থ্যালাসেমিয়ার বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তোলা এবং সাধারণ মানুষকে রোগমুক্ত রাখার লক্ষ্যে রক্তদানের গুরুত্ব অপরিসীম। সেই বার্তাকেই আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেলেন পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জের কৃতি সন্তান সুব্রত সরকার। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে একটানা রক্তদান করে মানবিকতার এক অনন্য নজির গড়েছেন তিনি। এবার সেই অবদানের জন্য আন্তর্জাতিক স্তরে সম্মানিত হলেন সুব্রতবাবু।

সম্প্রতি ভুটানের থিম্পু শহরে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল এবং ভুটানের মোট ২০ জন সমাজসেবীকে “থ্যালাসেমিয়া মুক্ত পৃথিবী” গড়ার চেষ্টার জন্য সম্মান জানানো হয়। ভারত থেকে মাত্র পাঁচজন এই বিরল সম্মানে ভূষিত হন। তাদের মধ্যেই রয়েছেন সুব্রত সরকার, যিনি দীর্ঘদিন ধরে থ্যালাসেমিয়া রোগের বিরুদ্ধে প্রচার, আন্দোলন এবং রক্তদান কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন।



সুব্রতবাবুর রক্তদানের যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৫ সালে। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত, ২০২৫ সাল অবধি তিনি দেশের নানা প্রান্তে ১০৬ বার রক্তদান করেছেন। শুধু রায়গঞ্জ বা উত্তর দিনাজপুরেই নয়, বহুবার জরুরি ভিত্তিতে রাজ্যের বাইরে গিয়েও রক্ত দিয়েছেন তিনি। থ্যালাসেমিয়ার মত জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য নিয়মিত রক্তদানের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বহুবার জনসচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিয়েছেন।
পুরস্কার হাতে নিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে সুব্রত সরকার বলেন, “এই সম্মান শুধু আমার নয়, এটা গোটা রায়গঞ্জবাসীর, এটা প্রতিটি রক্তদাতার সম্মান। থ্যালাসেমিয়ার মতো রোগের বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে একজোট হয়ে লড়াই করতে হবে। শুধু একটিমাত্র রক্ত পরীক্ষাই পারে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই রোগের হাত থেকে বাঁচাতে। আমি আজীবন রক্তদানের মাধ্যমে এই আন্দোলনে যুক্ত থাকব।”
তার এই অঙ্গীকার এবং সমাজসেবার প্রতি দায়বদ্ধতা সত্যিই অনুপ্রেরণামূলক। থ্যালাসেমিয়ামুক্ত ভারত গড়ার স্বপ্ন আরও একধাপ বাস্তবের দিকে এগিয়ে গেল সুব্রতবাবুর মতো মানুষের হাত ধরে। তার এই সাফল্যে গর্বিত উত্তরবঙ্গবাসী, গর্বিত সারা দেশ।






