আজ সকালে শহরের ঐতিহাসিক ট্রেজারি ভবনে আচমকাই আগুন লাগার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় প্রশাসনিক মহলে। অফিস সময় শুরুর আগেই ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায় ভবনের একটি দফতর থেকে। দ্রুত খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দমকল বাহিনী।
প্রাথমিকভাবে আগুনের তীব্রতা সীমিত থাকলেও ভবনের ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ নথি ও দাপ্তরিক সরঞ্জাম থাকায় পরিস্থিতি ছিল সংবেদনশীল। তবে দ্রুত পদক্ষেপের জেরে বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এই অগ্নিকাণ্ডে কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ট্রেজারি ভবনটি আর্থিক প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়। সকাল থেকেই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
ঘটনার কারণ জানতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। শর্ট সার্কিট নাকি অন্য কোনও প্রযুক্তিগত ত্রুটি—সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কীভাবে লাগল আগুন? প্রাথমিক তদন্তে যা জানা গেল

দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে প্রথম ধোঁয়া দেখা যায়। সেখানে বৈদ্যুতিক প্যানেল ও একাধিক কম্পিউটার সার্ভার ছিল। প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত।
খবর পেয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় একাধিক দমকল ইঞ্জিন। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং পাশের কক্ষগুলোতে ছড়িয়ে পড়া রোধ করা সম্ভব হয়।
দমকল আধিকারিকদের মতে, আগুন বড় আকার ধারণ করার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়েছে বলেই বড়সড় ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেছে। ভবনের ভেতরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ নথি ও অর্থ সংক্রান্ত ডেটা সুরক্ষিত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। নিরাপত্তার স্বার্থে কর্মীদের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়।
প্রশাসনের তৎপরতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

ঘটনার পরপরই উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। ভবনের ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখা হয় এবং দপ্তরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়।
জেলা প্রশাসনের এক কর্তা জানান, ভবনের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কার্যকর ছিল বলেই আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। তবু ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পুলিশ এলাকায় ঘিরে ফেলে এবং সাধারণ মানুষের ভিড় নিয়ন্ত্রণ করে। ভবনের ভেতরে ফরেনসিক দল ঢুকে আগুনের উৎস ও বিস্তারের ধরণ পরীক্ষা করছে।
প্রশাসনের দাবি, আর্থিক লেনদেন বা সরকারি কোষাগারের নিরাপত্তায় কোনও প্রভাব পড়েনি। ডিজিটাল ব্যাকআপ সিস্টেম সচল রয়েছে।
শহরের পরিকাঠামো ও অগ্নি-নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

এই ঘটনার পর আবারও শহরের পুরনো প্রশাসনিক ভবনগুলির অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, বৈদ্যুতিক তারের পুরনো অবস্থা বা পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব থেকে বিপদের সম্ভাবনা তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ফায়ার অডিট এবং বৈদ্যুতিক পরিদর্শন বাধ্যতামূলক করা জরুরি। সরকারি ভবনে বিপুল পরিমাণ নথি, সার্ভার ও সংবেদনশীল তথ্য থাকে, ফলে ঝুঁকির মাত্রাও বেশি।
আজকের ঘটনা বড়সড় ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই শেষ হলেও এটি এক সতর্কবার্তা। দ্রুত নগর পরিকাঠামো উন্নয়ন ও নিরাপত্তা মানদণ্ড শক্তিশালী না হলে ভবিষ্যতে বিপর্যয়ের আশঙ্কা থেকেই যায়।
সকালের ট্রেজারি ভবনের অগ্নিকাণ্ড প্রশাসনের তৎপরতায় দ্রুত নিয়ন্ত্রণে এসেছে। হতাহতের ঘটনা না ঘটায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে শহরবাসী।
তবে এই ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিল, অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর কোনওভাবেই ঢিলেমি চলবে না। নিয়মিত পরিদর্শন, প্রযুক্তিগত আপডেট এবং সচেতনতা—এই তিনেই সুরক্ষিত থাকবে সরকারি ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর।






