শীতের দাপটে ফের বিপর্যস্ত দিল্লির আকাশপথ। সোমবার ভোর থেকে জাতীয় রাজধানীতে ঘন কুয়াশার দাপটে দৃশ্যমানতা নেমে আসে অত্যন্ত নিম্নস্তরে। তার জেরেই ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অন্তত ৪০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, আর ৪টি ফ্লাইটকে ডাইভার্ট করতে হয়েছে অন্য শহরে। যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা আর ক্ষোভে ভরে উঠেছে বিমানবন্দর চত্বর।
ভোররাতেই কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় দিল্লি ও এনসিআর এলাকা। রানওয়েতে দৃশ্যমানতা নেমে আসায় নিরাপত্তার স্বার্থে একের পর এক ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল। দিল্লি থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করা বহু যাত্রী কার্যত আটকে পড়েন।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মূলত ঘন কুয়াশা ও নিম্ন দৃশ্যমানতার কারণেই এই সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে আবহাওয়া দফতর সতর্ক করেছে, আগামী কয়েক দিন উত্তর ভারতের আবহাওয়া পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে।
এই ঘটনার প্রভাব শুধু দিল্লিতেই সীমাবদ্ধ নয়। দেশের অন্যান্য বিমানবন্দরেও তার রেশ পড়েছে, কারণ দিল্লি দেশের অন্যতম ব্যস্ত এভিয়েশন হাব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতের এই সময়ে কুয়াশাজনিত ফ্লাইট বিঘ্ন এখন আর ব্যতিক্রম নয়, বরং বার্ষিক বাস্তবতা।
ঘন কুয়াশায় ফ্লাইট বাতিল ও ডাইভার্সন: কী পরিস্থিতি দিল্লি বিমানবন্দরে?


Search Text: Delhi airport dense fog flights
Caption (Bengali): ভোরের ঘন কুয়াশায় ঢেকে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
Alt Text (Bengali): ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়া দিল্লি বিমানবন্দরের রানওয়ে
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার ভোরে রানওয়েতে দৃশ্যমানতা অনেক জায়গায় ৫০ মিটারেরও নিচে নেমে যায়। এই অবস্থায় অবতরণ ও উড্ডয়ন কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলস্বরূপ, ৪০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয় এবং চারটি আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটকে জয়পুর, লখনউ ও চণ্ডীগড়ের মতো বিকল্প বিমানবন্দরে পাঠানো হয়।
সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে ঘরোয়া উড়ান পরিষেবায়। সকালের ব্যস্ত সময়ে দিল্লি থেকে মুম্বই, বেঙ্গালুরু, কলকাতা ও হায়দরাবাদের মতো শহরের বহু ফ্লাইট বাতিল হয়। যাত্রীদের অনেকেই জানান, তাঁরা আগাম কোনও স্পষ্ট বার্তা পাননি, ফলে বিমানবন্দরে পৌঁছে হঠাৎ করেই বিপাকে পড়েন।
এয়ারলাইন্সগুলির দাবি, নিরাপত্তাই তাদের প্রথম অগ্রাধিকার। কুয়াশার কারণে CAT-III ল্যান্ডিং সিস্টেম থাকা সত্ত্বেও সব ফ্লাইট চালানো সম্ভব হয় না। পাইলটদের দৃশ্যমানতার নির্দিষ্ট সীমা মানতেই হয়, নচেৎ দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে।
যাত্রী ভোগান্তি ও এয়ারলাইন্সের প্রতিক্রিয়া

Search Text: Delhi airport passenger delay fog
Caption (Bengali): ফ্লাইট বাতিলের খবরে বিমানবন্দরে অপেক্ষারত যাত্রীরা
Alt Text (Bengali): কুয়াশাজনিত ফ্লাইট দেরিতে দিল্লি বিমানবন্দরে ভিড় ও যাত্রী ভোগান্তি
ফ্লাইট বাতিল ও দেরির কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। অনেকেই ব্যবসায়িক সফরে যাচ্ছিলেন, কেউ আবার জরুরি পারিবারিক কাজে। বিমানবন্দরের টার্মিনালে দীর্ঘ লাইন, তথ্যের অভাব এবং কাউন্টার বদলের ধাক্কায় উত্তেজনা ছড়ায়।
কয়েকটি এয়ারলাইন্স সামাজিক মাধ্যমে জানায়, যাত্রীরা যেন নিয়মিত ফ্লাইট স্ট্যাটাস চেক করেন এবং প্রয়োজনে রিশিডিউল বা রিফান্ডের বিকল্প ব্যবহার করেন। কিছু সংস্থা খাবার কুপন ও বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থাও করেছে বলে দাবি।
তবে যাত্রী সংগঠনগুলির অভিযোগ, কুয়াশা দিল্লিতে নতুন বিষয় নয়। তবু প্রতি বছর একই সমস্যা দেখা যায়। উন্নত পরিকল্পনা ও আগাম সতর্কতা থাকলে ভোগান্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন তাঁরা।
দিল্লির আবহাওয়া ও আগামী দিনের পূর্বাভাস


Search Text: Delhi weather dense fog winter
Caption (Bengali): শীতের সকালে কুয়াশার চাদরে ঢাকা দিল্লি-এনসিআর
Alt Text (Bengali): শীতকালীন ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন দিল্লির রাস্তা ও আকাশ
আবহাওয়া দফতরের মতে, উত্তর-পশ্চিম ভারতে শীতল হাওয়া ও উচ্চ আর্দ্রতার কারণে কুয়াশা আরও ঘন হচ্ছে। বিশেষ করে রাত ও ভোরের দিকে পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ থাকে। দিল্লিতে তাপমাত্রা কমার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশার ঘনত্ব বাড়ছে, যার প্রভাব সরাসরি পড়ছে বিমান চলাচলে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, আগামী কয়েক দিনও সকালের দিকে দৃশ্যমানতা কম থাকতে পারে। ফলে বিমান চলাচল, ট্রেন পরিষেবা ও সড়ক পরিবহণ—সব ক্ষেত্রেই বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। যাত্রীদের আগাম পরিকল্পনা করে যাত্রা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশবিদদের একাংশের মতে, কুয়াশার সঙ্গে দূষণের মিশ্রণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। শীতের মরশুমে দিল্লির বায়ুদূষণ কুয়াশাকে আরও ঘন করে তোলে, যার ফল ভোগ করতে হয় সাধারণ মানুষকে।
দিল্লির ঘন কুয়াশা আবারও প্রমাণ করল, শীতকাল মানেই আকাশপথে অনিশ্চয়তা। ৪০টি ফ্লাইট বাতিল ও একাধিক ডাইভার্সনের ঘটনা শুধু যাত্রী ভোগান্তির ছবিই তুলে ধরছে না, বরং পরিকাঠামো ও পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতাও সামনে আনছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সতর্কতাই একমাত্র পথ—এ কথা মেনেই চলতে হবে যাত্রী, এয়ারলাইন্স ও কর্তৃপক্ষকে।






