কলকাতার দুর্গাপুজো মানেই শুধু আলো, মণ্ডপ আর প্রতিমা নয়। শহরের প্রতিটি পাড়ার পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আলাদা ইতিহাস, স্মৃতি এবং মানুষের আবেগ। দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরের কাঁসারী পাড়া সর্বজনীন দুর্গোৎসবও তেমনই এক দীর্ঘ ঐতিহ্যের নাম। ২০২৬ সালে এই পুজো পা দিল ৯৯তম বর্ষে।
কাঁসারী পাড়া ভবানীপুরের পুরনো পাড়া-সংস্কৃতির অন্যতম পরিচিত অংশ। সরকারি নথিতেও ‘Kansari Para Sarbojanin Durgotsav’-এর উল্লেখ রয়েছে; ২০১৬ সালের কলকাতা পুরসভার তালিকায় ৩৮এ, কাঁসারী পাড়া রোডের এই পুজোর নাম নথিভুক্ত ছিল।
৯৯ বছরের এই পথচলা তাই শুধুমাত্র একটি দুর্গোৎসবের বয়স নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু প্রজন্মের পুজোর স্মৃতি, পাড়ার মানুষের মিলন এবং সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া কলকাতার সামাজিক ছবি।
শতবর্ষের ঠিক এক বছর আগে দাঁড়িয়ে এবারের দুর্গোৎসবের গুরুত্বও আলাদা। পুরনো ঐতিহ্যকে ধরে রেখে নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ—এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই তৈরি হচ্ছে কাঁসারী পাড়ার পুজোর আবহ।

৯৯ বছরের পথচলায় কাঁসারী পাড়ার পুজো
দীর্ঘদিনের কোনও পাড়ার পুজোর সবচেয়ে বড় সম্পদ তার ইতিহাস। কাঁসারী পাড়ার ক্ষেত্রেও সেই ইতিহাস তৈরি হয়েছে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণে। সময়ের সঙ্গে পুজোর আয়োজন ব

দলালেও সর্বজনীন উৎসবের মূল ভাবনা—সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দুর্গোৎসব—আজও গুরুত্বপূর্ণ।
ভবানীপুরের বিস্তৃত পুজো-পরিসরের মধ্যেই কাঁসারী পাড়া একটি স্বতন্ত্র পরিচয় বহন করে। সরকারি নথিতে পুজোটির উপস্থিতি যেমন পাওয়া যায়, তেমনই পুরনো পুজোর তালিকাতেও ‘Kansari Para’ নামে এই পুজোর উল্লেখ রয়েছে।
পাড়ার মানুষ, স্মৃতি আর উৎসবের আবেগ
সর্বজনীন পুজোর প্রাণ তার পাড়ার মানুষ। কাঁসারী পাড়াতেও পুজোর দিনগুলিতে একসঙ্গে দেখা যায় বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষকে। প্রবীণদের কাছে এই উৎসব পুরনো দিনের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে, আর তরুণ প্রজন্মের কাছে এটি নতুন করে উৎসবকে আবিষ্কার করার সময়।
অঞ্জলি, আরতি, পুজোর আচার থেকে শুরু করে আড্ডা—সবকিছুর মধ্যেই তৈরি হয় এক সামাজিক বন্ধন। এই কারণেই ৯৯ বছরের পুজো কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; এটি স্থানীয় সংস্কৃতি ও পাড়ার পরিচয়েরও অংশ।
ভবানীপুরের পুজো-সংস্কৃতির বৈচিত্র্যও এই ধারাকে আরও সমৃদ্ধ করে। এলাকার বিভিন্ন দীর্ঘদিনের পুজোর পাশাপাশি কাঁসারী পাড়ার আয়োজন শহরের পুরনো পাড়া-কেন্দ্রিক দুর্গোৎসবের ধারাটিকে সামনে আনে।
শতবর্ষের অপেক্ষা, নতুন অধ্যায়ের সূচনা
একটি পুজো যখন ৯৯ বছরে পৌঁছয়, তখন তার পরবর্তী বছরটি স্বাভাবিকভাবেই হয়ে ওঠে বিশেষ প্রত্যাশার। কাঁসারী পাড়ার ক্ষেত্রেও ২০২৬ সালের ৯৯তম বর্ষ যেন শতবর্ষ উদযাপনের আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
শতবর্ষ শুধু একটি সংখ্যার পূর্ণতা নয়। তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পুরনো নথি, ছবি, প্রতিমার স্মৃতি, পুজোর রীতি এবং প্রজন্মের অভিজ্ঞতা সংরক্ষণের প্রশ্ন। সেই দিক থেকে ৯৯তম বর্ষের উৎসব অতীত ও ভবিষ্যতের মধ্যে একটি সেতুর মতো।
কলকাতার দুর্গাপুজো আজ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে। কিন্তু শহরের পুজো-সংস্কৃতির আসল বৈচিত্র্য তৈরি হয় এমন অসংখ্য স্থানীয় পুজোর মাধ্যমে, যেখানে উৎসবের সঙ্গে মিশে থাকে পাড়া, মানুষ এবং স্মৃতি।
ভবানীপুর কাঁসারী পাড়া সর্বজনীন দুর্গোৎসবের ৯৯তম বর্ষ তাই একদিকে দীর্ঘ ঐতিহ্যের উদযাপন, অন্যদিকে শতবর্ষের প্রস্তুতির সূচনা। সময় বদলালেও পাড়ার মানুষের অংশগ্রহণ, পুরনো স্মৃতি এবং দুর্গাপুজোকে ঘিরে সম্মিলিত আবেগই এই উৎসবের সবচেয়ে বড় পরিচয়। শতবর্ষের দিকে এগিয়ে চলা এই পুজো ভবানীপুরের ঐতিহ্যবাহী পুজো-সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।







