কলকাতা শহরের বিভিন্ন পানশালা, ক্লাব ও রেস্তরাঁর বিরুদ্ধে বকেয়া বিনোদন কর আদায়ে কড়া পদক্ষেপ নিতে শুরু করল কলকাতা পুরসভা। বহুদিন ধরে জমে থাকা কর বকেয়া মেটাতে না পারায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলিকে নোটিস পাঠানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। প্রশাসনের দাবি, শহরের রাজস্ব বাড়াতে এবং কর ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ করতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।
পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, শহরের বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্র—বিশেষ করে লাইভ মিউজিক বার, নাইট ক্লাব এবং থিম রেস্তরাঁ—বছরের পর বছর বিনোদন কর বকেয়া রেখে দিয়েছে। বহুবার মৌখিকভাবে সতর্ক করার পরও কর পরিশোধ না হওয়ায় এবার আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিস পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শহরের রাজস্ব ঘাটতি পূরণ করতে এবং আইন অনুযায়ী কর আদায় নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে পুরসভার একাধিক আধিকারিক জানিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে যেসব প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে কর বকেয়া রেখেছে, তাদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
পুরসভা কর্তৃপক্ষের মতে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর মিটিয়ে না দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আরও কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিল বা জরিমানার মতো ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
বকেয়া বিনোদন কর আদায়ে অভিযান জোরদার

কলকাতা পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, শহরের বিভিন্ন বিনোদনমূলক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে বিনোদন কর বকেয়া রেখে দিয়েছে। এই কর মূলত বিভিন্ন লাইভ পারফরম্যান্স, ডিজে নাইট, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা অন্যান্য বিনোদনমূলক আয়োজনের ওপর ধার্য করা হয়।
প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, কয়েক কোটি টাকার কর বকেয়া রয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এর মধ্যে বেশ কিছু জনপ্রিয় পানশালা, ক্লাব এবং থিম রেস্তরাঁও রয়েছে। কর আদায়ে গাফিলতির অভিযোগে এই প্রতিষ্ঠানগুলিকে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে।
পুরসভা জানিয়েছে, কর বকেয়া আদায়ের জন্য প্রথম ধাপে সতর্কতামূলক নোটিস পাঠানো হচ্ছে। এই নোটিসে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কর মেটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পথও খোলা থাকবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শহরের বিনোদন শিল্প ক্রমশ বাড়ছে। ফলে কর আদায়ের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রশাসন একদিকে যেমন রাজস্ব বাড়াতে চাইছে, অন্যদিকে কর ফাঁকি রোধ করাও তাদের অন্যতম লক্ষ্য।
পানশালা, ক্লাব ও রেস্তরাঁর উপর নজরদারি বাড়াচ্ছে পুরসভা

শুধু নোটিস পাঠিয়েই থেমে থাকতে চাইছে না পুরসভা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শহরের বিভিন্ন ক্লাব, বার ও রেস্তরাঁর উপর নজরদারিও বাড়ানো হচ্ছে।
বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠান নিয়মিত লাইভ মিউজিক বা ডিজে নাইট আয়োজন করে, তাদের আর্থিক নথি এবং কর পরিশোধের তথ্য খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স ও অনুমোদনের নথিও পরীক্ষা করা হবে।
পুরসভা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলি অনুষ্ঠান আয়োজন করলেও তার সঠিক কর জমা দেওয়া হয় না। এর ফলে সরকারি রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এখন থেকে এই ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে নিয়মিত পরিদর্শন এবং ডেটা যাচাইয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। কর সংগ্রহে স্বচ্ছতা আনতে ডিজিটাল রেকর্ড ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
কর না মেটালে কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত

পুরসভা স্পষ্ট জানিয়েছে, কর বকেয়া মেটাতে ব্যর্থ হলে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। প্রথম ধাপে নোটিস পাঠানো হলেও ভবিষ্যতে জরিমানা, লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিলের মতো সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে।
প্রশাসনের দাবি, অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়ম মেনে কর দেয়। তবে কিছু প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া রেখে দেওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
ব্যবসায়ী মহলের একাংশের দাবি, অনেক সময় কর সংক্রান্ত নিয়ম বা হিসাবের জটিলতার কারণে বকেয়া থেকে যায়। তাই তারা পুরসভার সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের পক্ষেই মত দিয়েছে।
অন্যদিকে নগর প্রশাসনের মতে, নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনা করলে কর দেওয়াও বাধ্যতামূলক। তাই শহরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলিকে দ্রুত বকেয়া মেটানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
কলকাতার বিনোদন শিল্প শহরের অর্থনীতি এবং সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য কর সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলা সমানভাবে জরুরি।
বকেয়া বিনোদন কর আদায়ে কলকাতা পুরসভার এই পদক্ষেপ শহরের প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে একদিকে যেমন রাজস্ব বাড়বে, অন্যদিকে কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতাও নিশ্চিত হবে।
আগামী দিনে কতগুলি প্রতিষ্ঠান বকেয়া কর মেটায় এবং কতগুলির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এখন সেটাই নজর রাখছে শহরবাসী ও ব্যবসায়ী মহল।






