ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ‘প্যান ইন্ডিয়া’ শব্দটিকে যিনি আক্ষরিক অর্থেই সার্থক করেছেন, তিনি প্রভাস। বাহুবলী থেকে শুরু করে কল্কি ২৮৯৮ এডি—প্রতিটি পদক্ষেপে তিনি প্রমাণ করেছেন কেন তাকে ‘আনডিস্পিউটেড সুপারস্টার’ বলা হয়। সম্প্রতি পরিচালক আদিত্য ধর তাকে ‘লিজেন্ড’ বা কিংবদন্তি বলে অভিহিত করায় বিনোদন জগতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
এই ঘটনার সূত্রপাত হয় ‘ধুরন্ধর ২’ (Dhurandhar 2) ছবিটিকে কেন্দ্র করে। পরিচালক সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গা সম্প্রতি প্রভাসের সঙ্গে বসে এই ছবিটি দেখেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের মতামত শেয়ার করেন। ভাঙ্গার সেই পর্যালোচনার উত্তরেই আদিত্য ধর প্রভাসকে সম্মান জানিয়ে এই মন্তব্যটি করেন।
আদিত্য ধরের এই মন্তব্য কেবল একটি সাধারণ প্রশংসা নয়, বরং এটি বর্তমান ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পে প্রভাসের বিশালতা ও প্রভাবের এক আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি। যখন একজন জাতীয় পুরস্কার বিজয়ী পরিচালক প্রভাসের মতো মেগাস্টারকে ‘কিংবদন্তি’ বলেন, তখন তা স্বাভাবিকভাবেই ভক্তদের মধ্যে উন্মাদনা বাড়িয়ে দেয়।
ধুরন্ধর ২ নিয়ে সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গার রিভিউ ও আদিত্য ধরের প্রতিক্রিয়া
সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গা বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রভাবশালী পরিচালক। তিনি এবং প্রভাস সম্প্রতি একান্তে ‘ধুরন্ধর ২’ ছবিটি উপভোগ করেন। ছবিটি দেখার পর ভাঙ্গা যখন ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেন, তখন মূল পরিচালক আদিত্য ধর বিনম্রভাবে তাকে ধন্যবাদ জানান। তবে সবার নজর কেড়েছে প্রভাসের প্রতি ধরের ব্যবহৃত বিশেষণটি।
আদিত্য ধর স্পষ্টভাবেই প্রভাসকে লিজেন্ড বলে সম্বোধন করেন, যা ইঙ্গিত দেয় যে প্রভাস কেবল তার নিজের ছবির জন্যই নয়, বরং অন্য সহকর্মীদের কাজের প্রতিও কতটা আন্তরিক। প্রভাসের এই সহজ-সরল ব্যক্তিত্ব এবং সহকর্মীদের উৎসাহ দেওয়ার মানসিকতাই তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে তুলেছে।
বক্স অফিসের রাজা: দ্রুততম ১০০ কোটির ক্লাবে প্রভাসের আধিপত্য
প্রভাসের বক্স অফিস ট্র্যাক রেকর্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে ভরসাযোগ্য তারকা। তার অভিনীত সিনেমা মুক্তি পাওয়া মানেই রেকর্ড ভাঙা-গড়ার খেলা। সাম্প্রতিক সময়ে তার একাধিক সিনেমা দ্রুততম ১০০ কোটি রুপির ক্লাবে প্রবেশ করার নজির গড়েছে।
বক্স অফিসের এই সাফল্য কেবল দক্ষিণ ভারতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; হিন্দি বলয় থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাসের সমান আধিপত্য। বৃহৎ বাজেটের সিনেমাকে নিজের কাঁধে টেনে নেওয়ার যে ক্ষমতা প্রভাসের আছে, তা বর্তমান সময়ের খুব কম অভিনেতার মধ্যেই দেখা যায়। এই বাণিজ্যিক সাফল্যের কারণেই নির্মাতারা তাকে নিয়ে হাজার কোটি টাকার বাজি ধরতে দ্বিধা করেন না।
আগামী দিনের মেগা প্রজেক্ট: স্পিরিট থেকে সালার ২
প্রভাসের হাতে বর্তমানে যে সিনেমাগুলো রয়েছে, তা ভারতীয় সিনেমার মানচিত্র বদলে দিতে পারে। দর্শকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উত্তেজনা রয়েছে ‘স্পিরিট’ (Spirit) ছবিটিকে নিয়ে, যা পরিচালনা করবেন সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গা। এখানে প্রভাসকে সম্পূর্ণ নতুন অবতারে দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া রয়েছে পিরিয়ড ড্রামা ‘ফৌজি’ (Fauzi) এবং বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি নির্ভর ‘কল্কি ২’ (Kalki 2)। ‘সালার ২’ (Salaar 2) এর কাজও পুরোদমে এগিয়ে চলছে। প্রতিটি প্রজেক্টই বিশাল বাজেটের এবং প্যান ইন্ডিয়া স্তরে মুক্তির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই বৈচিত্র্যময় কাজের তালিকা প্রমাণ করে যে প্রভাস কেন আজ গ্লোবাল আইকন হয়ে উঠেছেন।
আদিত্য ধরের দেওয়া ‘লিজেন্ড’ তকমাটি প্রভাসের দীর্ঘ পরিশ্রম এবং তার অসামান্য জনপ্রিয়তারই প্রতিফলন। তিনি কেবল একজন অভিনেতাই নন, বরং ভারতীয় সিনেমার এমন এক ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছেন যার আবেদন উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম—সর্বত্র সমান। আগামী বছরগুলোতে তার প্রজেক্টগুলো মুক্তি পেলে এই কিংবদন্তির উচ্চতা যে আরও বাড়বে, তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই।






