পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক প্রস্তুতিতে গতি বাড়াল নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হবে রাজ্যের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। তার আগে ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করতে হবে সব দাবি-আপত্তির শুনানি।
নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি, নাম সংশোধন, ঠিকানা পরিবর্তন কিংবা মৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া—এই সব প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত পর্যায়ে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সমস্ত আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নির্ভুল ভোটার তালিকা নিশ্চিত করতে এই পর্যায়কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষত তরুণ ভোটার ও প্রথমবার ভোটদানকারীদের অন্তর্ভুক্তির উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের দাবি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব শুনানি সম্পন্ন করে ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্ভুল ও আপডেটেড চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।
দাবি-আপত্তির শুনানি শেষ ১৪ ফেব্রুয়ারি: কীভাবে চলছে প্রক্রিয়া?
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হল দাবি ও আপত্তির শুনানি। এই পর্যায়ে নাগরিকরা তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্তি, সংশোধন বা অপসারণ সংক্রান্ত আবেদন জমা দেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেই আবেদনগুলি যাচাই করে শুনানি সম্পন্ন করা হয়।
বুথ লেভেল অফিসার (BLO) ও সংশ্লিষ্ট নির্বাচন আধিকারিকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাই করছেন। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও আবেদন জমা নেওয়া হয়েছে, যাতে শহর ও গ্রাম—দুই জায়গাতেই সমানভাবে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
নির্বাচন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে ভুয়ো নাম বা ডুপ্লিকেট এন্ট্রি শনাক্তকরণে। আধার ও অন্যান্য পরিচয়পত্রের সঙ্গে মিলিয়ে তথ্য যাচাই চলছে। ফলে তালিকার স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করার চেষ্টা জোরদার হয়েছে।
১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সমস্ত শুনানি শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমা মেনে কাজ শেষ করতে জেলা প্রশাসনকেও বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা: রাজনৈতিক গুরুত্ব ও প্রভাব

চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন রাজনৈতিক মহলে বাড়তি গুরুত্ব পায়। কারণ এই তালিকাই নির্ধারণ করে কোন কেন্দ্রে কতজন ভোটার, কোন বয়সগোষ্ঠীর কত অংশগ্রহণ, এবং নতুন ভোটারদের সংখ্যা কত।
রাজনৈতিক দলগুলিও নজর রাখছে এই প্রক্রিয়ার উপর। বিশেষ করে প্রথমবারের ভোটারদের অন্তর্ভুক্তি ও নাম বাদ যাওয়া নিয়ে প্রতিটি দলই সতর্ক। কারণ ভোটার তালিকার সামান্য পরিবর্তনও নির্বাচনী অঙ্কে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তালিকা প্রস্তুত করা হবে। কোনও অভিযোগ থাকলে তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে।
ডিজিটাল আপডেট ও অনলাইন চেকিং সুবিধা থাকায় নাগরিকরা সহজেই নিজেদের নাম যাচাই করতে পারছেন। ফলে সচেতনতার মাত্রাও বেড়েছে।
তরুণ ভোটার, নগর-গ্রাম সমীকরণ ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ

এবারের ভোটার তালিকায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে তরুণ প্রজন্ম। ১৮ বছর পূর্ণ করা নতুন ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করতে একাধিক সচেতনতা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও গ্রামাঞ্চলে বিশেষ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল।
নগর ও গ্রামাঞ্চলের ভোটার তথ্য হালনাগাদ করাও বড় চ্যালেঞ্জ। শহরে ঠিকানা পরিবর্তন ও কর্মসূত্রে স্থানান্তর বেশি হওয়ায় তালিকা সংশোধনের কাজ জটিল হয়। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে তথ্য সংগ্রহে সরাসরি মাঠপর্যায়ে কাজ করতে হয়।
প্রশাসনের দাবি, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদের সমন্বয়ে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা হচ্ছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদ প্রক্রিয়া শেষ হলে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
২৮ ফেব্রুয়ারির চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সব শুনানি শেষ করার লক্ষ্য প্রশাসনের জন্য বড় পরীক্ষা। নির্ভুল ও স্বচ্ছ ভোটার তালিকাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ভিত্তি।
নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সচেতনতা এই প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে—সঠিক ভোটার তালিকা প্রস্তুতই হতে চলেছে বাংলার নির্বাচনী লড়াইয়ের প্রথম বড় ধাপ।






