গুরুতর জখম ভারতীয় পাইলট, আবুধাবিতে চলছে চিকিৎসা
দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানে মাঝ-আকাশে ককপিট হামলার ঘটনায় ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর এখনও চিকিৎসাধীন। গুরুতর জখম হওয়ার পর তাঁকে সৌদি আরবের তাবুক থেকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, তিনি বর্তমানে সুস্থ হয়ে উঠছেন।
বুধবারের ওই ঘটনায় সহকারী পাইলটের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় স্মিত গুরুতর ভাবে আহত হন। বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারানোর পর শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করে। বিমানে থাকা ১৭৪ জনই নিরাপদে বেরিয়ে আসেন বলে ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
ভারতের পক্ষ থেকেও পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। UAE-তে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত দীপক মিত্তল হাসপাতালে গিয়ে স্মিত ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন। দূতাবাস জানিয়েছে, তাঁর চিকিৎসা এবং কল্যাণ নিশ্চিত করতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

মোদীর সঙ্গে স্মিতের কথা, তদন্তে একাধিক প্রশ্ন
ভিডিও কলে স্মিতের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভারতের তরফে তাঁর চিকিৎসা এবং পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। স্মিতের দ্রুত সুস্থতার বিষয়টিও এখন ভারতীয় কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে।
অন্য দিকে, UAE কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির তদন্ত চালাচ্ছে। সহকারী পাইলটের উদ্দেশ্য কী ছিল, তিনি একাই কাজ করেছিলেন কি না এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। আপাতত হামলার চূড়ান্ত কারণ নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো হয়নি।
ঘটনার পর বিমান নিরাপত্তা, ককপিট সুরক্ষা এবং ক্রু-সংক্রান্ত ঝুঁকি নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার উদ্দেশ্য বা সম্ভাব্য বৃহত্তর যোগসূত্র নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।
হামলার পর কী ভাবে বাঁচল বিমান? ককপিটের দরজা খুলেছিলেন স্মিত
হামলার পর বিমানটি প্রায় ১৪ হাজার ফুট উচ্চতা হারায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। গুরুতর আহত অবস্থাতেও স্মিত ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা করেন। দরজা খুলে যাওয়ার পর যাত্রী ও ক্রুরা ভিতরে ঢুকে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। এরপর অন্য পাইলটরা বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেটিকে তাবুকে নামান।
২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন স্মিত। হাসপাতালের শয্যা থেকে তিনি জানান, প্রচুর আঘাত পেয়েও তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে উঠে না দাঁড়ালে বিমানের যাত্রীদের প্রাণহানি হতে পারে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেই চিন্তাই তাঁকে ফের উঠে দাঁড়ানোর শক্তি দেয়।
ঘটনার পর হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্ত চলছে। সৌদি আরব প্রাথমিক তদন্তের পর অভিযুক্ত ওমানি সহকারী পাইলটকে UAE কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিয়েছে। বিমানটি ইচ্ছাকৃত ভাবে ভেঙে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল কি না এবং সম্ভাব্য সন্ত্রাসবাদী যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ফ্লাইদুবাই ককপিট হামলার তদন্ত এখনও চলছে। এর মধ্যেই ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরের চিকিৎসা ও সুস্থতার খবর সামনে এসেছে। ভারতীয় দূতাবাস স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, আর UAE-র তদন্তে হামলার উদ্দেশ্য ও সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।






