জম্মু ও কাশ্মীরের বুদগাম জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে খতম হয়েছে লস্কর-ই-তইবার (LeT) শীর্ষ জঙ্গি মহম্মদ আসিফ ওরফে হাশিম মুসা, আসিফ ফৌজি ও সুলেমান। ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে অভিযানে তাঁর মৃত্যু হয় বলে নিরাপত্তা সূত্রে জানানো হয়েছে।
নিরাপত্তা সংস্থার দাবি, মুসা ২০২৩ সালে পাকিস্তান থেকে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিল। জম্মু ও কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর উপর একাধিক হামলার সঙ্গে তাঁর যোগ থাকার অভিযোগ ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজরে ছিলেন।
পহেলগাঁও হামলার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত লস্কর কমান্ডার সাজিদ জাটের সঙ্গে মুসার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলেও গোয়েন্দা তথ্য উঠে এসেছে। তবে গুরুত্বপূর্ণভাবে, মুসা পহেলগাঁও হামলা চালানো দলের সরাসরি সদস্য ছিলেন না বলে নিরাপত্তা সূত্রের বক্তব্য।
২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে হামলায় ২৬ জন নিহত হয়েছিলেন। ওই ঘটনায় লস্কর-ই-তইবা ও তার সহযোগী নেটওয়ার্কের ভূমিকা নিয়ে NIA-র তদন্তে সাজিদ জাটের নামও উঠে এসেছে।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বুদগামে অভিযান

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুসার অবস্থান সম্পর্কে নির্দিষ্ট ও কার্যকর গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর ভারতীয় সেনার ১৫ চিনার কর্পস দ্রুত অভিযান শুরু করে। বুদগামের গুরওয়েথ কালান এলাকায় তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
অন্য একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়োসমার্গের কোরাগ এলাকায় ভারতীয় সেনা, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং CRPF-এর যৌথ অভিযানেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে আসার পর নিরাপত্তা বাহিনী চ্যালেঞ্জ করলে জঙ্গিরা গুলি চালায় বলে সেনার বক্তব্য।
অভিযানের পর ঘটনাস্থল থেকে একটি AK-47 রাইফেল, দুটি AK ম্যাগাজিন, একটি LoRa/Ultra ডিভাইস হ্যান্ডসেট, একটি LoRa/Ultra মোবাইল ডিভাইস এবং একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
একাধিক হামলার সঙ্গে মুসার যোগের অভিযোগ

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের হালান, কুলগাম হামলা থেকে শুরু করে ২০২৩ সালের ডিকেজি অ্যামবুশ, ২০২৪ সালের পুঞ্চে IAF কনভয়ে হামলা এবং গুলমার্গের বোটাপাথরি হামলার সঙ্গে মুসার যোগ থাকার অভিযোগ ছিল। এসব ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যু হয়েছিল।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলি প্রায় দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে মুসার গতিবিধি নজরে রেখেছিল বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁকে জম্মু ও কাশ্মীরে সক্রিয় এক উচ্চমূল্যের বিদেশি জঙ্গি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক রিপোর্টে মুসাকে পাকিস্তান সেনার Special Services Group-এর প্রাক্তন সদস্য হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফের নিরাপত্তা দলের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
পহেলগাঁও হামলা তদন্তে কেন গুরুত্বপূর্ণ মুসার মৃত্যু?

মুসার সঙ্গে সাজিদ জাটের যোগাযোগই পহেলগাঁও হামলার প্রেক্ষাপটে তাঁর গুরুত্ব বাড়িয়েছিল। নিরাপত্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সাজিদ জাটকে পহেলগাঁও হামলার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ লস্কর হ্যান্ডলার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তবে মুসাকে পহেলগাঁও হামলার সরাসরি হামলাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। তাঁর গুরুত্ব মূলত বৃহত্তর লস্কর নেটওয়ার্ক এবং সংশ্লিষ্ট যোগাযোগের সূত্রে। ফলে তাঁর মৃত্যু তদন্তের ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে নিরাপত্তা সংস্থার হাতে থাকা অন্যান্য তথ্য ও প্রমাণের উপর।
বুদগামে হাশিম মুসার মৃত্যু জম্মু ও কাশ্মীরে চলমান সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য, দ্রুত অভিযান এবং যৌথ নিরাপত্তা তৎপরতার মাধ্যমে তাঁকে খতম করা হয়েছে বলে সরকারি ও নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে। পহেলগাঁও হামলার বৃহত্তর নেটওয়ার্কের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের অভিযোগও এই অভিযানের গুরুত্ব বাড়িয়েছে।







