বলিউডের ‘খলনায়ক’ খ্যাত অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত আবারও বড় পর্দায় ধামাকা নিয়ে ফিরছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘আখরি সওয়াল’ (Aakhri Sawal) নিয়ে সিনেপ্রেমীদের মধ্যে উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। সিনেমাটির বিষয়বস্তু এবং নির্মাণশৈলী নিয়ে শুরু থেকেই চর্চা চলছিল, আর এবার সেই উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল নির্মাতাদের নতুন ঘোষণা।
জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক অভিজিৎ মোহন ওয়ারাং পরিচালিত এই সিনেমাটি নিয়ে ভক্তদের জন্য রয়েছে একটি বড় চমক। পূর্ব নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগেই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে এই চলচ্চিত্র। নির্মাতারা জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের ৮ মে বিশ্বজুড়ে মুক্তি পাবে ‘আখরি সওয়াল’।
সিনেমাটির টিজার মুক্তি পেয়েছিল হনুমান জয়ন্তীর পুণ্য লগ্নে, যা মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। ভারতের অন্যতম প্রাচীন এবং শক্তিশালী সংগঠন ‘রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ’ (RSS)-এর ১৯২৫ সালের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শুরু করে তার অভ্যন্তরীণ ইতিহাসের পরত এই সিনেমায় উন্মোচিত হবে। এমন একটি স্পর্শকাতর এবং ঐতিহাসিক বিষয়বস্তুকে বড় পর্দায় দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে দর্শককুল।
নির্ধারিত সময়ের আগেই মুক্তি: ২০২৬-এর ৮ মে প্রেক্ষাগৃহে ‘আখরি সওয়াল’
‘আখরি সওয়াল’ সিনেমাটি ঘোষণার পর থেকেই দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। সঞ্জয় দত্তের মতো শক্তিশালী অভিনেতা যখন কোনো ঐতিহাসিক বা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের গল্পে যুক্ত হন, তখন প্রত্যাশা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সেই প্রত্যাশাকে সম্মান জানিয়েই নির্মাতারা সিনেমাটি কিছুটা আগে মুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এই সিনেমাটি শুধুমাত্র বিনোদন নয়, বরং ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যাওয়া অনেক কঠিন সত্যকে তুলে ধরবে। পরিচালক অভিজিৎ মোহন ওয়ারাং এর আগে তার মারাঠি ছবি ‘পিকাসো’র জন্য জাতীয় পুরস্কার জিতেছেন। ফলে তার কাছ থেকে একটি আন্তর্জাতিক মানের রাজনৈতিক ড্রামা উপহার পাওয়ার আশায় রয়েছেন সিনেমা সমালোচকরাও।

আরএসএস-এর অজানা ইতিহাস এবং টিজারের প্রভাব
হনুমান জয়ন্তীর দিন মুক্তি পাওয়া সিনেমাটির টিজার দেশজুড়ে এক প্রবল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অত্যন্ত সোজাসাপ্টা এবং নির্ভীকভাবে টিজারে আরএসএস-এর আদর্শ ও বিবর্তনকে তুলে ধরা হয়েছে। ১৯২৫ সালে নাগপুরে জন্ম নেওয়া এই সংগঠনের পেছনের আসল উদ্দেশ্য এবং তাদের কার্যপ্রণালী নিয়ে অনেক প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া হয়েছে এই সিনেমায়।
টিজারটিতে সঞ্জয় দত্তের গলার স্বর এবং রহস্যময় আবহ দর্শকদের শিহরিত করেছে। এটি কেবল একটি ঐতিহাসিক দলিল নয়, বরং আধুনিক ভারতের প্রেক্ষাপটে আরএসএস-এর অবস্থান নিয়ে একটি গভীর সংলাপ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। টিজারের দৃশ্যগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই ছবি মুক্তির পর দেশজুড়ে এক নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার সূত্রপাত হবে।

পরিচালক অভিজিৎ মোহন ওয়ারাং এবং পর্দার পেছনের কারিগররা
অভিজিৎ মোহন ওয়ারাং বর্তমানে ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রতিভাবান পরিচালক। ২০২১ সালে ‘পিকাসো’ ছবির মাধ্যমে তিনি ৬৬তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে বিশেষ সম্মাননা লাভ করেন। মারাঠি এবং হিন্দি—উভয় ভাষাতেই তার কাজ প্রশংসিত হয়েছে। ‘দেজা ভু’, ‘প্রেম প্রথা ধুমশন’, এবং ‘পিকলো’র মতো প্রজেক্টগুলোতে তিনি তার মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন।
এই সিনেমাটি নিখিল নন্দা মোশন পিকচার্স এবং সঞ্জয় দত্তের নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থার যৌথ উদ্যোগে নির্মিত। নিখিল নন্দা, যিনি এর আগে হটস্টারের মতো ওটিটি প্ল্যাটফর্মে সফল কাজ করেছেন, তিনি এই প্রজেক্টটিকে বড় ক্যানভাসে উপস্থাপন করছেন। ছবির সংলাপ এবং চিত্রনাট্য লিখেছেন উৎকর্ষ নৈথানি, যিনি তার ধারালো লেখনীর জন্য পরিচিত। পুनीत নন্দা, ডঃ দীপক সিং, গৌরব দুবে এবং উজ্জ্বল আনন্দের মতো অভিজ্ঞ প্রযোজকরা সিনেমাটির নেপথ্যে রয়েছেন।

সঞ্জয় দত্তের ‘আখরি সওয়াল’ কেবল একটি সিনেমা নয়, এটি একটি সাহসের গল্প। ইতিহাসের এমন এক অংশ যা নিয়ে জনমানসে জল্পনার শেষ নেই, সেই আরএসএস-এর অন্দরমহলের কাহিনী তুলে ধরার যে ঝুঁকি নির্মাতারা নিয়েছেন, তা প্রশংসনীয়। ৮ মে ২০২৬ তারিখে যখন ছবিটি মুক্তি পাবে, তখন বক্স অফিসে যে এক বড়সড় সুনামি আসতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। সঞ্জয় দত্তের ভক্তদের জন্য এটি বছরের সবচেয়ে বড় উপহার হতে যাচ্ছে।






