ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৪০৫ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করে একদিনের ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস লিখল ভারত। গুয়াহাটিতে দ্বিতীয় ODI-তে ৮ উইকেটে জয় পেল টিম ইন্ডিয়া। আর এই জয়ের সবচেয়ে বড় নায়ক শুবমন গিল—মাত্র ১৩৩ বলে অপরাজিত ২২৩ রান করে গড়লেন ODI ক্রিকেটের দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড।
ব্যাটিংয়ের শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে ছিলেন গিল। তাঁর ইনিংসে ছিল চার ও ছক্কার দারুণ মিশেল। ২৭ বছর বয়সী এই ভারতীয় ব্যাটার শুধু নিজের দ্বিতীয় ODI ডাবল সেঞ্চুরিই করেননি, কঠিন রান তাড়াকে পরিণত করেছেন একতরফা জয়ে।
অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজও কম যায়নি। প্রথমে ব্যাট করে ৪০৫/৭ রান তোলে তারা। জন ক্যাম্পবেল, শাই হোপ ও আমির জাঙ্গু—তিন ব্যাটারই শতরান করেন। তবে এত বড় স্কোরও শেষ পর্যন্ত ভারতের সামনে যথেষ্ট হয়নি।
গিলের ব্যাটে রেকর্ডের বন্যা

গিলের ২২৩ রান এসেছে মাত্র ১৩৩ বলে। তাঁর এই ইনিংসের হাত ধরেই তিনি ODI ক্রিকেটে দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির নজির গড়েছেন। এর আগে ২০২৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে হায়দরাবাদে প্রথম ODI ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন গিল।
গুয়াহাটির ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে শুরু থেকেই বোলারদের উপর চাপ তৈরি করেন ভারতীয় ওপেনার। পরিস্থিতি বুঝে শট বাছাই, দ্রুত রান নেওয়া এবং সঠিক সময়ে বাউন্ডারি—সব মিলিয়ে গিলের ইনিংস ছিল নিয়ন্ত্রিত আগ্রাসনের নিখুঁত উদাহরণ।
এই ম্যাচে গিল শুধু ডাবল সেঞ্চুরি করেননি, তাঁর শতরানও এসেছে দ্রুত গতিতে। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকেই দলকে লক্ষ্যে পৌঁছে দেন তিনি।
রোহিতের শতরান, কোহলির ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে সহজ হল রান তাড়া

ভারতের রান তাড়ার ভিত তৈরি করে দেন রোহিত শর্মা। মাত্র ৭২ বলে শতরান করেন তিনি। গিলের সঙ্গে তাঁর ওপেনিং জুটিতে আসে ২৫৫ রান। এই ইনিংসের মাঝেই রোহিত ১২,০০০ ODI রানের মাইলফলকও পার করেন।
শেষ পর্যন্ত ১০১ রানে আউট হন রোহিত। এরপর বিরাট কোহলি ১৯ বলে ২৯ রান করে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের ধার বজায় রাখেন। রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের ৩১ রানও ভারতের রান তাড়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে ৪০৬ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে যায় ভারত। হাতে ছিল আরও ৩৯ বল। ফলে প্রথম ম্যাচের পর দ্বিতীয় ODI-তেও জয় তুলে নিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত।
৪০৫ রান করেও ম্যাচ বাঁচাতে পারল না ওয়েস্ট ইন্ডিজ

প্রথমে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪০৫/৭ রান তোলে। জন ক্যাম্পবেল ১০১, অধিনায়ক শাই হোপ ১০০ এবং আমির জাঙ্গু ১১৪ রান করেন। একই ODI ইনিংসে তিন ব্যাটারের শতরান হওয়ার ঘটনা ক্রিকেটে অত্যন্ত বিরল; এটি এমন মাত্র ষষ্ঠ নজির।
শেষ ১০ ওভারে ৭৬ রান তুলে ভারতকে বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু ভারতের ওপেনিং জুটি শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বদলে দেয়। শেষ পর্যন্ত গিলের অপরাজিত ২২৩ রানের সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশাল স্কোরও নিরাপদ থাকেনি।
শুবমন গিলের ঐতিহাসিক ডাবল সেঞ্চুরি, রোহিত শর্মার শতরান এবং ভারতের দুর্দান্ত রান তাড়া—সব মিলিয়ে গুয়াহাটির ম্যাচ হয়ে থাকল ODI ক্রিকেটের স্মরণীয় এক অধ্যায়। ৪০৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৩৯ বল হাতে রেখে জয় ভারতীয় ব্যাটিংয়ের গভীরতা ও আগ্রাসনকে আরও একবার সামনে আনল।







