রেলপথকে ব্যবহার করে মাদক পাচারের ঘটনা নতুন নয়, কিন্তু প্রতিদিনই নতুন কৌশল নিয়ে সামনে আসছে চক্রগুলি। এবার পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুর রেলস্টেশন থেকে উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ গাঁজা, যা বহন করছিলেন এক যুবক। তাঁর ব্যাগ ও সুটকেস ভর্তি ছিল নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্যে।
রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (RPF) ও সরকারি রেল পুলিশ (GRP)-এর যৌথ তৎপরতায় ধরা পড়ে এই পাচারচক্রের সম্ভাব্য সদস্য। ধৃত যুবকের বাড়ি বিহারে বলে জানা গেছে। সন্দেহ করা হচ্ছে, আন্তঃরাজ্য মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে তাঁর যোগ থাকতে পারে।
ঘটনার পর খড়্গপুর স্টেশন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন—এই বিপুল পরিমাণ গাঁজা কোথা থেকে আনা হচ্ছিল এবং কোথায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা রয়েছে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, রেলপথ এখনো মাদক পাচারকারীদের অন্যতম বড় রুট।
খড়্গপুর স্টেশনে নজরদারিতে ধরা পড়ল সন্দেহভাজন

রুটিন চেকিং চলাকালীনই সন্দেহজনক আচরণ নজরে আসে নিরাপত্তা বাহিনীর। প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা এক যুবককে ঘিরে ধরা হয়, কারণ তাঁর কাছে থাকা একাধিক বড় ব্যাগ ও সুটকেস দেখে সন্দেহ হয় কর্তব্যরত জওয়ানদের।
প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। এরপরই তাঁর লাগেজ তল্লাশি করা হয়। সেখান থেকেই বেরিয়ে আসে বিপুল পরিমাণ গাঁজা, যা প্যাকেটজাত করে রাখা ছিল যাতে সহজে ধরা না পড়ে।
সূত্রের খবর, মাদকটি বিভিন্ন ছোট প্যাকেটে ভাগ করা ছিল, যাতে পরিবহন সহজ হয় এবং ধরা পড়লেও পুরো চালান একসঙ্গে উদ্ধার না হয়। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্কতার কারণে পুরো মালামালই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
রেল পুলিশের মতে, উৎসবের মরসুম বা ভিড়ের সময় পাচারকারীরা বেশি সক্রিয় থাকে, কারণ তখন নজর এড়ানো সহজ হয়। এই ঘটনাও তেমনই এক পরিকল্পনার অংশ হতে পারে বলে অনুমান।
ব্যাগ খুলতেই চমক: বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার

তল্লাশিতে যে পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার হয়েছে, তা দেখে অবাক হয়ে যান কর্তব্যরত আধিকারিকরাও। কয়েক কেজি নয়, বরং একাধিক ব্যাগ ভর্তি করে আনা হয়েছিল মাদকদ্রব্য।
প্রাথমিক অনুমান, এর বাজারমূল্য কয়েক লক্ষ টাকার বেশি হতে পারে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এটি কোনও বড় চক্রের অংশ, যেখানে বিভিন্ন রাজ্যে সরবরাহ করা হয় মাদক।
ধৃত যুবক প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও পরে ভেঙে পড়েন। তিনি কোথা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করেছিলেন এবং কার কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল—তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
মাদক পাচারের ক্ষেত্রে রেলপথকে বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে পুলিশ জানায়, এটি তুলনামূলক সস্তা এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করে পাচারকারীরা। তবে সাম্প্রতিক কড়াকড়ির কারণে অনেক ক্ষেত্রেই পরিকল্পনা ভেস্তে যাচ্ছে।
আন্তঃরাজ্য মাদক চক্রের যোগ? তদন্তে নয়া তথ্য
পুলিশের ধারণা, ধৃত যুবক একা নয়। তাঁর পিছনে একটি বড় আন্তঃরাজ্য চক্র কাজ করছে, যারা উত্তর ও পূর্ব ভারতের বিভিন্ন জায়গায় মাদক সরবরাহ করে। বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গকে যুক্ত করে এমন নেটওয়ার্কের অস্তিত্ব আগেও সামনে এসেছে।
তদন্তকারীরা মোবাইল ফোন, কল রেকর্ড এবং ভ্রমণ সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখছেন। এতে আরও কয়েকজন জড়িত থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
রেলপথ ব্যবহার করে মাদক পাচার ঠেকাতে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে। তবে পাচারকারীরা প্রতিনিয়ত নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করায় চ্যালেঞ্জ থেকেই যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঘটনা শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়, সামাজিক সমস্যাও বটে। মাদক ছড়িয়ে পড়লে যুবসমাজ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই এই ধরনের অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
খড়্গপুর স্টেশনে বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার এবং বিহারের এক যুবকের গ্রেফতার—এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, মাদক পাচার চক্র কতটা সক্রিয় এবং সংগঠিত। রেলপথের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিষিদ্ধ দ্রব্য ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
তবে নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্কতা এবং সময়মতো পদক্ষেপের ফলে বড় ধরনের অপরাধ প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। তদন্তে যদি বড় চক্রের হদিস মেলে, তবে ভবিষ্যতে আরও বড় অভিযান চালানো হতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি। সন্দেহজনক কিছু দেখলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানোই পারে বড় বিপদ এড়াতে সাহায্য করতে।






