দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাই বিমানে মাঝআকাশে তৈরি হয়েছিল ভয়াবহ পরিস্থিতি। সহ-পাইলটের হামলায় গুরুতর আহত হন ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্চার। এরপর বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করলে যাত্রীদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। শেষ পর্যন্ত পাইলট, যাত্রী এবং বিমানে থাকা অন্য পাইলটদের সম্মিলিত তৎপরতায় বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
এই ঘটনার পর ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্চারকে ‘হিরো’ বলে প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প জানিয়েছেন, গুরুতর আহত অবস্থাতেও মাচ্চার ককপিটের দরজা খুলে সাহায্যের জন্য চিৎকার করেন। সেই সুযোগেই যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা ককপিটে ঢুকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
ঘটনাটি ঘটে ফ্লাইট FZ1073-এ। বিমানটি দুবাই থেকে তেল আভিভের দিকে যাচ্ছিল। পরে জরুরি পরিস্থিতির কারণে বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুকে অবতরণ করানো হয়। বিমানে থাকা ১৭৪ জন যাত্রীই শেষ পর্যন্ত নিরাপদে বেরিয়ে আসেন।
প্লাম্বারের সাহসী ভূমিকা

ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, বিপদের মুহূর্তে এক ইজরায়েলি যাত্রীও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। পেশায় তিনি একজন প্লাম্বার এবং তাঁর আগে বিমান চালানোর কোনও অভিজ্ঞতা ছিল না বলেই ট্রাম্প জানিয়েছেন।
ট্রাম্পের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই যাত্রী ককপিটে ঢুকে হামলাকারী সহ-পাইলটকে আসন থেকে সরিয়ে দেন। পরে অন্য যাত্রী ও বিমানে থাকা কর্মীরা তাঁকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করেন। আরও কয়েকজন অফ-ডিউটি পাইলট পরে ককপিটে পৌঁছে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিতে সহায়তা করেন।
ট্রাম্প আরও জানান, ওই যাত্রী নাকি টেলিভিশনের ‘Air Disasters’ অনুষ্ঠান দেখে বিমান চালনা সম্পর্কে কিছু প্রাথমিক ধারণা পেয়েছিলেন। তবে এই বিবরণের সবটা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি—ট্রাম্প নিজেও জানিয়েছেন, তিনি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও অন্যদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যই তুলে ধরছেন।
ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে সরালেন প্লাম্বার

ট্রাম্পের বর্ণনা অনুযায়ী, ইজরায়েলের এক যাত্রী—পেশায় প্লাম্বার—ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করেন। ওই যাত্রীর বিমান চালানোর কোনও আনুষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা ছিল না। পরে তিনি জানান, বিমান-দুর্ঘটনা নিয়ে তৈরি একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠান দেখে কিছু প্রাথমিক ধারণা পেয়েছিলেন।
রিপোর্ট অনুযায়ী, যাত্রী ইয়ানিভ হায়ুন ককপিটে ঢুকে একজন পাইলটকে মাটিতে আহত অবস্থায় এবং অন্যজনকে নিয়ন্ত্রণের কাছে দেখতে পান। তিনি হামলাকারীকে পিছনে সরিয়ে দিতে সাহায্য করেন। পরে বিমানে থাকা এক অফ-ডিউটি পাইলট ককপিটের নিয়ন্ত্রণ নেন।
তাবুকে জরুরি অবতরণ, তদন্তে একাধিক প্রশ্ন
শেষ পর্যন্ত Flight FZ1073-কে ইজরায়েলের পরিবর্তে সৌদি আরবের তাবুকের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে নিরাপদে অবতরণ করে বিমানটি। ঘটনায় যাত্রীদের প্রাণহানি হয়নি। পাইলট স্মিত মাচ্ছারকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিভিন্ন রিপোর্টে স্থিতিশীলতার কথা জানানো হয়েছে।
তবে ঘটনার আসল উদ্দেশ্য এবং সহ-পাইলটের আচরণের কারণ এখনও তদন্তাধীন। সন্ত্রাসবাদী উদ্দেশ্য ছিল কি না, নাকি অন্য কোনও কারণ থেকে এই হামলা—তা এখনও নিশ্চিত নয়। সৌদি ও ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
একটি সাধারণ আন্তর্জাতিক বিমানযাত্রা মুহূর্তের মধ্যে পরিণত হয়েছিল ভয়াবহ জরুরি পরিস্থিতিতে। আহত অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খুলে সাহায্যের সুযোগ করে দেওয়া পাইলট স্মিত মাচ্ছারের ভূমিকা এবং যাত্রীদের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপই শেষ পর্যন্ত বড় বিপর্যয় এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে ঘটনার পূর্ণ সত্য জানতে তদন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।







