হিন্দি চলচ্চিত্রে সামাজিক প্রশ্ন তোলার ক্ষেত্রে গত এক দশকে যেসব অভিনেত্রী নির্ভীক কণ্ঠ হয়ে উঠেছেন, তাঁদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন Taapsee Pannu। এবার তিনি ফিরছেন এক শক্তিশালী চরিত্রে—‘Assi’ ছবিতে রাভি নামে এক আইনজীবীর ভূমিকায়, যিনি যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে আইনের ময়দানে লড়াই করছেন নির্ভীকভাবে।
পরিচালনায় রয়েছেন Anubhav Sinha, যাঁর সামাজিক-রাজনৈতিক চলচ্চিত্র নির্মাণ ইতিমধ্যেই সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। ‘Assi’ মুক্তি পাচ্ছে ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬-এ, এবং প্রাক-মুক্তি আলোচনাতেই স্পষ্ট—এটি কেবল আরেকটি কোর্টরুম ড্রামা নয়, বরং সমকালীন ভারতের এক জরুরি প্রতিচ্ছবি।
তাপসীর প্রচার-অভিযানও ছবিটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে এসে “রুটেড রিয়েল স্টোরি” সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর এই অবস্থান কেবল মার্কেটিং কৌশল নয়, বরং বিষয়ভিত্তিক সিনেমার প্রতি তাঁর দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।
প্রথম ফ্রেম থেকেই রাভির আবেগ, রাগ, নৈতিক দ্বন্দ্ব এবং আইনি লড়াই—সবকিছু মিলিয়ে ‘Assi’ হয়ে উঠেছে এক তীব্র, অনুসন্ধানী থ্রিলার। কেন এই ছবি তাপসীর কেরিয়ারের আরেকটি মাইলফলক হতে পারে—সেই পাঁচটি কারণ বিশদে দেখাই যাক।
১. তিনিই নিঃসন্দেহে গল্পের কেন্দ্রবিন্দু

4
Search Text: Taapsee Pannu Assi courtroom scene, Assi motion poster
ক্যাপশন: ‘Assi’-তে রাভি চরিত্রে তাপসী পান্নু—কোর্টরুমে তীব্র মুখোমুখি লড়াইয়ের দৃশ্য।
Alt Text: Assi ছবিতে আইনজীবী রাভি হিসেবে তাপসী পান্নুর কোর্টরুম দৃশ্য
‘Assi’-তে তাপসী কেবল প্রধান চরিত্র নন, তিনি পুরো বয়ানের চালিকাশক্তি। কোর্টরুমে তীক্ষ্ণ যুক্তি, তদন্তের সূক্ষ্ম ধাপ, এবং ব্যক্তিগত নৈতিক সংকট—সবকিছুর কেন্দ্রে রয়েছেন রাভি।
মোশন পোস্টারে তাঁকে রেললাইনের উপর নিরন্তর দৌড়াতে দেখা যায়—যেন এক প্রতীকী ইঙ্গিত, এই লড়াই থামার নয়। এই ভিজ্যুয়াল ভাষাই জানিয়ে দেয়, ছবিটি এককভাবে তাঁর কাঁধেই দাঁড়িয়ে।
অনুসন্ধানী থ্রিলার ঘরানায় একজন নারী আইনজীবীকে এমন শক্তিশালী কেন্দ্রীয় অবস্থানে দেখা বিরল। এখানেই ‘Assi’ আলাদা। তাপসী চরিত্রটিকে এমনভাবে ধারণ করেছেন, যাতে দর্শক কেবল ঘটনাপ্রবাহ নয়, তাঁর অন্তর্দ্বন্দ্বও অনুভব করতে পারেন।
২. অনুবব সিনহার সঙ্গে প্রমাণিত রসায়ন

‘Assi’ হল তাপসী ও অনুবব সিনহার তৃতীয় সহযোগিতা। এর আগে Mulk এবং Thappad—দুটি ছবিতেই তাপসী তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম সেরা অভিনয় উপহার দিয়েছিলেন।
‘Mulk’-এ সাম্প্রদায়িকতার প্রশ্ন, ‘Thappad’-এ বৈবাহিক সহিংসতার প্রতিবাদ—প্রতিবারই সিনহার বাস্তবভিত্তিক পরিচালনা তাপসীকে আবেগের নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
এই জুটির শক্তি হলো, তাঁরা দর্শককে অস্বস্তিতে ফেলতে ভয় পান না। ‘Assi’-তেও সেই ধারাই বজায় আছে—যেখানে আদালত কেবল আইনের মঞ্চ নয়, সমাজের বিবেকেরও পরীক্ষা।
তাপসী নিজেই বলেছেন, সিনহার “dramatically real” শৈলী তাঁকে চরিত্রের গভীরে ঢুকতে সাহায্য করে। ফলে ‘Assi’-তে তাঁদের রসায়ন নিয়ে প্রত্যাশা স্বাভাবিকভাবেই তুঙ্গে।
৩. শক্তিশালী কনটেন্ট-চালিত সিনেমার পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান

বর্তমান বলিউডে যখন বড় বাজেট, ভিএফএক্স-নির্ভর বিনোদনই বাজার দখল করে আছে, তখন ‘Assi’ দাঁড়াচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন সুরে। এটি বাস্তব ঘটনার অনুপ্রেরণায় তৈরি, যেখানে যৌন অপরাধকে ঘিরে সমাজের নীরবতা প্রশ্নের মুখে।
তাপসী খোলাখুলিভাবে বলেছেন—এ ধরনের “অপরিবর্তিত, আপসহীন গল্প” প্রেক্ষাগৃহে দেখা জরুরি। তাঁর এই অবস্থান কেবল প্রচার নয়; বরং বিষয়ভিত্তিক হিন্দি সিনেমার পক্ষে তাঁর দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের ধারাবাহিকতা।
‘Pink’ থেকে শুরু করে ‘Thappad’—তাপসী বরাবরই এমন চরিত্র বেছে নিয়েছেন, যা দর্শককে ভাবায়। ‘Assi’ সেই ধারাকেই আরও তীক্ষ্ণ করে তুলছে।
এ ছবিতে কোর্টরুম ড্রামা, আইনি লড়াই, তদন্ত এবং সামাজিক প্রতিরোধ—সব মিলিয়ে এক ঘনীভূত বয়ান তৈরি হয়েছে, যা সমকালীন ভারতীয় সমাজের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে।
৪. রাভি চরিত্রে বিস্ফোরক অভিনয়
প্রাথমিক রিভিউ এবং ইন্ডাস্ট্রি মহলের প্রতিক্রিয়া বলছে—‘Assi’-তে তাপসীর অভিনয় “গ্রিপিং” এবং “ইমোশনালি ড্রেইনিং”। প্রথম দৃশ্য থেকেই তাঁর উপস্থিতি দর্শককে আটকে রাখে।
রাভি চরিত্রটি একদিকে দৃঢ় আইনজীবী, অন্যদিকে ব্যক্তিগত ক্ষত ও নৈতিক দ্বিধায় জর্জরিত মানুষ। এই দ্বৈত সত্তাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে যে আবেগঘন গভীরতা প্রয়োজন, তা তাপসী নিখুঁতভাবে ধরেছেন বলে মত সমালোচকদের।
কোর্টরুমে তাঁর তীক্ষ্ণ সংলাপ, ভিক্টিম-শেমিংয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, এবং দুর্নীতির মুখোমুখি দাঁড়ানোর দৃশ্য—সবই তাঁর অভিনয়শক্তির নতুন প্রমাণ।
এই পারফরম্যান্স অনেকের মতে তাঁর ‘Pink’ এবং ‘Thappad’-এর সাফল্যেরই স্বাভাবিক পরিণতি।
৫. নির্ভীক, আপসহীন গল্প বলার সাহস
‘Assi’ কেবল একটি আইনি লড়াইয়ের গল্প নয়; এটি সমাজের নীরবতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। রাভি সরাসরি প্রশ্ন তোলে—কেন ভুক্তভোগীকেই বারবার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়?
তাপসীর সংলাপ ও উপস্থিতি ছবিটিকে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক মাত্রা দেয়। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এমন গল্পকে উপেক্ষা করা মানে বাস্তব সমস্যাকে অস্বীকার করা।
এই নির্ভীক অবস্থানই ‘Assi’-কে প্রাসঙ্গিক করে তোলে। এটি কেবল বিনোদন নয়, বরং এক সামাজিক বক্তব্য—যা দর্শকের মনে আলোচনার জন্ম দেয়।
২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬-এ ‘Assi’ যখন প্রেক্ষাগৃহে আসছে, তখন এটি কেবল একটি নতুন মুক্তি নয়—বরং তাপসী পান্নুর কেরিয়ারের আরেকটি সংজ্ঞায়িত মুহূর্ত।
রাভি চরিত্রে তাঁর অটল উপস্থিতি, অনুবব সিনহার সঙ্গে প্রমাণিত রসায়ন, এবং বিষয়ভিত্তিক গল্পের প্রতি স্পষ্ট অবস্থান—সব মিলিয়ে ‘Assi’ হয়ে উঠছে এক আবশ্যিক দর্শনীয় চলচ্চিত্র।
এই ছবি দেখার আহ্বান কেবল এক তারকার জন্য নয়, বরং সেইসব গল্পের জন্য, যা সমাজকে আয়নার সামনে দাঁড় করায়। তাপসী আবারও প্রমাণ করতে চলেছেন—সাহসী সিনেমাই শেষ পর্যন্ত সময়ের পরীক্ষায় টিকে থাকে।






