বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়াচ্ছে গভীর নিম্নচাপ। তা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে তার প্রভাব পড়তে পারে পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়াতেও। কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনা ঘিরে বাড়ছে নজরদারি। সপ্তাহের শুরুতে আকাশের পরিস্থিতি কেমন থাকবে, আর কবে থেকে বৃষ্টি বাড়তে পারে—সেদিকেই নজর রাখছেন সাধারণ মানুষ।
ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের ২৬ অক্টোবরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরের আবহাওয়া ব্যবস্থাটি আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবর দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। তবে কলকাতায় ভারী বৃষ্টি হবে কি না, তা নির্ভর করবে ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ ও পরবর্তী আবহাওয়া আপডেটের উপর।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসে উপকূলবর্তী এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে। ফলে সমুদ্র উপকূলের বাসিন্দা, মৎস্যজীবী এবং যাঁদের নিয়মিত যাতায়াত করতে হয়, তাঁদের সতর্ক থাকা জরুরি।
তবে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। ঘূর্ণিঝড়ের অবস্থান, গতিপথ এবং শক্তির পরিবর্তনের উপর ভিত্তি করে সতর্কবার্তা বদলাতে পারে। তাই পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে আবহাওয়া দফতর।
বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের পরিস্থিতি: কোন দিকে এগোচ্ছে নিম্নচাপ?
বঙ্গোপসাগরের পূর্ব-মধ্য ও সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব অংশে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপটি আরও শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, আবহাওয়া ব্যবস্থাটি উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে এগোতে পারে।
এই ব্যবস্থার প্রভাব পশ্চিমবঙ্গে সরাসরি ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতের বদলে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার মাধ্যমে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত পরিস্থিতি জানতে আবহাওয়া দফতরের পরবর্তী বুলেটিন গুরুত্বপূর্ণ।
কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গে কবে থেকে বাড়বে বৃষ্টি?
কলকাতায় ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবর হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার মতো কয়েকটি জেলায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত এবং দমকা হাওয়ার পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। ফলে রাস্তায় জল জমা, যান চলাচলে ধীরগতি এবং দৈনন্দিন যাতায়াতে সাময়িক সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বিশেষত উপকূলবর্তী এলাকায় যাঁরা থাকেন, তাঁদের স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশিকা মেনে চলা উচিত। আবহাওয়ার সতর্কতা জারি হলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে নদী বা সমুদ্রের কাছে যাওয়া এড়িয়ে চলুন।
সাধারণ মানুষ কীভাবে সতর্ক থাকবেন?
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী যাতায়াতের পরিকল্পনা করুন। ভারী বৃষ্টি বা বজ্রপাতের সতর্কতা থাকলে খোলা জায়গায় থাকা এড়িয়ে চলুন। বাড়ির আশপাশের নিকাশি ব্যবস্থা পরিষ্কার রাখুন এবং জরুরি প্রয়োজনীয় জিনিস হাতের কাছে রাখুন।
মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার আগে সরকারি সতর্কবার্তা মেনে চলা জরুরি। পাশাপাশি, কলকাতা বিমানবন্দর ও রেল পরিষেবার যাত্রীদের যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট পরিষেবার সর্বশেষ আপডেট দেখে নেওয়া উচিত।
বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবর কয়েকটি জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ ও বৃষ্টির তীব্রতা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্যের জন্য ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুসরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।






