামলা পাগলা দিওয়ানা’-র সবচেয়ে বড় সাফল্য।
সব মিলিয়ে, ১ জানুয়ারি ২০২৬-এ ‘ইয়ামলা পাগলা দিওয়ানা’-র সম্ভাব্য রি-রিলিজ শুধুমাত্র একটি সিনেমা পুনর্মুক্তির খবর নয়। এটি ধর্মেন্দ্রের প্রতি এক হৃদয়ছোঁয়া শ্রদ্ধাঞ্জলি, দেওল পরিবারের উত্তরাধিকারের উদযাপন এবং বলিউডের নস্টালজিয়াকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার একটি সুযোগ।
যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী এই রি-রিলিজ বাস্তবায়িত হয়, তাহলে নতুন বছরের শুরুতেই প্রেক্ষাগৃহে ফিরতে পারে খাঁটি হাসি, পরিবার আর স্মৃতির মেলবন্ধন। ধর্মেন্দ্রের জন্য এর চেয়ে সুন্দর ট্রিবিউট হয়তো আর কিছু হতে পারে না।






