বাংলা সিনেমার ইতিহাসে কিছু চরিত্র সময়কে অতিক্রম করে কিংবদন্তিতে পরিণত হয়। কাকাবাবু সেই বিরল তালিকার অন্যতম। সাহিত্য থেকে বড় পর্দা—প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে যে আবেগ, সাহস আর বুদ্ধিমত্তার প্রতীক হয়ে উঠেছে এই চরিত্র, তার যাত্রা এবার আরও এক ধাপ এগোচ্ছে।
চতুর্থ কিস্তির বিপুল সাফল্যের পর আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হল পঞ্চম কাকাবাবু চলচ্চিত্র—“কাকাবাবু: ভয়ংকর সুন্দর”। প্রযোজনা সংস্থা SVF এবং Nideas এই ঘোষণাকে আখ্যা দিয়েছে দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতার নিদর্শন হিসেবে।
সাম্প্রতিক পোস্ট-রিলিজ থিয়েটার ভিজিটে প্রতি সপ্তাহান্তে বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করছিলেন ছবির টিম। সিনেমা শেষে হাততালি, প্রশ্নোত্তর আর উচ্ছ্বাসের মাঝেই একটি প্রশ্ন বারবার উঠে আসছিল—“পরের কিস্তি কবে?”
অবশেষে এক অপ্রত্যাশিত মুহূর্তে সেই প্রশ্নের উত্তর মিলল। এক সাধারণ হল ভিজিট মুহূর্তেই পরিণত হল উদযাপনে। উপস্থিত দর্শকদের সামনে ঘোষণা করা হল পঞ্চম অধ্যায়। কাকাবাবুর উত্তরাধিকার এবার নতুন অভিযানে। মুক্তি ২০২৭ সালে।
দর্শকদের ভালোবাসা থেকে জন্ম ‘ভয়ংকর সুন্দর’

চতুর্থ কাকাবাবু ছবির অসাধারণ সাড়া প্রমাণ করে দিয়েছে—এই চরিত্র আজও সমান প্রাসঙ্গিক। নস্ট্যালজিয়া আর আধুনিকতার মেলবন্ধনে কাকাবাবু শুধু সাহিত্যিক স্মৃতি নয়, বরং সমকালীন অ্যাডভেঞ্চার সিনেমার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
হল ভিজিটে টিম সরাসরি শুনেছেন দর্শকদের প্রতিক্রিয়া। শিশু থেকে প্রবীণ—সবাই একই আবেগে একত্র। এই ভালোবাসাই নির্মাতাদের প্রেরণা জুগিয়েছে নতুন কিস্তি ঘোষণা করতে।
যা শুরু হয়েছিল সাধারণ এক ইন্টারঅ্যাকশন হিসেবে, তা পরিণত হয় এক স্মরণীয় ঘোষণায়। দর্শকদের সামনে সরাসরি ঘোষণা—“ভয়ংকর সুন্দর” আসছে। একে প্রযোজকরা বলছেন ‘হার্টফেল্ট টোকেন অব অ্যাপ্রিসিয়েশন’।
কাকাবাবু শুধু একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি নয়; এটি বাংলা সাহিত্যের উত্তরাধিকার। সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়-এর সৃষ্ট চরিত্র আজও সমান জনপ্রিয়। এই ধারাবাহিক সাফল্য প্রমাণ করে—ভালো গল্প কখনও পুরোনো হয় না।
পরিচালনায় চন্দ্রাশিস রায়, কাকাবাবু হিসেবে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের প্রত্যাবর্তন


পঞ্চম কিস্তির পরিচালনার দায়িত্বে ফিরছেন চন্দ্রাশিস রায়। তাঁর সূক্ষ্ম গল্প বলার ভঙ্গি এবং কাকাবাবুর জগতের গভীর বোঝাপড়া আগের ছবিগুলিকে দিয়েছে আলাদা মাত্রা। নির্মাতারা জানিয়েছেন, তাঁর প্রত্যাবর্তন ফ্র্যাঞ্চাইজির ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
কেন্দ্রীয় চরিত্রে আবারও পদ্মশ্রী প্রাপ্ত প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর অভিনয়ে কাকাবাবু যেন সাহস, মেধা এবং আবেগের সমন্বিত প্রতীক। প্রজন্মান্তরে গ্রহণযোগ্য এক পর্দার নায়ক।
প্রসেনজিৎ জানিয়েছেন, কাকাবাবু তাঁর কাছে শুধুই চরিত্র নয়—এক আবেগ। দর্শকদের ভালোবাসা তাঁকে গভীরভাবে আপ্লুত করেছে। হলের মধ্যেই পঞ্চম কিস্তির ঘোষণা তাঁকে বিশেষভাবে আনন্দিত করেছে।
পরিচালক চন্দ্রাশিস রায় বলেছেন, কাকাবাবুর জগৎ এখনও অসীম সম্ভাবনায় ভরপুর। “ভয়ংকর সুন্দর” নতুন আবেগ ও নতুন অ্যাডভেঞ্চারের দিগন্ত খুলবে, তবে মূল সাহিত্যিক আত্মাকে অক্ষুণ্ণ রেখেই।
সঙ্গীতে থাকছেন ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত। তাঁর আবেগঘন সুর ও থ্রিলিং ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর ছবির অভিযাত্রাকে আরও গভীরতা দেবে বলে প্রত্যাশা।
কাশ্মীরের অজানা প্রেক্ষাপটে নতুন অভিযান
এই ছবির কাহিনি ও অন্যান্য কাস্ট সংক্রান্ত তথ্য আপাতত গোপন রাখা হয়েছে। তবে জানা গেছে, কাহিনি আবর্তিত হবে কাশ্মীরের বিস্ময়কর ও অনেকাংশে অনাবিষ্কৃত প্রাকৃতিক প্রেক্ষাপটে।
প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের সঙ্গে থাকবে বিপদের ছায়া। শিরোনামই ইঙ্গিত দিচ্ছে—ভয়ংকর ও সুন্দর পাশাপাশি চলবে। থ্রিল, বুদ্ধির লড়াই এবং আবেগ—সব মিলিয়ে এক পরিপূর্ণ অ্যাডভেঞ্চার ড্রামা।
কাশ্মীরের পাহাড়, উপত্যকা, বরফঢাকা প্রান্তর—সব মিলিয়ে ছবিটি ভিজ্যুয়াল গ্র্যান্ডিয়ার ও আবেগঘন কাহিনির সংমিশ্রণ হবে বলে আশা। বাংলা সিনেমায় লোকেশন-ভিত্তিক বড় মাপের অ্যাডভেঞ্চার চলচ্চিত্রের নতুন সংযোজন হতে চলেছে এটি।
নির্মাতারা জানিয়েছেন, সাহিত্যিক ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে সমসাময়িক গল্প বলার কৌশল যুক্ত করা হবে। অর্থাৎ, পুরনো পাঠকের নস্ট্যালজিয়া এবং নতুন প্রজন্মের দর্শকের প্রত্যাশা—দুই-ই পূরণ করার লক্ষ্য।
২০২৭ সালে মুক্তির লক্ষ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। “অ্যাডভেঞ্চার কন্টিনিউস”—এই বার্তাই এখন কাকাবাবু ভক্তদের জন্য বড় আশ্বাস।
কাকাবাবু ফ্র্যাঞ্চাইজি আজ বাংলা সিনেমার এক সুদৃঢ় ব্র্যান্ড। সাহিত্য থেকে সেলুলয়েড—এই দীর্ঘ যাত্রায় প্রতিটি অধ্যায়ই নতুন প্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে এক অমর চরিত্রের সঙ্গে।
“ভয়ংকর সুন্দর” শুধু একটি নতুন ছবি নয়; এটি উত্তরাধিকার বহনের অঙ্গীকার। দর্শকদের ভালোবাসাই যার শক্তি, সেই যাত্রা ২০২৭-এ আরও এক রোমাঞ্চকর অধ্যায়ে পৌঁছবে।
কাকাবাবুর অভিযান থামছে না। বরং আরও বিস্তৃত হচ্ছে—ভয়, সৌন্দর্য ও বুদ্ধির মেলবন্ধনে।






