পূর্ব ভারতের সিনেমা পরিকাঠামোয় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে SVF Cinemas। দুর্গাপুর জংশন মলে তাদের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী এবং প্রযুক্তিগতভাবে সবচেয়ে উন্নত মাল্টিপ্লেক্স এই শুক্রবার থেকে দর্শকদের জন্য খুলে যাচ্ছে। শহরের বিনোদন সংস্কৃতিতে এটি এক যুগান্তকারী সংযোজন বলেই মনে করছেন শিল্পমহল।
দীর্ঘদিন ধরেই SVF Cinemas পূর্ব ভারতে বিশ্বমানের থিয়েট্রিক্যাল অভিজ্ঞতা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে আসছে। দুর্গাপুরে তাদের দ্বিতীয় প্রপার্টি চালু হওয়া সেই যাত্রাপথেরই এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। বিশেষ করে দ্রুত বিকাশমান শহরগুলিতে আধুনিক সিনেমা হল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই প্রকল্পের তাৎপর্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
উদ্বোধনের আগে প্রপার্টিটি পরিদর্শনে আসেন বাংলা চলচ্চিত্রের মেগাস্টার দেব। তাঁর উপস্থিতিতে প্রিভিউ মুহূর্তটি পরিণত হয় এক উৎসবের আবহে। অডিটোরিয়াম, সাউন্ড সিস্টেম ও প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো সরেজমিনে দেখে তিনি প্রশংসায় ভরিয়ে দেন SVF-এর এই উদ্যোগকে।
দেবের কথায়, এমন মানের অবকাঠামো নির্মাতাদের কল্পনাশক্তিকে আরও বিস্তৃতভাবে বড় পর্দায় তুলে ধরতে সাহায্য করে। একইসঙ্গে দর্শকদের জন্য তৈরি করে বিশ্বমানের নিমগ্ন অভিজ্ঞতা, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে পাল্লা দিতে সক্ষম।
দেবের উপস্থিতিতে উদ্বোধনের আবহে উৎসবমুখর দুর্গাপুর

দুর্গাপুর জংশন মলে SVF Cinemas-এর নতুন প্রপার্টির উদ্বোধনকে ঘিরে ছিল বিশেষ উন্মাদনা। বাংলা সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় মুখ দেবের আগমন ঘিরে ভক্তদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। শিল্পী-নির্মাতা-প্রযোজক মহলের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন এই বিশেষ প্রিভিউতে।
অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করে অত্যাধুনিক পর্দা, লেজার প্রজেকশন ও ডলবি অ্যাটমস সাউন্ড সিস্টেমের অভিজ্ঞতা নেওয়ার পর দেব জানান, বাংলা চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ এমন অবকাঠামোর উপরই নির্ভর করছে। বড় পর্দায় গল্প বলার শক্তি তখনই পূর্ণতা পায়, যখন প্রযুক্তি ও আরাম একসঙ্গে দর্শকদের ঘিরে ধরে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বমানের মাল্টিপ্লেক্স কেবল বিনোদনের জায়গা নয়, এটি চলচ্চিত্র শিল্পের বিকাশের অন্যতম চালিকাশক্তি। নতুন প্রজন্মের দর্শক এখন প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা প্রত্যাশা করেন, আর সেই প্রত্যাশা পূরণে SVF Cinemas বড় পদক্ষেপ নিয়েছে।
এই উদ্বোধন শুধু একটি হল চালু হওয়া নয়, বরং দুর্গাপুরকে পূর্ব ভারতের সিনেমা মানচিত্রে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করার বার্তা।
প্রযুক্তির উৎকর্ষে নতুন প্রজন্মের সিনেমা অভিজ্ঞতা

এই প্রপার্টির অন্যতম আকর্ষণ হলো Dolby Atmos® ইমার্সিভ সাউন্ড সিস্টেম। বহু-মাত্রিক শব্দ প্রযুক্তি দর্শকদের ছবির ভেতরে টেনে নিয়ে যায়। সংলাপ, ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর কিংবা অ্যাকশন সিকোয়েন্স—প্রতিটি শব্দ যেন চারপাশ থেকে এসে আঘাত করে অনুভূতিতে।
সঙ্গে রয়েছে 2K 3D লেজার প্রজেকশন প্রযুক্তি। লেজার প্রজেকশনের মাধ্যমে ছবির রঙ, কনট্রাস্ট ও উজ্জ্বলতা অনেক বেশি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। বড় পর্দায় সূক্ষ্ম ভিজ্যুয়াল ডিটেলও স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে, যা ঐতিহ্যবাহী প্রজেকশন ব্যবস্থার তুলনায় অনেক এগিয়ে।
সবচেয়ে বড় আকর্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে পূর্ব ভারতের অন্যতম বৃহৎ সিনেমা স্ক্রিন। বিশাল ভিজ্যুয়াল ক্যানভাসে সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা এক অন্য মাত্রা যোগ করে। অ্যাকশন, ঐতিহাসিক মহাকাব্য বা ভিএফএক্স নির্ভর ছবি—সবকিছুরই প্রভাব বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় এই পর্দা।
এছাড়াও রয়েছে ফুল রিক্লাইনার অডিটোরিয়াম। আরামদায়ক, আর্গোনমিক ডিজাইনের আসন দীর্ঘ সময় ধরে সিনেমা দেখার ক্ষেত্রে ক্লান্তি কমায়। সেন্ট্রালি এয়ার-কন্ডিশন্ড পরিবেশ, উন্নত অ্যাকুস্টিক ডিজাইন এবং প্রিমিয়াম ইন্টিরিয়র মিলিয়ে এটি নিছক একটি সিনেমা হল নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ বিনোদন গন্তব্য।
দুর্গাপুরে SVF Cinemas-এর বিস্তার: ব্যবসায়িক কৌশল ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

SVF Cinemas ইতিমধ্যেই দুর্গাপুরের রাজ সম্মিলনী মল, বেনাচিতিতে সাফল্যের সঙ্গে তাদের প্রপার্টি পরিচালনা করছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই জংশন মলে আরও বড় ও ভবিষ্যতমুখী প্রস্তাব নিয়ে আসা হয়েছে। দ্রুত বর্ধনশীল এই শিল্পনগরীকে তারা একটি কৌশলগত বাজার হিসেবে দেখছে।
SVF Cinemas-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বিজনেস হেড রুদ্র প্রসাদ দাও জানান, দুর্গাপুর তাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাজার। নতুন প্রপার্টিটি প্রযুক্তি, বিলাসিতা এবং স্কেলের দিক থেকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ। তাঁদের লক্ষ্য, উচ্চ সম্ভাবনাময় শহরগুলিতে বিশ্বমানের থিয়েট্রিক্যাল অভিজ্ঞতা পৌঁছে দেওয়া।
এই সম্প্রসারণের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে SVF Cinemas-এর উপস্থিতি আরও শক্তিশালী হলো। বড় শহরের বাইরে উন্নত সিনেমা পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। সিনেমা হল এখন আর কেবল চলচ্চিত্র প্রদর্শনের জায়গা নয়, এটি সামাজিক মেলবন্ধনের আধুনিক পরিসর।
দুর্গাপুরের মতো শহরে এমন প্রিমিয়াম মাল্টিপ্লেক্স গড়ে ওঠা স্থানীয় অর্থনীতির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, মল-ভিত্তিক ফুটফল বৃদ্ধি এবং পার্শ্ববর্তী ব্যবসার উন্নয়ন—সব ক্ষেত্রেই এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
SVF Cinemas-এর দুর্গাপুর জংশন মল প্রপার্টি শুধু একটি নতুন মাল্টিপ্লেক্স নয়, এটি পূর্ব ভারতের সিনেমা সংস্কৃতির মানোন্নয়নের প্রতীক। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, বিলাসবহুল রিক্লাইনার অডিটোরিয়াম, বিশাল পর্দা এবং বিশ্বমানের সাউন্ড—সব মিলিয়ে এটি এক পূর্ণাঙ্গ সিনেমাটিক অভিজ্ঞতার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, শুক্রবার থেকে দর্শকদের জন্য দরজা খুলছে এই প্রপার্টি। বাংলা সিনেমা এবং বৃহত্তর ভারতীয় চলচ্চিত্রের দর্শকদের জন্য এটি হতে চলেছে এক নতুন গন্তব্য—যেখানে গল্প, প্রযুক্তি এবং আরাম মিলবে এক অভূতপূর্ব সমন্বয়ে।






