বলিউডের স্বপ্নদ্রষ্টা নির্মাতা Sanjay Leela Bhansali আজ তাঁর জন্মদিন উদযাপন করছেন। এই বিশেষ দিনে ফিরে দেখা যাক এক আবেগঘন মন্তব্য—অভিনেতা Ranbir Kapoor তাঁকে বলেছিলেন, “গত চার দশকের সেরা পরিচালক।”
এই বক্তব্য নিছক সৌজন্য ছিল না। বরং ছিল গভীর শ্রদ্ধা, অভিজ্ঞতার নির্যাস এবং একজন শিল্পীর আরেক শিল্পীর প্রতি নিঃশর্ত স্বীকৃতি। কারণ রণবীরের অভিনয়জীবনের সূচনা বনসালির হাত ধরেই।
বলিউডে ডেবিউ ছবি Saawariya–র সেট থেকেই শুরু হয়েছিল তাঁদের সৃজনশীল সম্পর্ক। রণবীর একাধিক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, বনসালির সঙ্গে কাজ করা মানে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ, কঠোর শৃঙ্খলা এবং আবেগের সততা।
আজকের দিনে যখন ভারতীয় সিনেমা বিশ্বমঞ্চে নিজেদের পরিচয় আরও দৃঢ় করছে, তখন বনসালির নাম উচ্চারিত হয় এক বিশেষ সম্মান নিয়ে—ভিজ্যুয়াল গ্র্যান্ডিয়র, আবেগঘন গল্প বলার ক্ষমতা এবং সঙ্গীতের অপূর্ব ব্যবহারের জন্য।
রণবীরের চোখে বনসালি: “সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণের” স্কুল
রণবীর কাপুর বারবার বলেছেন, বনসালির সঙ্গে কাজ করা সহজ নয়—কিন্তু অসাধারণ। তাঁর ভাষায়, “ওনার সঙ্গে কাজ করতে গেলে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে উজাড় করে দিতে হয়।”
এই ‘সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ’-এর দর্শনই বনসালির কাজের মূল চাবিকাঠি। তিনি অভিনেতাদের স্বাচ্ছন্দ্যের সীমা ভেঙে দেন, তাদের অপ্রকাশিত আবেগকে সামনে আনেন।
রণবীরের মতে, বনসালি শুধু দৃশ্য পরিচালনা করেন না—তিনি অভিনেতাকে নতুনভাবে নির্মাণ করেন। চরিত্রের প্রতিটি স্তর খুঁটিয়ে গড়ে তোলেন, সংলাপের ভেতরে আবেগের সূক্ষ্ম রেখা খুঁজে বের করেন।
‘সাওয়ারিয়া’ বক্স অফিসে প্রত্যাশামতো সাফল্য না পেলেও, রণবীরের অভিনয় নিয়ে প্রশংসা ছিল সর্বত্র। আর সেই আত্মবিশ্বাসের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন বনসালি নিজেই।
ভিজ্যুয়াল গ্র্যান্ডিয়র থেকে আবেগের গভীরতা: এক অনন্য উত্তরাধিকার

4
বনসালির সিনেমা মানেই আড়ম্বরপূর্ণ সেট, সূক্ষ্ম আলোকসজ্জা, শক্তিশালী সঙ্গীত এবং হৃদয়ছোঁয়া আবেগ। Devdas থেকে Bajirao Mastani, আবার Padmaavat—প্রতিটি ছবিই ভিজ্যুয়াল মহাকাব্য।
তাঁর চলচ্চিত্র কেবল গল্প নয়; এক নিমগ্ন অভিজ্ঞতা। প্রতিটি ফ্রেম যেন একটি পেইন্টিং। প্রতিটি গান যেন নাটকীয় আবেগের বিস্ফোরণ।
ভারতীয় সংস্কৃতিকে তিনি উপস্থাপন করেছেন গৌরবময় ও মহিমান্বিত ভঙ্গিতে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, রাজকীয় পোশাক, নৃত্যরীতির সূক্ষ্মতা—সব মিলিয়ে তিনি তৈরি করেন এক পূর্ণাঙ্গ শিল্পকর্ম।
এই কারণেই তাঁকে প্রায়ই তুলনা করা হয় কিংবদন্তি নির্মাতাদের সঙ্গে—Raj Kapoor, K. Asif এবং Guru Dutt। তাঁদের মতোই বনসালিও ভারতীয় গল্পকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরেছেন নিজস্ব শৈলীতে।
বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় সিনেমার মুখ

বনসালির ছবিগুলি শুধু দেশীয় দর্শক নয়, আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও প্রশংসা কুড়িয়েছে। তাঁর গল্প বলার ধরন ভারতীয় শিকড়ে দৃঢ়, কিন্তু উপস্থাপনায় বিশ্বমানের।
তিনি বারবার প্রমাণ করেছেন—বক্স অফিস সাফল্যের বাইরেও সিনেমার একটি শিল্পমূল্য আছে। আর সেই শিল্পমূল্যই তাঁকে ‘লিভিং লেজেন্ড’-এর মর্যাদা দিয়েছে।
রণবীর কাপুরের “গত চার দশকের সেরা পরিচালক” মন্তব্য তাই অতিরঞ্জন নয়। এটি এক প্রজন্মের শিল্পীর উপলব্ধি, যিনি কাছ থেকে দেখেছেন বনসালির কাজের কঠোরতা, শৃঙ্খলা এবং সৃজনশীল উন্মাদনা।
জন্মদিনে সঞ্জয় লীলা বনসালিকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে তাঁর অসামান্য উত্তরাধিকার। তিনি কেবল সিনেমা বানান না—তিনি স্বপ্ন নির্মাণ করেন।
রণবীর কাপুরের বক্তব্য সেই স্বপ্ন নির্মাতার প্রতি এক প্রজন্মের শ্রদ্ধা। চার দশকের ভারতীয় সিনেমার বিবর্তনে বনসালির অবদান অনস্বীকার্য।
আজ, তাঁর জন্মদিনে, বলিউড তথা ভারতীয় চলচ্চিত্র জগত এক কণ্ঠে স্বীকার করছে—এই ভিশনারি নির্মাতা সময়ের সীমানা ছাড়িয়ে গেছেন। তিনি সংখ্যা নন, তিনি এক যুগের নাম।






