দুর্গাপুজোর আগে হাওড়া শহরের বেহাল রাস্তাঘাট নিয়ে শুরু হয়েছে জোর তৎপরতা। প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে শহরের প্রায় ১০০টি রাস্তা মেরামতির কাজ শুরু হয়েছে। সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে দিনের পাশাপাশি রাতেও শ্রমিকরা কাজ করছেন।
হাওড়া পুরসভার সাতটি বরোতেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা এই মেরামতি প্রকল্পের আওতায় এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দ ও ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে যাতায়াতে সমস্যায় পড়ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুজোর ভিড় ও বাড়তি যানচাপের আগে সেই সমস্যা কমানোই এখন মূল লক্ষ্য।
প্রশাসনের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, মহালয়ার আগেই অধিকাংশ চিহ্নিত রাস্তার কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। ফলে সময়ের চাপ সামলাতে দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে রাস্তা সংস্কারের কাজ।
পুজোর সময় হাওড়া শহরে যানবাহনের চাপ স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। সেই পরিস্থিতিতে রাস্তার গর্ত, ভাঙা অংশ এবং দীর্ঘদিনের ক্ষয়ক্ষতি দ্রুত মেরামত করা গেলে যাত্রী ও পথচারীদের দৈনন্দিন যাতায়াতে সুবিধা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
২৫ কোটি টাকায় প্রায় ১০০ রাস্তা, কোন কোন এলাকায় কাজ?

হাওড়া শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। তালিকায় রয়েছে ১ নম্বর বরোর জে এন মুখার্জি রোড ও সালকিয়া স্কুল রোড, ২ নম্বর বরোর অবনী দত্ত রোড ও ডবসন রোড এবং ৩ নম্বর বরোর পঞ্চাননতলা রোড। এছাড়াও ইছাপুর রোড, শিবপুরের রাস্তা, ক্ষেত্র ব্যানার্জি লেন ও গোয়ালবাড়ি মেন রোডের মতো রাস্তাতেও কাজ চলছে।
পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের তরফে প্রায় ১০০টি রাস্তা মেরামতির জন্য ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা জানানো হয়েছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, দুর্গাপুজোর আগে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলির চলাচলযোগ্যতা আরও উন্নত করা।
মহালয়ার আগে কাজ শেষের লক্ষ্য, রাতেও চলছে মেরামতি
দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য রাতেও রাস্তা মেরামতির কাজ চালানো হচ্ছে। কারণ মহালয়ার আগে কাজ শেষ করার লক্ষ্য সামনে রেখে হাতে সময় কম। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর মহালয়ার আগেই চিহ্নিত রাস্তাগুলির কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বর্ষার পর রাস্তার ক্ষয়ক্ষতি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠায় পুজোর আগে এই সংস্কারকাজকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য রাস্তা মেরামতির পাশাপাশি উৎসবের সময়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখাও প্রশাসনের অন্যতম চ্যালেঞ্জ।
হাওড়ার প্রায় ১০০টি রাস্তা মেরামতে ২৫ কোটি টাকার এই উদ্যোগ এখন নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করার পরীক্ষার মুখে। রাতেও শ্রমিকদের কাজ চলায় স্পষ্ট, পুজোর আগেই রাস্তার পরিস্থিতি বদলানোর লক্ষ্যে কাজের গতি বাড়ানো হয়েছে।






