বাংলা ছবির ধারাবাহিকতায় নতুন এক অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিল Windows Productions। প্রকাশ পেল তাদের আসন্ন হরর-কমেডি ছবি Bhanupriya Bhooter Hotel-এর অফিসিয়াল টিজার। ইউটিউবে স্ট্রিমিং হওয়া এই টিজার ইতিমধ্যেই দর্শকদের কৌতূহল উসকে দিয়েছে, কারণ এতে ভয় আর হাসির অপ্রত্যাশিত সংঘর্ষকে ধরা হয়েছে এক অনন্য আবহে।
টিজারটি মুক্তির সঙ্গে সঙ্গেই স্পষ্ট, ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’ শুধুমাত্র প্রচলিত ভৌতিক ছবি নয়। এটি এমন এক গল্পের আভাস দেয়, যেখানে আতঙ্কের পাশাপাশি রয়েছে রসিকতা, চরিত্রের খামখেয়ালিপনা আর এক অদ্ভুত সামাজিক প্রতিফলন। পুরনো দিনের এক রহস্যময় হোটেল—যার প্রতিটি করিডোরে যেন লুকিয়ে আছে অচেনা উপস্থিতি—এই ছবির প্রধান মঞ্চ।
ছবির অভিনয়ে রয়েছেন Mimi Chakraborty, Soham Mazumder, Bonny Sengupta, Swastika Dutta, Anamika Saha, Manasi Sinha, Kanchan Mullick এবং Joydeep Mukherjee সহ আরও অনেকে। এই বহুমাত্রিক কাস্টই ছবির গল্পকে আরও রঙিন করে তুলবে বলে মনে করছেন অনেকে।
পরিচালনায় রয়েছেন Aritra Mukherjee এবং কাহিনির ভাবনা এসেছে Zinia Sen-এর কাছ থেকে। টিজারটি ইঙ্গিত দেয়, ছবির মূল শক্তি লুকিয়ে রয়েছে তার মুড, রহস্য আর চরিত্রের পারস্পরিক সংঘাতে—যা দর্শককে ধীরে ধীরে টেনে নিয়ে যাবে এক অদ্ভুত ভৌতিক জগতে।
টিজারে ভৌতিক আবহ আর কৌতুকের সূক্ষ্ম ভারসাম্য


টিজারের প্রতিটি ফ্রেমে চোখে পড়ে আলো-ছায়ার খেলা। ভারী ছায়া, ম্লান রঙের ব্যবহার আর পুরনো দিনের স্থাপত্য—সব মিলিয়ে হোটেলটিকে যেন আলাদা এক চরিত্রে পরিণত করা হয়েছে। এখানে ভয় দেখানোর চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে পরিবেশ তৈরি করার কৌশল।
একই সঙ্গে, হালকা হাস্যরস ছবিটিকে অতিরিক্ত গম্ভীর হতে দেয় না। অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি, চরিত্রদের অদ্ভুত প্রতিক্রিয়া আর সময়োচিত কৌতুক—সব মিলিয়ে টিজারটি এমন এক স্বাদ দেয়, যা বাংলায় খুব বেশি দেখা যায়নি। এটি স্পষ্ট যে নির্মাতারা ‘জাম্প স্কেয়ার’-এর বদলে গল্প আর আবহকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
এই সূক্ষ্ম ভারসাম্যই টিজারটিকে আলাদা করে তুলেছে। দর্শক একদিকে যেমন অস্বস্তি অনুভব করেন, তেমনই পরমুহূর্তে হেসে ওঠেন—এই দ্বৈত অনুভূতিই ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’-এর মূল আকর্ষণ।
চরিত্রনির্ভর গল্পে উইন্ডোজ প্রোডাকশনের নতুন অধ্যায়

উইন্ডোজ প্রোডাকশনস বরাবরই পরিচিত আবেগনির্ভর ও দর্শক-সংযোগমূলক গল্প বলার জন্য। এই ছবির মাধ্যমে তারা হরর-কমেডির মতো ঝুঁকিপূর্ণ ঘরানায় পা রাখলেও মূল দর্শন থেকে সরে আসেনি। টিজারেই বোঝা যায়, এখানে ভূত বা ভয় কেবল বাহ্যিক উপাদান নয়—বরং চরিত্রদের মানসিকতা ও সম্পর্কের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
পরিচালক অরিত্র মুখার্জি জানিয়েছেন, এই ছবিতে ভয় শুধু চমক দেওয়ার জন্য নয়, বরং হাসির সঙ্গে মিলেমিশে এক আলাদা অভিজ্ঞতা তৈরি করবে। গল্পের প্রতিটি চরিত্রের নিজস্ব খামখেয়ালিপনা ছবির টোনকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই ধরনের চরিত্রনির্ভর হরর-কমেডি বাংলা ছবিতে তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়। তাই ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’ শুধু একটি নতুন ছবি নয়, বরং ধারার মধ্যেও এক পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ।
ভাবনার জন্ম, সামাজিক ইঙ্গিত ও মুক্তির অপেক্ষা

কাহিনিকার জিনিয়া সেনের অভিজ্ঞতা থেকেই এই ছবির বীজ রোপিত। কালিম্পঙের এক পুরনো ঔপনিবেশিক হোটেলে কাটানো নিঃসঙ্গ রাত, নীরব করিডোর আর অজানা উপস্থিতির অনুভূতি—এই সবকিছু মিলিয়েই জন্ম নেয় ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’-এর ভাবনা। নির্মাতাদের মতে, এটি কেবল ভয় বা হাসির গল্প নয়; এর মধ্যে লুকিয়ে আছে সমাজের নানা স্তরের প্রতিফলন।

ছবিটি মুক্তি পাবে ২৩ জানুয়ারি ২০২৬। মুক্তির দিন যত এগোবে, ততই দর্শকের প্রত্যাশা বাড়বে—কারণ এই ছবি বাংলা বাণিজ্যিক সিনেমার পরিচিত ফর্মুলার বাইরে গিয়ে নতুন কিছু দেখানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।
‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’-এর টিজার প্রমাণ করে, বাংলা সিনেমা ক্রমশ নতুন ঘরানা ও গল্প বলার ভঙ্গির দিকে এগোচ্ছে। ভয়, হাসি ও মানবিক উষ্ণতার এই মিশেল যদি পর্দায় ঠিকভাবে ধরা পড়ে, তবে এটি হতে পারে উইন্ডোজ প্রোডাকশনের আরেকটি স্মরণীয় সংযোজন। ২০২৬-এর শুরুতেই দর্শকদের জন্য অপেক্ষা করছে এক রহস্যময়, মজাদার এবং ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা।






