Park Street-এর আলোয় ফিরল কলকাতা: বড়দিনে আবার রাস্তায় শহর

বড়দিনে Park Street-এর আলো, মানুষের ঢল আর উৎসবের আবহে আবার রাস্তায় ফিরেছে কলকাতা। খাবার, সঙ্গীত ও সংস্কৃতির মিলনে এই উৎসব শুধু আনন্দ নয়, শহরের মানসিক ও সামাজিক পুনর্জাগরণের প্রতীক।

Table of Contents

Share Our Blog Now :
Facebook
WhatsApp

ডিসেম্বর এলেই কলকাতার মানচিত্রে এক আলাদা উজ্জ্বলতা ছড়িয়ে পড়ে। শীতের হালকা কুয়াশা, সন্ধ্যার ঠান্ডা হাওয়া আর রঙিন আলো—সব মিলিয়ে বড়দিন মানেই শহরের নতুন জন্ম। বছরের এই ক’টা দিনে কলকাতা যেন আবার নিজেকে ফিরে পায়।

বিশেষ করে Park Street। বছরের বাকি সময় যে রাস্তা অফিস, ট্রাফিক আর তাড়াহুড়োর সাক্ষী, বড়দিনে সেই রাস্তাই হয়ে ওঠে উৎসবের মঞ্চ। আলোর কারুকাজ, মানুষের ঢল, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ—সব মিলিয়ে এখানে শহর হাঁটতে নামে।

মহামারির পর কয়েকটি বছর কলকাতা উৎসবকে দেখেছে সাবধানে, সীমিত আকারে। কিন্তু এবছর দৃশ্যপট বদলেছে। সামাজিক দূরত্ব নয়, বরং সামাজিক সংযোগই বড়দিনের মূল সুর। রাস্তায় নেমে আসা মানুষের চোখে-মুখে স্পষ্ট—এই শহর আবার উৎসবে ফিরেছে।

এই প্রত্যাবর্তন শুধু আনন্দের নয়, এটি শহরের মানসিক পুনর্জাগরণ। বড়দিনে কলকাতা মানে কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়—এ এক সাংস্কৃতিক মিলনমেলা, যেখানে বয়স, বিশ্বাস, শ্রেণির সীমা মুছে যায়।


Park Street-এর আলো ও মানুষের ঢল

https://assets.telegraphindia.com/telegraph/2023/Dec/1703548668_new-project.jpg

ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে Park Street যেন কলকাতার হৃদস্পন্দন। রাস্তার দু’ধারে আলোর নকশা, ক্রিসমাস ট্রি, তারার সাজ—সব মিলিয়ে এটি শুধু একটি রাস্তা নয়, এক চলমান উৎসব।

সন্ধ্যা নামলেই মানুষের ঢল বাড়ে। কলেজ পড়ুয়া থেকে শুরু করে পরিবার, পর্যটক থেকে প্রবীণ নাগরিক—সবাই এখানে আসেন একই টানে। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ বন্ধুর সঙ্গে হাঁটছেন, কেউবা নিঃশব্দে আলো দেখেই তৃপ্ত।

এই ভিড়ের মধ্যেও আছে শৃঙ্খলা। কলকাতা পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবক এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা ও জনসমাগম সামলানো হচ্ছে। ফলে উৎসবের আনন্দের সঙ্গে নিরাপত্তার আশ্বাসও রয়েছে।

Park Street-এর বড়দিন আজ আর কেবল স্থানীয় নয়—এটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটনের অংশ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ছবিগুলো কলকাতাকে আবারও বিশ্বের উৎসব-মানচিত্রে তুলে ধরছে।


খাবার, সঙ্গীত ও সংস্কৃতির মিলনমেলা

বড়দিন মানেই কেক, কুকি আর প্লাম কেকের গন্ধ। Park Street আর তার আশপাশের বেকারি ও ক্যাফেগুলোতে এই সময়ে বিশেষ ব্যস্ততা। বহু মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে প্রিয় কেক সংগ্রহ করছেন—এ যেন কলকাতার নিজস্ব বড়দিনের রীতি।

শুধু খাবার নয়, সঙ্গীতও বড়দিনের প্রাণ। লাইভ ব্যান্ড, ক্যারল সিঙ্গার, রাস্তার কোণে ছোট পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে Park Street হয়ে ওঠে এক মুক্ত মঞ্চ। এখানে গান শোনে সবাই, ভাষা বা বিশ্বাসের তোয়াক্কা না করেই।

এই মিলনমেলাই কলকাতার বড়দিনকে আলাদা করে তোলে। এটি কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের উৎসব নয়; বরং শহরের সম্মিলিত আনন্দ। এই অন্তর্ভুক্তিমূলক সংস্কৃতিই কলকাতাকে অন্য মহানগরগুলোর থেকে আলাদা করে।

খাবার, সঙ্গীত আর মানুষের হাসি—এই তিনে মিলে Park Street বড়দিনে হয়ে ওঠে স্মৃতির ভাণ্ডার, যা বছরভর মানুষকে টেনে আনে।


বড়দিনে শহরের অর্থনীতি ও মানসিক পুনর্জাগরণ

https://media.assettype.com/outlooktraveller/2023-12/ca5e2461-f55e-41d1-a8d3-881446d501ce/Kolkata_christmas4.jpg?auto=format%2Ccompress&enlarge=true&fit=max&h=675&w=1200

বড়দিন শুধু আবেগের নয়, অর্থনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ সময়। রাস্তার দোকানদার, ফটোগ্রাফার, খাবারের স্টল, ক্যাব চালক—সবার জন্যই এই সময় বাড়তি রোজগারের সুযোগ নিয়ে আসে।

হোটেল ও রেস্তোরাঁ শিল্পেও বড়দিন মানে হাই সিজন। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ Park Street-এর দিকে আসায় আশপাশের ব্যবসা সরাসরি লাভবান হয়। এটি শহরের অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিকে শক্তি জোগায়।

সবচেয়ে বড় বিষয়, বড়দিন মানুষের মনে আশার বার্তা দেয়। ব্যস্ততা, চাপ আর অনিশ্চয়তার মাঝে এই উৎসব কলকাতাকে মনে করিয়ে দেয়—রাস্তায় নামা, একসঙ্গে হাঁটা আর হাসার শক্তি এখনো অটুট।

এই মানসিক পুনর্জাগরণই হয়তো বড়দিনের আসল সাফল্য। আলো নিভে যাবে, ভিড় কমবে, কিন্তু স্মৃতি থেকে যাবে।


Park Street-এর আলোয় বড়দিন মানেই কলকাতার ফিরে আসা। এই উৎসব শহরকে আবার রাস্তায় নামতে শেখায়—ভয় ঝেড়ে ফেলে আনন্দকে আলিঙ্গন করতে শেখায়। বড়দিন শেষে আলো নিভলেও, কলকাতার এই উজ্জ্বল স্মৃতি শহরের সঙ্গে রয়ে যায় দীর্ঘদিন।

RELATED Articles :
পশ্চিমবঙ্গ

শিল্প হবে, কিন্তু কৃষির বিনিময়ে নয়: সিঙ্গুরে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট বার্তা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

সিঙ্গুরে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানালেন—পশ্চিমবঙ্গে শিল্প হবে, কিন্তু কৃষিজমির বিনিময়ে নয়। শিল্প ও কৃষির ভারসাম্য রক্ষা করেই উন্নয়নের পথে হাঁটবে রাজ্য, এমনই আশ্বাসে নতুন করে আলোচনায় শিল্পনীতি।

Read More »
পশ্চিমবঙ্গ

নন্দীগ্রাম রেল প্রকল্পের কৃতিত্ব দাবি শুভেন্দুর, ‘গিমিক’ বলে পাল্টা আক্রমণ তৃণমূলের — রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে

নন্দীগ্রাম রেল প্রকল্পের কৃতিত্ব দাবি করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল কংগ্রেসের পাল্টা অভিযোগ, এটি নিছক নির্বাচনী গিমিক। উন্নয়ন, কেন্দ্র–রাজ্য সমীকরণ ও ভোটের অঙ্কে নন্দীগ্রাম আবারও রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।

Read More »
কলকাতা

বেহালার ফ্ল্যাটে দুঃসাহসিক চুরি: সোনা ও নগদ মিলিয়ে প্রায় ১.৫ কোটি টাকা উধাও, আতঙ্কে এলাকা

বেহালার একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় সোনা ও নগদ মিলিয়ে প্রায় ১.৫ কোটি টাকা উধাও। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্ত চালাচ্ছে। ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

Read More »
কলকাতা

বারবার বেলিগঞ্জে পাইপ ফাটল: রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত, চাপের মুখে কলকাতা পুরসভা (KMC)

বেলিগঞ্জে ফের পানীয় জলের পাইপ ফাটায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা ও চরম যানজট। বারবার একই ঘটনার জেরে কলকাতা পুরসভার পরিকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে উঠছে গুরুতর প্রশ্ন।

Read More »
বিনোদন

রোমহর্ষক সত্যের মুখোমুখি আবারও ভারত: প্রকাশ্যে Vipul Amrutlal Shah-এর The Kerala Story 2: Goes Beyond!–এর শিউরে ওঠা মোশন পোস্টার

Vipul Amrutlal Shah-এর The Kerala Story 2: Goes Beyond–এর শিউরে ওঠা মোশন পোস্টার প্রকাশ্যে। নারীদের চোখে ভয় ও ক্রোধের ভাষায় উঠে এসেছে নির্মম সত্য। ৩০ জানুয়ারি মুক্তি পাবে টিজার, ছবির রিলিজ ২০২৬-এর ফেব্রুয়ারিতে।

Read More »
বিনোদন

আজ শুরু ‘Familywala’ শুটিং: উইন্ডোজ প্রোডাকশনের ২৫ বছরে সুমন ঘোষের নতুন পারিবারিক কমেডি-ড্রামা

আজ শুরু হল সুমন ঘোষ পরিচালিত ‘Familywala’-র শুটিং। উইন্ডোজ প্রোডাকশনের ২৫ বছরে এই প্রথমবার ব্যানারের সঙ্গে তাঁর সহযোগিতা। শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় অভিনীত এই পারিবারিক কমেডি-ড্রামায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়, সুদীপ্তা চক্রবর্তী ও অনুষুয়া মজুমদার।

Read More »
error: Content is protected !!