হঠাৎই বদলে গেল শহরের আবহাওয়া। শুক্রবার গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি আর দমকা হাওয়ায় কার্যত কাঁপল কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা। ভোরে ঘুম ভাঙতেই নাগরিকরা দেখলেন—গতকালের তুলনায় তাপমাত্রা এক ধাক্কায় প্রায় ছ’ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে গেছে। মার্চের শেষভাগে এমন আবহাওয়া বদল অনেককেই অবাক করেছে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের মতে, উত্তর-পশ্চিম ভারতে তৈরি হওয়া একটি ঘূর্ণাবর্ত এবং তার সঙ্গে যুক্ত নিম্নচাপের প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো হাওয়া। শুধু কলকাতাই নয়, দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলাতেও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়ও হয়েছে।
শহরের বহু এলাকায় রাতভর বিদ্যুৎ চমক, মেঘগর্জন এবং প্রবল হাওয়ার শব্দে ঘুম ভেঙে যায় বাসিন্দাদের। কিছু জায়গায় গাছের ডাল ভেঙে পড়ার খবরও মিলেছে। ফলে সকালে অফিসযাত্রীদের জন্যও তৈরি হয় নানা সমস্যা।
তবে প্রশ্ন একটাই—এই অস্বাভাবিক আবহাওয়া আর কতদিন চলবে? তাপমাত্রা কি আবার বাড়বে, নাকি আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে? আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসে রয়েছে তারই উত্তর।
🌧️ ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে ঝড়বৃষ্টি, শহরজুড়ে স্বস্তির হাওয়া
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর একটি সক্রিয় ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। এর ফলে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে প্রচুর জলীয় বাষ্প প্রবেশ করছে, যা বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি করছে। সেই কারণেই রাতভর দফায় দফায় বৃষ্টি হয়েছে।
দমকা হাওয়ার গতিবেগ কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৪০–৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। এর সঙ্গে বজ্রপাতের ঘটনাও ঘটেছে বেশ কয়েকবার।
এই বৃষ্টির ফলে অবশ্য তাপপ্রবাহের আশঙ্কা আপাতত দূর হয়েছে। কয়েকদিন ধরে গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়ার পর এই হঠাৎ বৃষ্টি শহরবাসীর কাছে স্বস্তি নিয়ে এসেছে। অনেকেই একে ‘প্রাক-গ্রীষ্মের রেহাই’ বলেও মন্তব্য করছেন।
তবে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঝড়বৃষ্টি সাধারণত স্বল্পস্থায়ী হলেও হঠাৎ তীব্র হতে পারে। তাই বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় না থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
🌡️ এক ধাক্কায় ৬ ডিগ্রি কমল তাপমাত্রা, সকালের আবহাওয়া মনোরম

শুক্রবার রাতের বৃষ্টির পর শনিবার সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে প্রায় ২০–২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ছ’ডিগ্রি কম। মার্চ মাসে এমন তাপমাত্রা বিরল নয়, তবে এত দ্রুত পতন নজর কাড়ার মতো।
সকালের হালকা ঠান্ডা হাওয়া শহরবাসীকে অনেকটাই আরাম দিয়েছে। অনেকেই আবার সোয়েটার বা হালকা গরম পোশাক বের করতে বাধ্য হয়েছেন।
দুপুরে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও মেঘলা আকাশের কারণে তীব্র গরম অনুভূত হয়নি। আর্দ্রতাও তুলনামূলক কম ছিল, ফলে আবহাওয়া ছিল মনোরম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃষ্টির ফলে বাতাসে ধূলিকণা কমে যাওয়ায় দূষণের মাত্রাও কিছুটা হ্রাস পেয়েছে, যা শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য ভালো খবর।
⛈️ আর কত দিন চলবে এই আবহাওয়া? কী বলছে পূর্বাভাস
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪–৪৮ ঘণ্টা দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতাতেও দফায় দফায় বৃষ্টি হতে পারে।
তবে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা কম। ধীরে ধীরে ঘূর্ণাবর্ত দুর্বল হয়ে পড়লে আবহাওয়া স্বাভাবিক হবে এবং তাপমাত্রা আবার বাড়তে শুরু করবে।
এছাড়া বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে কালবৈশাখীর মতো ঝড়ের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। এই সময় বজ্রপাতের ঝুঁকি বেশি থাকে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
মৎস্যজীবীদের জন্যও সমুদ্র উত্তাল থাকার কারণে সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
হঠাৎ বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় কলকাতার আবহাওয়া এক লাফে বদলে গেছে। গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি মিললেও এই পরিস্থিতি স্থায়ী নয় বলেই মত আবহাওয়া দফতরের।
আগামী কয়েকদিন বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও ধীরে ধীরে তাপমাত্রা আবার বাড়বে। তাই গরমের প্রস্তুতি পুরোপুরি সরিয়ে রাখার সময় এখনও আসেনি।
তবে আপাতত শহরবাসীর কাছে এই ঠান্ডা আবহাওয়া এক টুকরো স্বস্তি—মার্চের শেষভাগে প্রকৃতির এক অপ্রত্যাশিত উপহার।






