দুর্গাপুজোর কাউন্টডাউন শুরু হতেই বাংলার আকাশের দিকে নজর সাধারণ মানুষের। এ বছর মহালয়া ১০ অক্টোবর, আর তার ঠিক আগে-পরে বাংলার আবহাওয়ায় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৮ থেকে ১৪ অক্টোবরের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর বিদায়পর্ব শুরু হতে পারে।
এর ফলে পুজোর আগে দক্ষিণবঙ্গে মোটের উপর শুষ্ক আবহাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে বর্ষা বিদায় মানেই একেবারে বৃষ্টিশূন্য দিন—এমনটা নয়। উপকূলীয় বা কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্ন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সাম্প্রতিক পূর্বাভাসেও আগামী কয়েক দিনে বড় ধরনের ভারী বৃষ্টির সতর্কতা নেই। ৩ ও ৪ অক্টোবর বজ্রবিদ্যুৎ-সহ পরিস্থিতির সম্ভাবনা থাকলেও ৫ থেকে ৯ অক্টোবর দক্ষিণবঙ্গের জন্য কোনও সতর্কতা জারি করা হয়নি।
তবে দুর্গাপুজোর মূল দিনগুলির আবহাওয়া এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। আবহাওয়া দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, পুজোর সময়ের পরিস্থিতি নিয়ে এখনও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যায়নি। ফলে পুজোর সপ্তাহ যত এগোবে, ততই পূর্বাভাস আরও নির্দিষ্ট হবে।
৮ থেকে ১৪ অক্টোবরের মধ্যে বর্ষা বিদায়ের সম্ভাবনা

বর্ষা বিদায়ের ক্ষেত্রে শুধু বৃষ্টি কমে যাওয়া নয়, আরও কয়েকটি আবহাওয়াগত পরিবর্তন দেখা হয়। ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের নিয়ম অনুযায়ী, কোনও অঞ্চল থেকে বর্ষা সরে যাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হল টানা কয়েক দিন বৃষ্টির কার্যকলাপ কমে যাওয়া, বাতাসে আর্দ্রতা কমা এবং নিম্নস্তরে উচ্চচাপ বলয়ের প্রতিষ্ঠা।
সেই পরিস্থিতিই ধীরে ধীরে বাংলায় তৈরি হচ্ছে বলে আবহাওয়া দফতরের সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে ইঙ্গিত মিলেছে। ৮ থেকে ১৪ অক্টোবরের মধ্যে বর্ষা বিদায়ের প্রক্রিয়া এগোতে পারে।
এর অর্থ, মহালয়ার পর থেকে পুজোর প্রস্তুতির সময়ে বৃষ্টির দাপট কমার সম্ভাবনা রয়েছে। পুজোর বাজার, মণ্ডপ পরিদর্শন এবং শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে স্বস্তি মিলতে পারে।
পুজোর আগে কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গে কেমন থাকবে আবহাওয়া?
দক্ষিণবঙ্গে ৮ থেকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে মূলত শুষ্ক আবহাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সাম্প্রতিক বর্ধিত পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। তবে উপকূলীয় জেলাগুলিতে কোনও কোনও দিন বিচ্ছিন্ন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।
কলকাতাতেও আপাতত ভারী বৃষ্টির কোনও বড় ইঙ্গিত নেই। যদিও বাতাসে জলীয়বাষ্প বেশি থাকায় দিনের বেলায় গরম ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় থাকতে পারে। অর্থাৎ বৃষ্টি কমলেও গরম পুরোপুরি বিদায় নাও নিতে পারে।
উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের মতো জেলাগুলিতে তুলনামূলকভাবে বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি থাকতে পারে। তবে সেখানেও সপ্তাহের দ্বিতীয় ভাগে বৃষ্টির পরিমাণ কমার ইঙ্গিত রয়েছে।
দুর্গাপুজোর পাঁচ দিন কি থাকবে বৃষ্টিমুক্ত?
মহালয়া ১০ অক্টোবর হলেও মহাষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত মূল দুর্গাপুজো চলবে ১৬ থেকে ২০ অক্টোবর। ফলে বর্ষা বিদায়ের সম্ভাব্য সময়সীমা শেষ হওয়ার পরই শুরু হবে পুজোর মূল পর্ব।
এতে বৃষ্টির সম্ভাবনা কমার একটি অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হলেও এখনই পুরো পুজোর জন্য ‘শুষ্ক আবহাওয়া’ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। বঙ্গোপসাগরে নতুন কোনও নিম্নচাপ বা ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হলে পরিস্থিতি বদলাতে পারে।
তাই পুজোর পরিকল্পনার ক্ষেত্রে আপাতত স্বস্তির পূর্বাভাস থাকলেও শেষ মুহূর্তের আবহাওয়া বুলেটিনের দিকে নজর রাখা জরুরি।
বর্ষা বিদায়ের সম্ভাবনা দুর্গাপুজোর আগে বাংলার জন্য আপাতত স্বস্তির খবর। ৮ থেকে ১৪ অক্টোবরের মধ্যে বর্ষা সরে গেলে দক্ষিণবঙ্গে শুষ্ক আবহাওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে। তবে পুজোর পাঁচ দিনের নির্দিষ্ট পূর্বাভাসের জন্য আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতেই হবে।






