রেল বাজেট ২০২৬–এ বাংলার জন্য বরাদ্দ ₹১৪,২০৫ কোটি—এই সংখ্যাটা শুধু আর্থিক অঙ্ক নয়, বরং রাজ্যের যোগাযোগ পরিকাঠামোর ভবিষ্যৎ দিশা। বহুদিনের অপেক্ষার পর পূর্ব ভারতের জন্য প্রথম বুলেট ট্রেন করিডোরের ঘোষণা বাংলাকে এনে দিল জাতীয় রেল মানচিত্রে একেবারে নতুন গুরুত্ব।
এই বাজেটে স্পষ্ট বার্তা—পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারত আর অবহেলিত নয়। আধুনিকীকরণ, উচ্চগতির রেল, স্টেশন রিডেভেলপমেন্ট এবং মালবাহী করিডোর—সব মিলিয়ে বাংলা রেল উন্নয়নের এক নতুন অধ্যায়ে পা রাখছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিনিয়োগ শুধু যাত্রী পরিষেবার উন্নতিই নয়, বরং শিল্প, পর্যটন এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও বহুমুখী প্রভাব ফেলবে। রেল এখন আর শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়—এটি অর্থনৈতিক বৃদ্ধির চালিকাশক্তি।
রাজনৈতিক মহলেও বাজেট নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। কেন্দ্র–রাজ্য সমন্বয়ের ভবিষ্যৎ, প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি এবং সময়সীমা—সবকিছুই এখন নজরের কেন্দ্রে।
বাংলার জন্য ₹১৪,২০৫ কোটি: রেল অবকাঠামোর বড় আপগ্রেড

রেল বাজেটে বাংলার জন্য ₹১৪,২০৫ কোটি বরাদ্দ গত কয়েক বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এই অর্থ ব্যয় হবে নতুন রেললাইন, ডাবলিং–ইলেকট্রিফিকেশন, স্টেশন আধুনিকীকরণ এবং শহরতলি রেল পরিষেবা উন্নত করতে।
হাওড়া, শিয়ালদহ, কলকাতা ও নিউ জলপাইগুড়ির মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলিতে যাত্রী সুবিধা বাড়ানোর জন্য রিডেভেলপমেন্ট প্রকল্প জোরদার করা হচ্ছে। স্মার্ট ওয়েটিং লাউঞ্জ, ডিজিটাল সাইনেজ, উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রতিবন্ধী-বান্ধব পরিকাঠামো এই পরিকল্পনার অংশ।
শহরতলি রেল নেটওয়ার্ক, যা প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনরেখা, সেখানে নতুন কোচ, সিগন্যাল আপগ্রেড এবং ফ্রিকোয়েন্সি বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। শিল্পাঞ্চল ও বন্দর সংযোগে জোর দিয়ে মালবাহী রেল পরিষেবাও শক্তিশালী করা হবে।
পূর্ব ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন করিডোর: বাংলার গেমচেঞ্জার

এই বাজেটের সবচেয়ে বড় চমক—পূর্ব ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন করিডোরে সবুজ সংকেত। প্রস্তাবিত করিডোরটি কলকাতাকে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলির সঙ্গে উচ্চগতির রেলে যুক্ত করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
ঘণ্টায় ৩০০ কিমি গতির এই ট্রেন শুধু যাত্রার সময় কমাবে না, বরং ব্যবসা ও পর্যটনের নতুন সুযোগ তৈরি করবে। কলকাতা থেকে শিল্পাঞ্চল বা পর্যটন কেন্দ্রে দ্রুত যাতায়াত অর্থনীতিতে গতি আনবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বুলেট ট্রেন প্রকল্প প্রযুক্তি স্থানান্তর, দক্ষ কর্মসংস্থান এবং রেল শিল্পে দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করবে। যদিও জমি অধিগ্রহণ ও ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই, তবু দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব ইতিবাচক বলেই মত।
শহরতলি ও উত্তরবঙ্গ: অন্তর্ভুক্তিমূলক রেল উন্নয়ন

রেল বাজেটে শুধু মহানগর নয়, শহরতলি ও উত্তরবঙ্গও সমান গুরুত্ব পেয়েছে। শিলিগুড়ি–নিউ জলপাইগুড়ি করিডোর, দার্জিলিং ও ডুয়ার্স পর্যটন রুটে ট্রেন পরিষেবা উন্নত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
উত্তরবঙ্গে নতুন লাইন ও স্টেশন উন্নয়ন পর্যটন শিল্পকে বাড়তি অক্সিজেন দেবে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী অঞ্চলে যোগাযোগ শক্তিশালী হওয়ায় বাণিজ্য ও নিরাপত্তা—দুটোই লাভবান হবে।
শহরতলি এলাকায় স্বল্প দূরত্বের দ্রুত ট্রেন, উন্নত টাইমটেবিল ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির ব্যবহার যাত্রী অভিজ্ঞতা বদলে দেবে বলে আশা।
রেল বাজেট ২০২৬ বাংলার জন্য কেবল আর্থিক প্রাপ্তি নয়—এটি ভবিষ্যতের রূপরেখা। ₹১৪,২০৫ কোটির বিনিয়োগ ও প্রথম বুলেট ট্রেন করিডোরের ঘোষণা রাজ্যকে যোগাযোগ ও অর্থনীতির নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। বাস্তবায়নের গতি ও স্বচ্ছতাই এখন আসল পরীক্ষা।






