দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাই বিমানে মাঝ-আকাশে সহকারী পাইলটের হামলার ঘটনায় নতুন দাবি করলেন ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তাঁর দাবি, অভিযুক্ত সহকারী পাইলট ইসলামপন্থী উগ্রবাদী মতাদর্শে দীক্ষিত ছিলেন এবং বিমানটিকে ইচ্ছাকৃত ভাবে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করে থাকতে পারেন। তবে তদন্ত এখনও চলছে এবং এই দাবিগুলি চূড়ান্ত ভাবে প্রমাণিত হয়নি।
ফ্লাইট FZ1073 বুধবার দুবাই থেকে তেল আভিভের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। মাঝ-আকাশে ককপিটের ভিতর ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের উপর হামলা করেন তাঁর সহকারী পাইলট। এরপর বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে। কয়েক মিনিটের মধ্যে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেয়।
নেতানিয়াহুর দাবি, অভিযুক্তকে আটক করার পর তিনি বার বার চিৎকার করে বলছিলেন, “আমাকে মেরে ফেলো।” তাঁর বক্তব্য, এই আচরণ থেকে আত্মহত্যাপ্রবণ মানসিকতার ইঙ্গিত মিলেছে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য খতিয়ে দেখে ইসলামপন্থী উগ্র মতাদর্শের সঙ্গে তাঁর যোগের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে বলেও দাবি করেন ইজ়রায়েলি প্রধানমন্ত্রী।

ইরানের যোগ রয়েছে কি? তদন্তে খতিয়ে দেখছে ইজ়রায়েল
ঘটনার নেপথ্যে ইরানের কোনও ভূমিকা রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে। তবে নেতানিয়াহু নিজেই জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে ইরানের সঙ্গে হামলার কোনও যোগ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। অভিযুক্ত একা কাজ করেছিলেন, নাকি তাঁর পিছনে কোনও সংগঠন বা অন্য কোনও সহযোগী ছিল—তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ইজ়রায়েলের দুই নিরাপত্তা আধিকারিকের প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, সহকারী পাইলট একাই এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন। তবে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় এই মূল্যায়নও চূড়ান্ত নয়। একই সঙ্গে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ইজ়রায়েল—তিন পক্ষের তদন্তই আলাদা ভাবে এগোচ্ছে।
অভিযুক্তকে সৌদি আরবে আটক করা হয়েছে। অন্য দিকে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কর্তৃপক্ষ ঘটনার পরিস্থিতি, উদ্দেশ্য এবং এর সঙ্গে কোনও জঙ্গি কার্যকলাপের যোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে।
ছুরির আঘাতের পরেও ককপিট খুললেন স্মিত, প্রশংসায় মোদী-নেতানিয়াহু
হামলার সময় ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর গুরুতর ভাবে জখম হলেও পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা চালিয়ে যান। তিনি ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এরপর যাত্রী ও বিমানের অন্য কর্মীরা ভিতরে ঢুকে অভিযুক্তকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। রিজ়ার্ভ ক্রু পরে বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে নামান।
স্মিতকে প্রথমে সৌদি আরবে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে তাঁকে দুবাইয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তাঁর সাহস ও তৎপরতার প্রশংসা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
ঘটনার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ককপিটে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রের উৎস। রিপোর্ট অনুযায়ী, জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য ককপিটে রাখা ‘ক্র্যাশ অ্যাক্স’ দিয়েই হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। ফলে বিমানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং ক্রু-ভেটিং নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

ফ্লাইদুবাই FZ1073-এর ঘটনায় আপাতত একাধিক প্রশ্নের উত্তর এখনও অমীমাংসিত। অভিযুক্তের উদ্দেশ্য, সম্ভাব্য উগ্রপন্থী যোগ, ইরানের কোনও ভূমিকা এবং তিনি একাই কাজ করেছিলেন কি না—সবই তদন্তাধীন। তবে মাঝ-আকাশে ভয়াবহ পরিস্থিতির পর বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করায় বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।






