দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমান ঘিরে বুধবার মাঝআকাশে তৈরি হল তীব্র আতঙ্ক। বিমানটি আচমকাই প্রায় ১৭,৪০০ ফুট উচ্চতা হারায় মাত্র দু’মিনিটে। এরপর জরুরি সংকেত পাঠানো হলে বিমানটিকে সৌদি আরবের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার সময় বিমানটি প্রায় ৩৪,০০০ ফুট উচ্চতায় ছিল বলে ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য থেকে জানা যায়। দ্রুত নেমে বিমানটি প্রায় ১৬,৬০০ ফুটে চলে আসে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইজরায়েলি বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমানও সতর্ক করা হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
প্রথমে বিমান থেকে 7700 জরুরি কোড পাঠানো হয়। পরে সেটি 7500 কোডে পরিবর্তিত হয়, যা আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে unlawful interference বা বেআইনি হস্তক্ষেপের সংকেত হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে সম্ভাব্য হাইজ্যাকের আশঙ্কা তৈরি হয়।
তবে পরবর্তী রিপোর্টে পরিস্থিতির ছবি কিছুটা বদলায়। হাইজ্যাকের বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি এবং ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষের তরফেও পরে হাইজ্যাকের চেষ্টা নাকচ করার কথা জানানো হয়। বিমানের ভিতরে দুই পাইলটের মধ্যে মারামারির ঘটনাই জরুরি পরিস্থিতির কারণ হতে পারে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।
১৭,৪০০ ফুট উচ্চতা কমল মাত্র দুই মিনিটে

ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি প্রায় ৩৪,০০০ ফুট থেকে দ্রুত নেমে প্রায় ১৬,৬০০ ফুটে পৌঁছয়। এই আকস্মিক অবতরণ যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি করে। পরে বিমানটি আবার কিছুটা উচ্চতা ফিরে পেলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল ছিল না।
প্রায় আড়াই ঘণ্টা উড়ানের পর এই ঘটনা ঘটে। বিমানটি শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের Tabuk Airport-এ নিরাপদে অবতরণ করে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার তদন্ত শুরু হয়।
ককপিটে কী ঘটেছিল? উঠছে একাধিক প্রশ্ন

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে হিংসাত্মক সংঘর্ষ হয়েছিল। এমনকি একজন পাইলটকে ছুরি দিয়ে আঘাত করার অভিযোগও সামনে এসেছে। তবে ঘটনার সম্পূর্ণ ক্রম এবং উদ্দেশ্য এখনও তদন্তাধীন।
যাত্রীদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিমানের সামনের দিক থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শোনা যায়। এরপর বিমান আচমকাই তীব্রভাবে নীচে নামতে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যাত্রী ও বিমানে থাকা অফ-ডিউটি ক্রু সদস্যদের ভূমিকার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ, তদন্ত শুরু

ঘটনার পর বিমানটি তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে নামে। প্রায় ১৮০ জন যাত্রী ছিলেন বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিমান সংস্থা জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তারা তদন্তে সহযোগিতা করছে এবং নিশ্চিত তথ্য হাতে এলে আরও বিস্তারিত জানানো হবে।
প্রাথমিকভাবে হাইজ্যাকের আশঙ্কা তৈরি হলেও, পরে সেই সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ফলে ফ্লাইদুবাই ফ্লাইট FZ1073-এর মাঝআকাশের ঘটনা এখন বিমান নিরাপত্তা, ককপিট সুরক্ষা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে যাত্রী-ক্রুদের ভূমিকা—এই তিন দিক থেকেই তদন্তের কেন্দ্রে।
মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে ১৭,৪০০ ফুট উচ্চতা হারানো এবং পরপর জরুরি সংকেত—ফ্লাইদুবাইয়ের এই ঘটনা যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। যদিও বিমানটি শেষ পর্যন্ত নিরাপদে অবতরণ করে, ককপিটে ঠিক কী ঘটেছিল এবং কেন এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার পূর্ণ উত্তর এখনও তদন্তের অপেক্ষায়।







